৬:৫৬ পিএম, ২২ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার | | ১৬ শা'বান ১৪৪০




গুরুদাসপুরের প্রাথমিক শিক্ষকরা বৈশাখ বরণে জেলার সেরা

১৫ এপ্রিল ২০১৯, ০৬:০৮ পিএম | জাহিদ


মো.আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর : কুষ্টিয়া-রাজশাহীর শিল্পী ছাড়া নাটোরের গুরুদাসপুরে যখন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়না, ঠিক তখনই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষকরা রবিবার দিনভর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রমাণ করলো তারাও পারেন। 

শিক্ষাদানের পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকারা তৈরী করেছেন সংস্কৃতি বলয়।  উপজেলার হামলাইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গত তিন বছর ধরে নানা বর্ণিল আয়োজনে নতুন বর্ষ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেন মানুষ গড়ার এ কারিগররা। 

কারো কোনো পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই প্রতিবছর তারা পহেলা বৈশাখে জাকজমকভাবে অনুষ্ঠান করে থাকেন।  আয়োজনে থাকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা, পিয়াজ-মরিচ দিয়ে সকালে পান্তা ভাত পরিবেশন, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘এসো হে বৈশাখ’।  দুপুুরে মধ্যাহ্নভোজনে সবাই মাতে নিজেদের রান্না করা বাঙালি খাবার পরিবেশনে।  আর সবার পোশাক পরিচ্ছদে থাকে নববর্ষের শৈল্পিক নিদর্শন। 

তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম রফিকুল ইসলাম।  তাঁর সাথে ইন্সট্রাক্টর আব্দুল গফুর, সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু, পরিমল কুমার ঘোষ, শাহীনুর রহমান, মাসুদ রানা, গোলাম রাব্বানিও যেন সংস্কৃতির ধারক বাহক।  তাঁদের শিক্ষা পরিবারের আয়োজন আরো প্রাণবন্ত হয়। 


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিক্ষক আনজাম হোসেন, সুচিত্রা দাম, মাধুরী রাণী, কাউছার আহমেদ, আঙ্গুরী খাতুন, মাহমুদা পারভীন, গোলাম মোস্তফা ভুলু প্রমূখ কবিতা আবৃতি, নৃত্য ও গান গেয়ে উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেন।  এসময় নাটোর জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহমেদ, গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ও তাঁর সহধর্মিনী মিসেস জেইন ইফ্ফাত লগ্ন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, দুই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলাল শেখ ও রোকসানা আকতার সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 

আয়োজক কমিটির ওবায়দুল হক তালুকদার, শহীদুল ইসলাম, সরোয়ার্দী হোসেন, নজরুল ইসলাম, আতিকুর রহমান উকিল ও ইব্রাহীম হোসেন বলেন, হারিয়ে যেতে বসা সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে তিন বছর ধরে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।  তাদের দাবী, জেলার কোথাও এতবড় আয়োজন হয় না।  এবারও আমরাই সেরা।  আগামী বছর আরো বড় পরিসরে বৈশাখ বরণ অনুষ্ঠান উপহার দেয়ার ঘোষনাও দেন তারা। 


keya