২:৫০ পিএম, ১৯ আগস্ট ২০১৯, সোমবার | | ১৭ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




জাবিতে নুসরাত হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে সওরা বিভাগের মানববন্ধন

২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৩:২০ পিএম | জাহিদ


শিহাব উদ্দিন, জাবি : ফেনী জেলার সোনাগাজীতে মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি-কে যৌন হয়রানি ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি (সওরা) বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (২৪ এপ্রিল) বেলা ১২ টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের পাদদেশে বিভাগের ৪৮ তম আবর্তনের উদ্যোগে এ মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। 

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সামসুন্নাহার খানম, সহকারী অধ্যাপক ও ছাত্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অধ্যাপক মো. আবদুল  মাননান, সহকারী অধ্যাপক মো. সানওয়ার সিরাজ, বিভিন্ন কর্মকর্তা- কর্মচারী ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

এসময় বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. সামসুন্নাহার খানম মানববন্ধনের সাথে একাত্মতা পোষণ ও ছাত্রদের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, "আমরা এ নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।  একই সাথে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। "

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ছাত্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন," নুসরাত হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।  ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।  এধরণের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। "

৪৭ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, "আমরা তনু হত্যার সুষ্ঠু বিচার পায়নি।  আমাদের বোন নুসরাত হত্যার বিচারেও বিলম্ব হচ্ছে।  আমরা অতি শীঘ্রই নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।  আজ শুধু মানববন্ধন হয়েছে।  যদি সুষ্ঠু বিচার না পায় তবে এ মানববন্ধন র‍্যালি ও আন্দোলনে রূপ নিবে। "

এছাড়াও ৪৮ তম আবর্তনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাহিদ আন নাহিয়ান।  

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন একই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলা।  পরে তার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করলে তাকে গ্রেফতার করা হয়।  সেই মামলা তুলে না নেয়ায় গত ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর কয়েক মিনিট আগে অধ্যক্ষের লোকজন নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে নিয়ে কেরোসিন ঢেলে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।  আগুনে নুসরাতের শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।