১০:০৮ পিএম, ২৪ জুন ২০১৯, সোমবার | | ২০ শাওয়াল ১৪৪০




ধুনটে সরকারি জায়গা দখলে একাট্টা আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত

১৪ মে ২০১৯, ০৫:৩৮ পিএম | জাহিদ


রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) : বগুড়ার ধুনট উপজেলায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ৩১টি দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ও সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম যৌথ স্বাক্ষরে অবৈধ দোকানঘর গুলো উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ দিয়েছে।   

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যমুনা নদীর বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঘেঁষে ভান্ডারবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৮৯৩ সালে স্থাপিত হয়েছে।  প্রতিষ্ঠাকালে বিদ্যালয়ের ৬ বিঘা জমি ছিল।  স্থানীয় আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ৩১টি দোকানঘর নির্মাণ করেছে।  এতে সাড়ে ৪ বিঘা আয়তনের মাঠ বেদখল হওয়ায় দেড় বিঘা জমির ওপর বিদ্যালয়ের অবকাঠামো দাঁড়িয়ে আছে।  বর্তমানে বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ নেই।  সেখানে প্রতি সোমবার হাট বসে।  

বিদ্যালয়ের মাঠ দখলকারীদের তালিকায় রয়েছেন ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হবিবর রহমান, সোহরাব আলী, মহর আলী, আব্দুল মজিদ, নুর মোহাম্মাদ, ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মাহবুবুর রহমান, বাদশা মিয়া, হবিবর রহমান, হযরত আলী ও ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল লতিফ। 

এছাড়াও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধভাব দোকানঘর নির্মান করেছে।  এ সব দোকানঘরে কেউ নিজে ব্যবসা করছেন, আবার কেউ ভাড়া দিয়েছেন।  

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল লতিফ বলেন, দলীয় পরিচয়ে স্কুলের মাঠে দোকানঘর নির্মান করা হয়নি।  আগে থেকেই এই মাঠে অনেক গুলো দোকানঘর ছিল।  তাদের দেখে এক বছর আগে আমি দোকানঘর নির্মান করেছি। 

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুল করিম আপেল বলেন, সবার দেখাদেখি অনেকদিন আগে একটি ঘর নির্মান করেছি।  কিন্ত ঘরটি ব্যবহার করা হয় না।  বিদ্যালয় মাঠ থেকে সবাই ঘর অপসারন করলে আমিও সরিয়ে নিব। 

ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদীতে সর্বস্বহারা কতিপয় ব্যক্তি জীবিকার তাগিদে স্কুলের মাঠে দোকানঘর নির্মান করেছে।  তাদের দেখে আমিও একটি ঘর নির্মান করেছি।  কিন্ত প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় অবৈধ দখলদারের সংখ্যা বাড়ছে।   

ভান্ডারবাড়ি সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিদ্যালয়ের মাঠ দখল নিয়ে ২৬টি দোকানঘর নির্মাণ করেছে।  সর্ব শেষ গত সপ্তাহে আব্দুল মজিদ, হবিবর রহমান ও বাদশা মিয়া দোকনঘর নির্মান করেছে।  এ বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।  

ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধভাবে দখল নিয়ে দোকনঘর নির্মাণের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।