৪:৪৪ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১




২৮ বছর পর জ্ঞান ফিরে পেলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক নারী

২৪ এপ্রিল ২০১৯, ০৫:৩৪ পিএম | জাহিদ


মুহাম্মদ এনাম হোসাইন, দুবাই ( ইউএই) : অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তব সত্য তাই।  দীর্ঘ ২৮ বছর পর পুরোপুরি জ্ঞান ফিরে পেলেন এক মহিলা।  এতদিন ধরে তিনি ছিলেন শয্যাশায়ী, অনেকটা জড় পদার্থের মতো।  সম্পূর্ণ চেতনাহীন বা কোমা স্টেজে তিনি না থাকলেও, বাস্তবিক অবস্থায় ফারাক ছিল না বিশেষ।  হাত-পা নড়ত না, চোখের মণি স্থির, কথা বলা বা সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।  একমাত্র জীবনের লক্ষণ ছিল, তীব্র ব্যথার অনুভূতিতে তাঁর সাড়া মিলত। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতবাসী মুনিরা আবদুল্লাহ অনেকগুলো হাসপাতালে ২8 বছর চিকিৎসায় ছিলেন এবং ডাক্তাররা তার ফিরে আসার আশা ছেড়ে দিয়েছিল ।  কিন্তু, এখন ৬০ বছর বয়সী মুনিরা জার্মানির একটি হাসপাতালে গত বছর চেতনা ফিরে পেয়েছেন।  ১৯৯১ সালে তিনি ৩২ বছর বয়সে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন।  তার ৩২ বছর বয়সী ছেলে ওমর ওয়েবার বলেছেন, " আমি কোনদিন আশা ছাড়িনি, কারণ আমি সবসময় মনে করতাম মা একদিন জেগে উঠবে। '

দুর্ঘটনার সময় ওয়েবার বয়স ছিল চার।  এবং কেজি ওয়ানে পড়তো।  তাকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে গাড়ি দূর্ঘটনার শিকার হন মা মুনিরা।   ১৯৯১ সালের সেই দূর্ঘটনার দিনটি এখনও তাদের মাথায় তাজা রয়েছে।  

ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মুনিরা তখন মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছিলেন।  সবটা সামলে মুনিরাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেও বেশ খানিকটা সময় লেগেছিল।  এর পর লন্ডনে নিয়ে গিয়ে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়।  তখন থেকেই এই জড় পরিস্থিতিতে রয়েছেন মুনিরা।  এর পর ইউইএতে ফিরে এসে টিউব দিয়ে তাঁকে খাওয়ানো হত, প্রতিদিন ফিজিওথেরাপি করানো হত।  

এরপর আবুধাবির যুবরাজ শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ মুনিরার সমস্ত চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।  উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পাঠানো হয় জার্মানিতে।  সেখানে বিশেষভাবে তাঁকে ফিজিকাল থেরাপি ও ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। 

এভাবে চলতে চলতে প্রায় ১ বছর পর অনেকটাই চেতনা ফিরে পেতে শুরু করেন মুনিরা।  ধীরে ধীরে আওয়াজ ফিরে পেতে শুরু করেন তিনি।  একদিন ছেলেকে নাম ধরে চিৎকার করে ডেকে ওঠেন।  নিজের ভাইবোনদের খুজে ফিরেন।  ছেলে বলেন, একদিন  আমার নাম ধরে কেউ একজন চিৎকার দিয়ে ডাকাডাকিতে আমি জেগে উঠি।  এই ডাক ছিল তাঁর।  আমার নাম ধরে মা আমায় ডাকছেন।  আমি আনন্দে ভেসে উঠি; কয়েক বছর ধরে আমি এই মুহুর্তের জন্য স্বপ্ন দেখেছিলাম, অপেক্ষায় ছিল এবং  প্রথম তিনি আমার নামই বলেছিলেন।  "

বর্তমানে অনেকটাই সচেতন মুনিরা আবদুল্লা।  কথা বলা, মন্ত্র উচ্চারণ এবং ব্যাথার কথা বলতে পারেন তিনি।   একটু কষ্ট  হলেও কুরআনের আয়াত পড়তে পারে।  তার বায়না রাখতে ছেলে ওমর ওয়েবার নামাজের জন্য তাকে নিয়ে যায় আবুধাবি শেখ জায়েদ গ্র্যান্ড মসজিদে।  আপাতত আবু ধাবিতে পরিবারের সঙ্গে সুস্থ ভাবেই রয়েছেন।  নিয়মিত চিকিৎসা চলছে তাঁর। 


keya