২:৫৩ এএম, ১০ আগস্ট ২০২২, বুধবার | | ১২ মুহররম ১৪৪৪




নবীগঞ্জের আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারে যুক্তরাজ্য প্রবাসীর জায়গা জোরপূর্বক দখল

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


মিজানুর রহমান সুহেল, নবীগঞ্জ : নবীগঞ্জের আউশকান্দি- হীরাগঞ্জ বাজারে ভূমি খেকো সন্ত্রাস বাহিনীর কবল থেকে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে দখলকৃত ভীটে উদ্ধারে বাজার প্রতিষ্ঠাকারীর উত্তরাধীকারীগণ হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে দূর্বৃত্ত ও নবীগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার সরেজমিন তদন্ত করেন, হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের উত্তর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ রাসেলুর রহমান।  এই আলোচিত ঘটনায় আউশকান্দি তথা উপজেলার সর্বত্র তুলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

অভিযোগটি দায়ের করেন উপজেলার আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত সোনা মিয়া চৌধুরীর নাতি যুক্তরাজ্য প্রবাসী শামীম আহমদ চৌধুরী।  তিনি গত ২১ নভেম্বর ২০১৬ইং তারিখে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ দায়ের করে তিনি উল্লেখ্য করেন ও সাংবাদিকদের জানান, মিঠাপুর মৌজাধীন আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজারস্থ তাদের মালিকানাধীন ভীটে রকম প্রায় ৬শতক ভূমি দলিল জাল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রভাব কাটিয়ে একই এলাকার প্রভাবশালী সিরাজ মিয়া, শেখ আব্দুল করিম তুতা, সাহিদ মিয়া সহ একদল লোক জোর পূর্বক নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খাঁনের সহায়তায় বিজ্ঞ আদালতের ১৪৪ দ্বারা নির্দেশ অমান্য করে পেশি শক্তির প্রভাব বিস্তার করে ভীটে রকম ভূমি দখল করে ঘর নির্মান করে ব্যবসা বানিজ্য করে আসছে। 

এছাড়াও গুরুতর আরো অনেক অভিযোগ তুলে ধরেন শামীম চৌধুরী।  বিশেষ করে নবীগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল বাতেন খাঁন বাদীর মাতা রাজিয়া খানমকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ৫০হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।  এবং অভিযোগকারীর পিতা মৃত শফিকুল হক চৌধুরীর নামীয় আনরেজিষ্ট্রারীকৃত মূল দলিল ও বাংলাদেশী পাসপোর্ট থানায় ডেকে নিয়ে তা হাতিয়ে নেন থানার ওসি, যাহা অদ্যবদি ফেরত দেন নাই।  এবং সিরাজ মিয়া ও আবুল কালামের জাল সৃষ্টিকৃত দলিলও ওসির নিকট জমা রয়েছে।  এই পাসপোট ও শামীম চৌধুুরীর পিতার দলিল হাতিয়ে নিয়ে ওসি আব্দুল বাতেন খাঁন আবারো ভয় ভীতি ও অন্যান্য মামলায় ডুকানোর হুমকি দেখিয়ে আবারো ৫০হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।  টাকা না দিলে শামীম চৌধুরীকে যুক্তরাজ্য যেতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুমকি দিয়েছিলেন মর্মে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 

এদিকে সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় হবিগঞ্জ উত্তর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, সুষ্ট তদন্তের স্বার্থে বেশী বক্তব্য দেওয়া যাবেনা।  তবে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে।  তদন্তে অভিযোগ প্রমানিত হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। 

অপরদিকে, অভিযোগের প্রধান স্বাক্ষি আউশকান্দি হীরাগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির বারবার নির্বাচিত সাধারন সম্পাদক জাহান চৌধুরী বলেন, প্রবাসী চাচাতো ভাইয়ের সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রতিপক্ষ আমাদের পরিবার ও গ্রামের নিরপরাধ লোকজনের উপর নবীগঞ্জ থানার ওসির আব্দুল বাতেন খাঁনের যোগসাজসে হয়রানী মূলক একাধিক মামলা আদালতে করিয়েছেন।  আমার নিরাপত্তার জন্য নবীগঞ্জ থানায় সাধারন ডায়েরী করতে গেলে আমার জিডি এন্ট্রি তিনি নেন নি।  উল্টো আমাকে একাধীক মামলার হুমকি দেন।  সাধারন নাগরিক হিসাবে আমার অধিকার থাকলেও তিনি বারবার টাকার জন্য আমাদের হুমকি দেন, এবং ভূমি খেকো দূর্বৃত্তদের কবলে থাকা আমাদের সম্পদের ব্যাপারে নাক না গলানোর জন্য ও স্বাক্ষি না দেওয়ার জন্য তিনি আমার সাথে খারাপ আচরন করেন ওসি আব্দুল বাতেন খাঁন। 

উল্লেখ্য, এই ভূমি উদ্ধারের জন্য হবিগঞ্জ আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।  এমন কি বিজ্ঞ আদালত এর ১৪৪দ্বারা নির্দেশ মোতাবেক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নবীগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিলেও উল্টো আসামী পক্ষের লোকজনের আতাত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা অমান্য করে জায়গা দখল করতে ভূমি খেকোদের সহায়তা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 


পিডি//


keya