২:০২ এএম, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার | | ২০ রমজান ১৪৪০




মাহে রমজানে আত্ম-মানবতার সেবায় ২৪ পদাতিক ডিভিশনের গুইমারা সেনা রিজিয়ন

০৯ মে ২০১৯, ০২:৩৬ পিএম | জাহিদ


এম.সাইফুর রহমান, খাগড়াছড়ি : ৮০বছরের বয়োবৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ, খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুবনগর এলাকায় তার বসবাস।  বয়সের ভারে ন্যুব্জ দরিদ্র-অসহায় এ বৃদ্ধ ৯ বছর পূর্বে সড়ক দূর্ঘটনায় তার ডান পা হারাতে বসনে।  একপর্যায়ে পায়ে রড লাগিয়ে কিছুদিন চরাফেরা করলেও বর্তমানে রডটির পাশে ইনফেকশন হয়ে পুনরায় হাটাচলা বন্ধ হয়ে যায় তার।  

নুর মোহাম্মদের মত আরেক অসহায় পরিবারের সন্তান মোঃ শফিকুল ইসলাম।  দরিদ্র পিতার ১৫ বছরের সফিকুল চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মুনাফ’খিল মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত।  সম্প্রতি মাদ্রাসা ছুটিতে এসে নিজ এলাকা গুইমারা উপজেলার হাজিপাড়ায় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে ডান হাত ভেঙ্গে যায় শফিকুলের।  তার দরিদ্র পরিবার চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে অবশেষে স্বরনাপন্ন হন গুইমারা রিজিয়নের।  

একই ভাবে রেমা মারমা, স্বামী-খিলু মারমা নামের এক উপজাতি মহিলার বৈদ্যুতিক শর্টে হাত পুড়ে যায়।  পরবর্তীতের তার ক্ষত স্থানে ইনফেকশন হয়ে গেলে স্থানীয় পাড়া-কার্বারীদের মাধ্যম্যে আর্থিক সহযোগীতার দরখাস্ত আসে ২৪ আর্টিলারী ব্রিগেডের গুইমারা রিজিয়নে।  

এছাড়াও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য সুবেদ আলীর মৃত্যুর পর আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারনে তার স্ত্রী আমেনা বেগমকে ৪ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে।  বাধ্যহয়ে জীবনের তাগিয়ে আর্থিক সহযোগীতা চান গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার বরাবরে।  

প্রতিদিন এমন অনেক দরখাস্থ পড়ে পাহাড়ে আইন-শৃংখলা রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশনের খাগড়াছড়ির গুইমারা সেনা রিজিয়নে।  প্রতি দুই-এক মাস পর পরই প্রায় সবগুলো দরখাস্ত যাচাই বাছাই করে হত-দরিদ্র এসব পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সাহায্য প্রদান করা হয়।  

তারই ধারাবাহিকতায় পবিত্র মাহে রমজানের ৩য় দিনে অসহায় রুগ্ন ব্যক্তিদের চিকিৎসার্থে আর্থিক সহযোগী দিলেন সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়ন।  সকালে রিজিয়ন সদর দপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে রোগে আক্রন্ত এমন বেশ কিছু অসহায় দরিদ্র রোগীদের পরিবারের হাতে আর্থিক অনদান তুলে দেন ২৪ আর্টিলারী ব্রিগেডের গুইমারা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম সাজেদুল ইসলাম।  

এসময় তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজান আল্লাহর রহমতের অমিয় ধারা বর্ষনের মাস।  তাই প্রতিটি মানুষেরই উচিৎ অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো।  সবাই একে অন্যের পাশে থেকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাথে মানুষের আনুগত্যের বন্ধন স্থাপিত হবে।  

এসময় অন্যান্যের মধ্যে রিজিয়নের জিটুআই মেজর মঈনুল আলম, বিএম মেজর ফজলে রাব্বি’সহ সামরিক পদস্থ কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।  


keya