১:১০ এএম, ২৫ মে ২০১৯, শনিবার | | ২০ রমজান ১৪৪০




ঝিনাইদহে পৃথক স্থানে দুই স্কুলছাত্রী ধর্ষনের অভিযোগ, আটক ২

১১ মে ২০১৯, ০৪:৪৮ পিএম | জাহিদ


আরাফাতুজ্জামান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে দশম শ্রেনীর এক ছাত্রী ধর্ষনের শিকার হয়েছে।  শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার কোলা দাসপাড়ায় গ্রামের মাঠে এ ধর্ষনের ঘটনাটি ঘটে।  শনিবার সকালে হাত পা বাঁধা অবস্থায় স্থানীয়রা একটি ধান ক্ষেতে থেকে ওই ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে। 

ধর্ষক খালকুলা গ্রামের আব্দুর রউফের পুত্র আলামীন পলাতক রয়েছে।  ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী মাগুরা শালিখা উপজেলার কোটবাগ দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেনীর ছাত্রী।  এ ঘটনার পর ধর্ষিতার বাবা-মা শনিবার দুপুরে মেয়েকে নিয়ে কালীগঞ্জ থানাতে এসে অভিযুক্ত আলামীনসহ অজ্ঞাত আরো এক জনের নামে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।  

ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর পরিবার ও থানা পুলিশ জানায়, কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা দাসপাড়া গ্রামের স্কুলছাত্রী শুক্রবার রাত ৮টার দিকে পাশের বাড়িতে মোবাইলে চার্জ দেবার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়।  রাতের অন্ধকারে লম্পট ধর্ষক খালকুলা গ্রামের আলামীন স্কুলছাত্রীর মুখ চেপে ধরে পাশে একটি ফাকা মাঠের মধ্যে নিয়ে যায়।  এরপর রাতভর তাকে ধর্ষন শেষে হাত পা বেধে ফেলে রেখে যায়।  সকালে তার পরিবার ও স্থানীয়রা ফাকা মাঠের মধ্যে থেকে তাকে উদ্ধার করে।  এঘটনায় দুপুরে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে নিয়ে তার পিতা কালীগঞ্জ থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছে।  

এছাড়া প্রেম সম্পর্কের সুত্র ধরে শহরের আয়েশা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ৩ যুবক কর্তৃক ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে।  ধর্ষনের ঘটনার ১৫ দিন পর শনিবার সকালে ধর্ষিতা স্কুল ছাত্রীর বাবার দেওয়া কালীগঞ্জ থানায় এক লিখিত অভিযোগে জানায়, বলিদাপাড় গ্রামের যুবক খায়রুল গত ৩ মাস ধরে স্কুলে যাওয়া আসার পথে প্রায়ই তার মেয়েকে কু-প্রস্তাব দিত।  এক পর্ষায়ে তার মেয়েকে ফুসলিয়ে খায়রুল প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তুলে। 

এ ঘটনা জানাজানি হলে মেয়ের পরিবার খায়রুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে।  কিন্তু খায়রুল বিয়ে করতে অস্বীকার করে।  এক পর্ষায়ে খায়রুল তার বন্ধুদের সহযোগিতায় গত মাসের ২৫ তারিখে স্কুলছাত্রীকে রাব্বীর বাসাতে ডেকে নিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে।  এ ঘটনার পর মেয়েটি বাড়ীতে এসে তার পরিবারের নিকট ধর্ষনের ঘটনাটি খুলে বলে।  মেয়েটির পরিবারের পক্ষ থেকে প্রথমে সামাজিক ভাবে ঘটনাটি নিরসন করতে ব্যার্থ হওয়ায় অবশেষে ধর্ষন ঘটনার ১৫ দিন পর ৩ যুবকের নাম উল্লেখ করে থানাতে একটি মামলা করে। 

থানা পুলিশ শনিবার অভিযুক্ত ৩ জনের মধ্যে দু’জনকে আটক করলেও রাব্বি নামের এক ধর্ষক পলাতক রয়েছে।  আটককৃতরা হলো শহরের বলিদাপাড়া গ্রামের বদর উদ্দিনের পুত্র খায়রুল (২২) ও একই গ্রামের রবিউল ইসলামের পুত্র মোর্তজা বাপ্পী (২৩)। 

পৃথক পৃথক সংঘঠিত এ দুটি ধর্ষনের বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইন-চাজ (ওসি) ইউনুচ আলী জানান, থানাতে পৃথক দুটি অভিযোগ পেয়েছেন।  পুলিশ ইতিমধ্যে দুই ধর্ষককে আটক করেছে।  বাকী আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে।  ধর্ষিতাদের ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য ঝিনাইদহে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। 


keya