১১:৫৭ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১




আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে সানশাইন ব্রিক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ নির্মানের কাজ

১১ মে ২০১৯, ০৯:১৬ এএম | জাহিদ


আখলাছ আহমেদ প্রিয়, হবিগঞ্জ : আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে চলছে সদর উপজেলার দরিয়াপুরে তাবানী কনষ্ট্রাকশন কোম্পানী কর্তৃক সানশাইন ব্রিক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ নির্মানের লক্ষে মাটি ভরাট, কনষ্ট্রাকশন ও সেডের কাজ। 

হাইকোর্টের জারী করা রুল উপক্ষো কোম্পানী কর্তৃপক্ষ কুটির জোরে দ্রুত গতিতে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে প্রতিক্রিয়া ।  এছাড়া বিক্স ইন্ডাষ্টিজ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম বন্ধের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন করার পরও কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় জনমেন নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। 

এদিকে, গতকাল শুক্রবার সকালে সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মাসুদ রানা সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করে কোম্পানীর মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দিলেও কয়েক ঘন্টা পর পুনরায় কার্যক্রম চালিয়ে যায় কর্তৃপক্ষ।  এমতাবস্থায় কোম্পানীর কুটির জোর কোথায়? এ নিয়ে ভাবছেন স্থানীয় জনসাধারন।  

জানা যায়, সদর উপজেলার শরিফাবাদ, নছরতপুর ও দরিয়াপুর মৌজার মোট ২৪.০৫ একর কৃষি জমিতে তাবানী কনষ্ট্রাকশন কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক সানশাইন ব্রিক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ নির্মানের কাজ করছে কর্তৃপক্ষ।  কোম্পানী কর্তৃক বরাং খাল এর দুই পার্শ্বে ক্রয় করা  জমিতে এ সানশাইন ব্রিক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ নির্মান হলে খাল দিয়ে কোম্পানীর বিষাক্ত ও দুষিত বর্জ্য নিস্কাশন করা হবে। 

ওই খাল এবতারপুর হইতে গৌরাঙ্গের চক, দরিয়াপুর, শরিফাবাদ ও আমিনপুর হয়ে সুতাং নদীতে পতি হয়েছে।  এতে করে নিস্কাশিত বিষাক্ত বর্জ্য পদার্থের দ্বারা ওই সব এলাকার হাজার হাজার একর ভূমির ফসল বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  ফলে পরিবেশ বিপর্যয় হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।  এর প্রতিকার চেয়ে গত ১৬/০৭/২০১৮ইং তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক এর বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন দরিয়াপুর গ্রামের ইসব উল্লাহর পুত্র আব্দুল মালেকসহ এলাকাবাসী। 

যার অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগ এর উপ-পরিচালক, হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক, হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কাছে প্রেরণ করা হয়।  কিন্তু এতে কর্তৃপক্ষ  কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গত ২১/০১/২০১৯ইং তারিখে হাইকোর্টে রিট করেন আব্দুল মালেক।  যার নং-১৬২৬৫।  এরপর হাইকোর্ট বিষয়টি আমলে নিয়ে গত ২১/০১/২০১৯ ইং তারিখে কোম্পানীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না এই মর্মে রুল জারি করেন এবং ৪ সপ্তাহের মধ্যে কোম্পানীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসকসহ স্ব-স্ব কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।  কিন্তু এরপরও প্রশাসনিক কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় নিজের গতিতে ব্রিক্স প্রতিষ্ঠার কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। 

পরে আব্দুল মালেক ওই ব্রিক্স প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন চলমান থাকায় উক্ত কোম্পানীর কার্যক্রম বন্ধ করার দাবীতে গত ৩১/০৩/২০১৯ইং তারিখে জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন করেন।  আবেদনের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য গত ৪/৪/২০১৯ইং তারিখে হবিগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে স্মারক পত্রের মাধ্যমে নির্দেশ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন রুবেল বিষয়টি তদন্ত করে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেন।  পরে কোম্পানী কর্তৃপক্ষ কয়েক দিন  মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে রাখলেও পুনরায় আবার কার্যক্রম চালিয়ে যায়। 

শুক্রবার সকালে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড) মাসুদ রানা বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেন।  কিন্তু এর পরও আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে কোম্পানী কর্তৃপক্ষ পুনরায় মাটি ভরাট করে কনষ্ট্রাকশন ও সেডের কাজ চালিয়ে আসছে।  এতে করে স্থানীয় এলাকাবাসীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।  যে কোন সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্ধারা।  এ বিষয়ে সানশাইন ব্রিক্স নির্মানের কার্যক্রম বন্ধের দাবীতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।  

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে মাটি ভরাটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।  এর পর মাটি ভরাটের কাজ করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।