১:০৩ পিএম, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




মাদারীপুরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ

১১ মে ২০১৯, ০৫:৫৫ পিএম | জাহিদ


মাতুব্বর শফিক স্বপন, মাদারীপুর : মাদারীপুরের রাজৈরে ব্যবসায়ী সোহেল হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।  নৃংশস এই হত্যার বিচারের দাবীতে শনিবার সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঘন্টাব্যাপী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে।  পরে স্থানীয়রা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।  

জানা গেছে. ব্যবসায়ী সোহেল হত্যার প্রতিবাদে শনিবার সকালে নিজ বাড়ী থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে সাধুরব্রিজ এলাকায় শেষ হয়।  পরে বিক্ষুদ্ধরা ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে ফেলে।  এতে রাস্তার দু’পাশে যানজট লেগে যায়।  পরে রাজৈর থানার ওসি শাহজাহান মিয়া হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আশ্বাস দিলে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।  এসময় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন সোহেলের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী।  বিক্ষুদ্ধরা অবলিম্বে দোষী চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি দাবী করেন।   

এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাজিরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান হাওলাদার, নিহত সোহেল হাওলাদারের বড় ভাই মুস্তাফিজুর রহমান, বড় বোন পেরা বেগম, ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের ভাতিজী লাকী আক্তার, ছোট ভাবি সালমা আক্তার, অঞ্জনা বেগম, শশুড় লুৎফর হাওলাদার প্রমুখ। 

উল্লেখ্য রা‌জৈর উপ‌জেলার বা‌জিতপুর ইউ‌পি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের ছোট স্ত্রীরের সাথে দীর্ঘ‌দিন ধ‌রে সোহেলের পরকীয়া প্রেম চলে আস‌ছিল।  এই পরকীয়া প্রেমের কারনে স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠকও হয়েছে।  এছাড়াও গত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব শত্রুতার জের চলে আসছিল।  পূর্ব শত্রুতা ও পরকীয়া প্রেমের জের ধ‌রেই বৃহস্প‌তিবার সন্ধ্যায়  চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হাওলাদার তার লোকজন নিয়ে  মজুমদার বাজা‌র ব্রীজের কা‌ছে সো‌হেল হাওলাদার‌কে একা পে‌য়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। 

এসময় সোহেলের আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে চেয়ারম্যান তার লোকজন নিয়ে পালিয়ে যায়।  মূমুর্ষূ অবস্থায় সোহেলকে উদ্ধার করে প্রথমে রা‌জৈর উপ‌জেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্বজনরা।  সোহেলের অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয় ডাক্তাররা।  ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  ইউ‌পি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম হাওলাদারের চাচাতো ভাইয়ের ছেলে সোহেল।  নিহত সোহেল আট বছর মালয়েশিয়া থাকার পর দু’বছর পূর্বে বাড়ি এসে মুরগির ব্যবসার জন্য দুটি পোল্ট্রি ফার্ম গড়ে তোলেন।  তার নয় মাসের একটি শিশু সন্তান রয়েছে।   

এব্যাপারে রাজৈর থানার ওসি শাহজাহান মিয়া জানান, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনি।  যদি নিহতের পরিবার মামলা করে তবে তাদের সকল ধরনের আইনী সহযোগিতা দেয়া হবে।  ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম পলাতক রয়েছে।