৪:১০ পিএম, ২১ আগস্ট ২০১৯, বুধবার | | ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




সাংবাদিকের পা ভেঙ্গে দিয়ে মৃত ভেবে হাওরের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে গেল র্দুবৃক্তরা!

০৮ মে ২০১৯, ০৯:৩২ এএম | জাহিদ


হাবিব সরোয়ার আজাদ, সিলেট : সুনামগঞ্জ থেকে প্রকাশিত স্থানীয় একটি দৈনিকের শাল্লা উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের উপর নৃশংস হামলা চালিয়ে তার ডান পা ভেঙ্গে দিয়ে মৃত ভেবে হাওরের পাশে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়  সংঘবদ্ধ দুবৃক্তরা।  

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে ফেরার পথে উপজেলার  জয়পুর ও নিয়ামতপুর গ্রামের মধ্যবর্তী হাওরের নির্জন স্থানে তার ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়কভাবে প্রশমে মারপিট ও পরবর্তীতে ডান পা ভেঙ্গে দিয়ে  মৃত ভেবে হাওরে তাকে ফেলে রেখে   যায় দুবৃক্ত চক্রের সদস্যরা।  

রাতে আশংকাজনক অবস্থায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল করেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

জয়ন্ত হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক।  

মঙ্গলবার রাতে জয়ন্ত’র পরিবারের লোকজন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুর্বে একদফা এলাকার গোপাল রায়, রিংকু রায়, ইন্দ্র রায় সহ কয়েকজ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জয়ন্ত সেনকে গিয়ে তার বাড়িতে ঘেরাও করে।  

এক পর্যায়ে দুবৃক্তদের ভয়ে সন্ধ্যায় তিনি বাড়ি থেকে সুনামগঞ্জে যাবার পথে ফের ওৎ পেতে থাকা দুবৃক্তরা নিয়ামতপুর ও জয়পুর নামক স্থানে তাকে বেধড়ক মারধর করে তার ডান পা ভেঙ্গে দেয়।  মাথা, গলা, কাধ ও বুকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।  দুবৃক্তরা গোপালের নেতৃতে হামলার পর তাকে মৃত ভেবে হাওরের নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়।  এলাকার লোকজন বাড়ি আসার পথে তাকে সংজ্ঞাহীন দেখতে পেয়ে তার পরিবারের লোকজনকে খবর দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।  

হামলাকারীরা জয়ন্তর ব্যবহৃত লেপটপ ও দুটি মোবাইল ফোন ও বাড়ি থেকে নিয়ে আসা  নগদ ২০ হাজার টাকাও ছিনিয়ে নিয়ে যায়।   

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের গোপাল রায় এলাকার এক হতদরিদ্র শিশু কন্যাকে কয়েক মাস আগে ধর্ষণের চেষ্টা করলে সাংবাদিক জয়ন্ত সেন  সংবাদ প্রকাশ করেন।  গোপালের ভয়ে পরে ওই শিশুকন্যাকে অন্য স্কুলে ভর্তি করান অসহায় পিতা।   

এ ঘটনায় সাংবাদিক জয়ন্ত অসহায় ওই শিশু কন্যা ও তার পরিবারের স্বপক্ষে সংবাদ প্রকাশ করায়  ক্ষুব্দ হয় গোপাল ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা।  

উল্লেখ্য গোপালকে গত ১০ মার্চ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন স্কুলের ভোট কেন্দ্র দখল করে ভোট দিলে প্রশাসন গোপালকে গ্রেপ্তার করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে। 

এছাড়াও গোপাল গ্রামের স্কুলের জায়গা দখল করেও স্থায়ী বসতঘর নির্মাণ করায় সাংবাদিক জয়ন্ত সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন এমন আশংকা থেকেও তাকে হত্যার উদ্দেশেই ওই হামলার ঘটনাটি ঘটিয়ে বলে জানান পরিবারের লোকজন।   

পরবর্তী একই গ্রামের রিংকু রায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ালে সাংবাদিক জয়ন্ত কিছু দিন আগে শাল্লা থানার ওসিকে অবহিত করেন। 

ওই ঘটনায় গোপাল রায় পুর্বের সংবাদ প্রকাশের জের মেটাতে রিংকু রায়কে প্রভাবিত করে সাংবাদিক জয়ন্ত সেনের উপর হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করায়।  এই চক্রকে সুনামগঞ্জে থেকে উস্কানী ও সহযোগিতা করছে শাল্লার একই এলাকার অপর এক নাটের গুরু। 

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সদর থেকে বাড়ি যাবার পথে গোপাল রায়ের নেতৃত্বে হামলার জন্য দুবৃক্তরা তার পিছু নিলে সাংবাদিক জয়ন্ত সেন পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ, ওসি আশরাফুল ইসলাম ও সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে বিষযটি অবহিত করেন।   

সাংবাদিক শামস শামীম সাথে সাথে শাল্লা থানার ওসিকে ফোন দিয়ে বিষয়টি অবগত করে তাকে নিরাপত্তা প্রদানের অনুরোধ করেন।  

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. বিশ্বজিৎ গোলদার রাতে জানান সাংবাদিক জয়ন্ত সেন শঙ্কামুক্ত তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।  

মঙ্গলবার রাতে শাল্লা থানার ওসি মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক জয়ন্ত আমাকে মঙ্গলবার দুপুরে তার ওপর হামলার শংকার বিষয়টি আগাম ফোনে অবগত করেছিলেন।  আমি দুষ্কৃতিকারীদের আমার অফিসার দিয়ে তাকে বিরক্ত না করার জন্য জানিয়েও দিয়েছিলাম।