৩:৪৭ পিএম, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১




বৈশাখে ইলিশে আগুন, মাছ মাংস সবজিতেও দাম বেড়েছে

১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:৪২ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : রাত পোহালেই পহেলা বৈশাখ।  আর এই বৈশাখের প্রধানতম অনুষঙ্গ পান্তা-ইলিশ।  সেই সুযোগটাকে মৎস ব্যবসায়ী ফরিয়া দালালরা যথেচ্ছভাবেই কাজে লাগাচ্ছে।  ইলিশের বাজারে এক কথায় আগুন লেগেছে।  হুরহুর করে কয়ে কয়েকগুণ বেড়ে গেছে ইলিশের দাম।  

গতকাল শুক্রবার থাকায় অনেক কর্মজীবীই বাজারে যান পছন্দের ইলিশ মাছটি কিনে নিতে।  কিন্তু বাজারে গিয়ে তাদের অনেকের চোখই কপালে ঠেকে।  যে ইলিশ এক সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছে এক হাজার টাকায় সেগুলোর দাম এখন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।  দাম শোনার পর অনেকেই ইলিশ না কিনেই ঘরে ফিরেছেন।  

শুক্রবার রাজধানীর একাধিক ইলিশের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এদিন ৮০০-৯০০ গ্রাম ওজনের প্রতি পিস ইলিশ বিক্রি হয়েছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকায়, যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় এক হাজার থেকে বারোশ টাকায়।  আর এক কেজির বেশি এমন সাইজের ইলিশ প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায়।  

শুধু যে ইলিশ তাই নয়, নববর্ষ ঘিরে বাড়তি দাম হাঁকানো হচ্ছে মাছ, গরুর মাংস, মুরগি ও সবজির বাজারেও।  তবে তুলনামূলক স্থিতিশীল আছে চাল, ডাল, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামে।  শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, নয়াবাজার, ফকিরাপুল, শান্তিনগর বাজার ঘুরে এসব তথ্য উঠে এসেছে।  

বৈশাখ ঘিরে রুপালি ইলিশের দাম বাড়া নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।  ইলিশের মৌসুম না হওয়ায় সব ধরনের ইলিশের দাম বেড়েছে বলে দাবি বিক্রেতাদের।  আর ক্রেতারা বলছেন, বাজারে প্রচুর ইলিশের আমদানি থাকলেও নববর্ষের আগে অতিমুনাফালোভীরা ইচ্ছে করেই বাড়তি দাম হাঁকাচ্ছেন।  

এদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের বার্মিজ ইলিশও বিক্রি করতে দেখা গেছে।  কেজিতে এই ইলিশের দাম সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা হেঁকেছেন বিক্রেতারা।  সে হিসেবে প্রতিটি ইলিশ ১০ থেকে ১১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।  তাছাড়া বাজারে বড় ইলিশের পাশাপাশি জাটকা ইলিশও বিক্রি করতে দেখা গেছে। 

বাজারের এক ইলিশ বিক্রেতার দাবি, বৈশাখ উপলক্ষে বাজারে ইলিশ বেচাকেনা হচ্ছে।  গত সপ্তাহের চেয়ে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে।  হিমাগারের ইলিশের সঙ্গে বার্মিজ ইলিশ বাজারে এসেছে।  অনেক জেলে নদীতে জাল ফেলেছে।  তাই ছোট আকারের ইলিশও বাজারে আসতে শুরু করেছে।  তবে দাম কমছে না।  

পাইকারি মাছ বিক্রেতা বলছেন, ইলিশের ভরা মৌসুম না হওয়ায় দাম কিছুটা বেশি।  বৈশাখে চাহিদা বাড়ায়ও দাম বাড়ে।  আগামী সপ্তাহে ইলিশের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে।  কারণ পাইকাররা বেশি দামে মাছ ছাড়ছেন।  ফলে বাজারেও দাম বেশি।  

তবে ক্রেতারা বলছেন, বৈশাখ সামনে রেখে সচেতনভাবেই আগে থেকে ইলিশের দাম বাড়িয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা।  বৈশাকের দুদিন আগে থেকে থেকে দাম দ্বিগুণ-তিনগুণ বেড়ে গেছে।  যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার নাগালের বাইরে।  এমতাবস্থায় অনেককে ইলিশ না কিনেই বাসায় ফিরতে দেখা গেছে।  

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলিশ ছাড়াও পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া মাছও বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।  প্রতি কেজি তেলাপিয়া ১৪০-১৬০ টাকা, পাঙ্গাশ ১৬০-১৮০ টাকা, রুই আকারভেদে ৩৫০-৬০০ টাকা, পাবদা ৬০০-৭০০ টাকা, টেংরা ৭০০-৭৫০ টাকা, শিং ৪০০-৫৫০ টাকা কেজি, বোয়াল ৫০০-৮০০ টাকা ও চিতল মাছ ৫০০-৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।  

বৈশাখ ঘিরে দাম বেড়েছে সবজির বাজারেও।  গতকাল নিত্যপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা যায়, বরবটি ৭০-৮০ টাকা, পটল ৬০-৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৭০-৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০-৮০ টাকা, করলা মান ভেদে ৬০-৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।  প্রতি পিস লাউ ৭০-৮০ টাকা, প্রতি পিস ফুলকপি ৫৫-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

এছাড়া খুচরা বাজারে ধুন্দুল বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা, বেগুন ৪০-৬০ টাকা, মুলা ৪০-৫০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।  পাকা টমেটো ৩০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ২৫-৩০ টাকা, ভারতীয় পেঁয়াজ ২০-২৫ টাকা কেজি দরে।