২:৫৪ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার | | ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




ইবিতে জরুরী অবস্থা ভেঙ্গে চলছে আন্দোলন, আটক-২২

২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০২:১৫ পিএম | জাহিদ


ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন থেকে ২২ জনকে গ্রেফতার করেছে প্রশাসন।  

বুধবার (২৪ এপ্রিল)  ভোর রাত ৪ টার দিকে তাদেরকে র‌্যাব ও বিজিবির সহায়তায় গ্রেফতার করে পুুলশ।  ইবি থানা ও কুষ্টিয়া পুলিশ।  আটককৃতদের কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে বলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানা সূত্রে জানা গেছে।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ক্যাম্পাসে বুধবার থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য জুরুরী অবস্থা জারী করেছে প্রশাসন। 

আটককৃতদের মুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবি সহ তিন দফা দাবিতে বুধবার সকাল থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছে আন্দোলনকারীরা।  এই দিকে ফি কমানোর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।  শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাড়ি ছাড়া কোনো গাড়ি ছেড়ে আসেনি ক্যাম্পাসে।  

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়,  ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১ টা থেকে  ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভূক্ত পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন চলছিল।  অনশনে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার পরও প্রশাসন এবং অনুষদের ডিন শিক্ষার্থীদের সাথে দেখা না করায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে দুপুর ২টার দিকে অনুষদের ডিন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয়। 


এর ফলে অফিসের ভেতরে আটকা পড়েন ডিন অফিসের সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মমিন ও পিওন বাদল।  এরপর রাত ৯টায় অবরুদ্ধ দুই কর্মচারীদেরকে উদ্ধার করতে আসেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মমতাজুল ইসলাম ও ছাত্র-উপদেষ্টা ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ।  তারা ভবনের ভিতরে ঢুকলে তাদেরকেও অবরুদ্ধ করে আন্দোলনকারীরা।  

পরে ডিন ও ছাত্র উপদেষ্ঠাকে উদ্ধার করতে রাত ১ টার দিকে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান ও প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আনিছুর রহমান ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আহসান-উল হক আম্বিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।  এরপর রাত ৪টা পর্যন্ত দফায় দফায় আন্দোলককারীদের সাথে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হন তারা। 

এর আগে রাত সাড়ে ১১ টা থেকেই ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।  পরে সাড়ে রাত ৪টার দিকে কুষ্টিয়া অতিরিক্ত অতিরিক্ত ডিএসবি মোস্তাক, ডিএসবি মোস্তাফিজুর রহমান, মিরপুর জোনের এএসপি ফারজানা ইসলাম এবং ইবি থানার ওসি রতন শেখের নেতৃত্বে ক্লবসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনির সদস্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।  

ভিতরে ঢুকে ডিন, ছাত্র উপদেষ্ঠা ও দুই কর্মচারীকে উদ্ধার করা হয়।  এসময় শিক্ষার্থীরা করিডোরে অবস্থান নিয়ে ব্যারিকেট দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করে এবং শ্লোগান দিতে থাকে।  এসময় পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ বাহিনী অভিযানে বাছাই করে আরিফুল ইসলাম, তারিক, রাজ, মাহাদী, রিয়াদ, অভি, দেলাওয়ার, হাফিজ, সাব্বিরসহ ২২ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়।  অন্যদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয়।  


এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন করছে পাঁচ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঠেকাতে ক্যাম্পাসে জরুরী অবস্থা জারি করা হয়েছে।  ক্যাম্পাসে সকল প্রকার সভা সমাবেশে নিধেধাজ্ঞা জারি করে মাইকিং করা হচ্ছে।  যেকোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।  

এদিকে ফি কমানোর দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।  অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় সভাপতিদের সাথে উপাচার্যের মিটিংয়ের পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে এই আশ্বাসে বুধবার ১২ টা পর্যন্ত আন্দেবলন স্থগিত করেছিল তারা।  বেলা ১২ টার দিকে আন্দোলনকারীরা প্রথমে বিশ^বিদ্যালয়ের মুক্তবাংলার পাশে অবস্থান নেয়।  পরে বেলা বাড়লেও কোনো ফলাফল না পেয়ে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসন ভবনের দ্বিতীয় গেটে অবস্থান করছে।  

বিশ্ব বিদ্যারয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী এ বিষয়ে বলেন, ‘গতকাল একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে।  এ ঘটনার পিছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে।  প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ দুই জেলার প্রশাসন এবং গোয়েন্দাদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। ’