৭:৪৩ পিএম, ১৬ জুন ২০১৯, রোববার | | ১২ শাওয়াল ১৪৪০




জাবিতে শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আন্দোলনমুখর নববর্ষ

১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৮:০০ পিএম | জাহিদ


শিহাব উদ্দিন, জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা কেন্দ্র সংস্কারের দাবিতে  অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী।  একই সাথে মানববন্ধন সহ চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে প্রতিকী অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট কয়েক দফা দাবি উত্থাপন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।  

রবিবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে খান মোহাম্মদ রিফাত বিল্লাহ (ইতিহাস, ৪৪ ব্যাচ) ও ইয়াসির আরাফাত বর্ণ (নৃবিজ্ঞান, ৪৪ ব্যাচ) অবস্থান নেয়।  পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাদের সাথে যোগ দেন আদীফ মুমিন আরিফ (প্রাণীবিদ্যা, ৪৩ব্যাচ), ফারহান রহমান (আই বি এ, ৪৫ ব্যাচ) এবং জিসান (ইতিহাস, ৪৬ ব্যাচ)। 

এরপর সকাল সাড়ে ১১ টায় অন্যান্য সাধারন শিক্ষার্থী ও কয়েকটি ছাত্র সংগঠন শহীদ মিনারের পাদদেশে একটি মানববন্ধন করেন।  মানববন্ধন শেষে শিক্ষার্থীরা মৌন মিছিল নিয়ে বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের সামনে প্রতিকী অবস্থান নেন। 

সেখানে তারা চিকিৎসা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ শামছুর রহমানের নিকট চিকিৎসার অব্যবস্থাপনার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০০০ সালে চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল ৮ জন।  এখন ৭ জন।  দীর্ঘদিন যাবৎ অ্যাডভাইজার কমিটির মিটিং দেয়ার কথা থাকলেও তা দেয়া হচ্ছে না।  ফলে নতুন নিয়োগ, অ্যাম্বুলেন্স ও ঔষধের কোন সুরাহা হচ্ছে না। ’

এসময় শিক্ষার্থীরা কয়েক দফা দাবি উত্থাপন করেন।  দাবিগুলো হলো :

১. পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রদান করতে হবে। 

২. তদন্ত সাপেক্ষে নুরুজ্জামান এর পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। 

৩. দশ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নেবুলাইজার, ইসিজি মেশিন, জেনারেটর ক্রয় করতে হবে। 

৪. এক মাসের মধ্যে ৫টি আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন (লাইফ সাপোর্ট) এম্বুলেন্স মেডিকেলে যুক্ত করতে হবে । 

৫. সপ্তাহে ৭ দিন সর্বক্ষণ অন্তত ৪ জন ডাক্তার থাকতে হবে। 

৬. ঔষধ ক্রয়ের বরাদ্দ বাড়াতে হবে। 

৭. ঔষদের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। 

৮. মেডিকেলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। 

৯. পূর্ণাঙ্গ প্যাথলজি বিভাগ চালু করতে হবে। 

১০. এপ্রিলের মধ্যে ফিজিও থেরাপি নিয়োগ দিতে হবে। 

১১. সকল শিক্ষার্থীকে মেডিকেল কার্ড প্রদান করতে হবে। 

১২. অভিযোগের জন্য সার্বক্ষনিক হটলাইন চালু করতে হবে। 

১৩. পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগ দিতে হবে। 

অবশেষে বিকেল ৪ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. আমির হোসেন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) ড. মোঃ নূরুল আলম, প্রক্টর ফিরোজ-উল-হাসান, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ, প্রোভোষ্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত হয়ে দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।  এসময় প্রসাশন‌ের পক্ষ থেক‌ে সার্বক্ষন‌িক ৪ জন ডাক্তার, ৭ দিন‌ের মধ্য‌ে ইসিজি ম‌েশিন সরবরাহ এবং ২ মাস‌ের মধ্য‌ে অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহের আশ্বাস দেন। 

প্রসঙ্গত, শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় নুরুজ্জামান নিভৃত (ইংরেজি, ৪৫ ব্যাচ) নামে এক শিক্ষার্থী শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন।  সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থা গুরুতর দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন।  পরবর্তীতে রাত সাড়ে ৯ টায় তাকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে এনাম মেডিকেলে নেওয়ার সময় পথিমধ্যে তিনি মৃত্যুবরন করেন।