৪:৪৯ এএম, ১২ জুলাই ২০২০, রোববার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪১




কাপ্তাইয়ের কাদেরী স্কুলের দেড়শ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি বঞ্চিত

৩০ নভেম্বর -০০০১, ১২:০০ এএম | মোহাম্মদ হেলাল


এম.কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি : নাম অন্তর্ভূক্তি না করায় কাপ্তাই উপজেলা সদরে অবস্থিত বরইছড়ি কর্ণফুলি নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী উপবৃত্তি হতে বঞ্চিত হয়েছে।  এজন্য প্রধান শিক্ষক দায়ী বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বঞ্চিত হওয়া শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা এ অভিযোগ তুলেছেন।  এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করে কাপ্তাই উপজেলা শিক্ষা অফিস।  এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে প্রধান শিক্ষকককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।  এমনকি বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জয়সীম বড়ুয়া নিজেই এটা তার ভুল হয়েছে বলেও বিষয়টি স্বীকার করেছেন। 

অভিযোগ মতে, ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও নানা অভিযোগ রয়েছে।  এর আগে একই উপজেলার চিৎমরম উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আত্মসাতকৃত টাকা পরিচালনা কমিটির সালিশি রেজুলেশনের মাধ্যমে পরিশোধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।   

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেণ, সরকারের শিক্ষা সহায়তার কর্মসূচির আওতায় নুরুল হুদা কাদেরী  উচ্চবিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র মেধাবি শিক্ষার্থীরা উপবৃত্তি পেত।  কিন্তু এর মধ্যেই হঠাৎ শিক্ষার্থীদের নাম অন্তর্ভূক্তি বন্ধ করে দেন প্রধান শিক্ষক জয়সীম বড়ুয়া।  তিনি ব্যক্তিস্বার্থ জড়িত না থাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে ষড়যন্ত্র করে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা উত্তোলণ বন্ধ করে দিয়েছেন।  এতে সরকারের দেয়া সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। 

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা দিতে সরকার ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সেকায়েপ প্রকল্পে দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের তালিকাভূক্ত করে উপবৃত্তির সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে।  নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এ সুযোগটি পেয়ে আসছে।  কিন্তু হঠাৎ নাম অন্তর্ভূক্তি বন্ধ করে দেয়ায় এবার বিদ্যালয়টির প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয়েছে উপবৃত্তির সুবিধা থেকে। 

এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান বলেন, সরকার প্রতিটি স্কুলে প্রতি শ্রেণীতে ৪০ ভাগ শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তির সুবিধা দিয়ে আসছে।  এর আগে কাদেরী স্কুলের ১১৬ উপকারভোগী শিক্ষার্থী ছিল।  কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে অনলাইনে উপবৃত্তির টাকা পরিশোধের প্রক্রিয়া চালু করায় রহস্যজনক ভাবে কাদেরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়সীম বড়ুয়া এর বিরোধিতা করেন।  ফলে এবার বিদ্যালয়টির প্রায় দেড়শ’ ছাত্র-ছাত্রীর নাম অন্তর্ভূক্ত না হওয়ায় এক বছর ৬ মাসের উপবৃত্তির টাকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা। 

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস প্রতিটি স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির জন্য নিজ নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের নাম অর্ন্তভূক্ত করতে আট মাস আগে থেকে একাধিকবার সরকারিভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে।  কিন্তু কাদেরী স্কুলের প্রধান শিক্ষক দায়িত্বে অবহেলা করে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি নির্দেশনার উপেক্ষা করেছেন। 

উপজেলা শিক্ষা অফিসার আরও বলেন, সরকার শিক্ষা সহায়তায় সেকেন্ডারি অ্যাডুকেশন স্টাইপেন্ড প্রজেক্ট (এসইএসপি) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর অপেক্ষাকৃত দরিদ্র-প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে উপবৃত্তি প্রদান করে আসছে।  কিন্তু অতীতে এর সুফল কাদেরী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পেলেও এবার বঞ্চিত হতে হল তাদের।  এর দায়ভার ও জবাবদীহিতার জন্য  প্রধান শিক্ষককে ২০১৬ সালের ১ আগষ্ট কারণ দর্শনোর নোটিশ পাঠানো হয়।  এতে পরে ভুল স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক। 

এ ব্যাপারে বরইছড়ি কর্ণফুলী নুরুল হুদা কাদেরী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়সীম বড়ুয়া বলেন, আমি ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদনের মাধ্যমে আমার ভুল হওয়ার কারণে ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তি না পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে অবহিত করি এবং আগামীতে আর কোনো অবহেলা হবে না মর্মে অবহিত করি। 


পিডি//


keya