৫:৪২ এএম, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার | | ১৯ সফর ১৪৪১




চবি ইতিহাস বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ উদ্যাপন

২৪ মার্চ ২০১৯, ০৩:৪৩ পিএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ উদযাপন উপলক্ষে দুইদিন ব্যাপি (২৩-২৪ মার্চ) অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।  ২৪ মার্চ অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় দিনে চবি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ গ্যালারিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী এম.পি।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ভাষণ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী।  এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চবি উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।  

সাংসদ তাঁর উদ্বোধনী ভাষণে উপস্থিত সকলকে স্বাগত ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।  তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে বিভাগের সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবে উপস্থিত থাকতে পেরে নিজেকে অত্যন্ত আনন্দিত ও গৌরবান্বিত মনে করেন।  তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু তনয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুযোগ্য ও গতিশীল নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি যেভাবে এগিয়ে চলেছে তারই সাথে তাল মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তা ইতোমধ্যে সুধীমহলের কাছে অত্যন্ত প্রশংসা অর্জন করেছে। 

সাংসদ বলেন, প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যে ভরপুর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান-গবেষণায় বিশ্বনন্দিত।  তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান সৃজন এবং জ্ঞান উৎপাদন করে দেশে দক্ষ, যোগ্য ও আলোকিত মানব সম্পদ উৎপাদন করে চলেছেন।  তিনি বলেন, এ কৃতি শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ দেশ-জাতির অমূল্য সম্পদ।  তাঁদের সুযোগ্য উত্তরসুরীরা আজ দেশে-বিদেশে সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বমহিমায় সুপ্রতিষ্ঠিত। 

প্রসঙ্গক্রমে মাননীয় সাংসদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।  তিনি দেশের এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। 

উপাচার্য তাঁর ভাষণে ইতিহাস বিভাগের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে উপস্থিত সকলকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্বাগত ও আন্তরিক অভিনন্দন জানান।  শত ব্যস্ততার মাঝে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মাননীয় সাংসদ জনাব এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী উপস্থিত হয়ে অনুষ্ঠানকে সমৃদ্ধ করায় মাননীয় উপাচার্য সাংসদকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।  তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পূর্বা লের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৬৬ সালে যে কয়টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তন্মধ্যে ইতিহাস বিভাগ অন্যতম। 

এ বিভাগের প্রতিথযশা শিক্ষক-গবেষকবৃন্দ অধ্যাপনা করে তাঁদের মেধা, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে একদিকে আলোকিত মানবসম্পদ উৎপাদন করেছেন অন্যদিকে বিশ^বিদ্যালয়কে আসীন করেছেন উচুঁমার্গে।  প্রসঙ্গক্রমে উপাচার্য বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তনয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশে শিক্ষার সাথে ক্রীড়া ও সংস্কৃতিকে সমন্বয় করে আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক গুণগত শিক্ষার যে অভাবনীয় যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন তা আজ বিশ্ব মহলে প্রশংসিত। 

উপাচার্য আরও বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক-প্রশাসনিক ও ভৌত অবকাঠামোগত অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।  এই গৌরবগাথার অংশীদার আমাদের প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকলেই।  উপাচার্য ইতিহাস বিভাগের ৫০ বছর পূর্তি সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।      

চবি ইতিহাস বিভাগের সভাপতি প্রফেসর বকুল চন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে এবং উক্ত বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আবদুল্লাহ আল মাসুম ও সহকারী অধ্যাপক ড. সালমা বিনতে শফিকের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির আহবায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী চৌধুরী এবং ধন্যবাদ সূচক বক্তব্য রাখেন অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব উক্ত বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাহবুবুল হক। 

অনুষ্ঠানমালায় ছিল-বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা অনুষ্ঠান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দের জীবনালেখ্য নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন, এলামনাই এসোসিয়েশন গঠন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফল ড্র।  অনুষ্ঠানে উক্ত বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবারবর্গের সদস্যবৃন্দ, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, বিভাগের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।