৮:১৬ এএম, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার | | ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০




ঝালকাঠির পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতির অভিযোগ

১৫ মে ২০১৯, ০৪:৫৭ পিএম | জাহিদ


মো.রাজু খান, ঝালকাঠি : ঝালকাঠি পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও  হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হুমায়ুন কবির খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যাহার, গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কাজ, অবৈধভাবে শ্রমিকদের সদস্য পদ বাতিল, কাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং ৫২ সদস্যের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে মাদক ব্যবসা চালানোসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি বাবুল হোসেন হাওলাদার।  গত ২০ মাস যাবত বাবুল হোসেনের কাজ বন্ধ করে  রেখেছেন হুমায়ুন কবির খান।  এ অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন শ্রমিক নেতা বাবুল হোসেন।  

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাবুল হোসেন অভিযোগ করেন, শহরের পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকার হুমায়ুন কবির খান পৌরসভার কাউন্সিলর ও হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন।  ১৫ বছর ধরে তিনি শহরের পশ্চিম ঝালকাঠি, বাসন্ডা, রামনগর, পারকিফাইত নগর, নেছারাবাদ ও পালবাড়িসহ বিভিন্ন স্থানের মানুষকে জিম্মি করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। 

হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজীসহ একাধিক মামলার আসামী হয়েও অবৈধভাবে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হয়েছেন।  নিয়মানুযায়ী শ্রমমিকরাই এই সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন।  অথচ হুমায়ুন কবির খানের রয়েছে নানা ধরণের ব্যবসা।  তিনি জেলা বাস মালিক সমিতির সদস্য।  তিনি একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সত্ত্বাধিকারী।  তিনি একটি জাহাজেরও মালিক।  এ অবস্থায় হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাঁর সদস্য পদ থাকে না।  অথচ জোর করে তিনি এ সংগঠনের সভাপতি পদ আকড়ে আছেন।  তিনি শ্রমিকদের মাসিক চাঁদা ২০ টাকার পরিবর্তে ৫০ টাকা করেছেন।  মে দিবসে শ্রমিকদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে সংগঠনে ব্যয় না করে নিজেই আত্মসাত করেন।  তাঁর বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে সদস্য পদ বাতিল চেয়ে মামলাও রয়েছে।  তিনি ৫২ বাহিনীর প্রধান পরিচয় দিয়ে বিশাল অট্টালিকা, গাড়ি-বাড়ির মালিক হয়েছেন।  তাঁর অপকর্মের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে স্থানীয়রা লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। 

বাবুল হোসেন বলেন, আমি ঝালকাঠির দুই নম্বর গ্রুপের পরিবহনের দায়িত্বে ছিলাম।  হুমায়ুন কবিরের নানা অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কথা বলায় সে আমার সদস্য পদ বাতিল করে দেয়।  এমনকি আমাকে কোন কাজও করতে দেওয়া হয়নি ২০ মাস ধরে।  আমি তাঁর সেই আদেশের বিরুদ্ধে আ লিক শ্রম দপ্তরের উপপরিচালকের কাছে আবেদন করলে তিনি আমার সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।  আমার সদস্য পদ ফিরে পেলেও আমাকে কোজ কাজ করতে  দিচ্ছেন না হুমায়ুন কবির খান।  তাঁর বিরুদ্ধে বরিশাল দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দিয়েও কোন ফল পাচ্ছি না। 

দুদক তদন্ত করলেই হুমায়ুন কবির খানের নানা ধরণের দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনার প্রমান মিলবে।  প্রমান পাওয়া যাবে কিভাবে একজন চায়ের দোকানের কর্মচারী কয়েক বছরের কোটি কোটি টাকার মালিক হলেন।  সংবাদ সম্মেলনে শহরের পশ্চিম ঝালকাঠির শাহীন খলিফা, ফারুক হোসেন হাওলাদার ও জসিম হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন।  

এ ব্যাপারে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করেছেন বাবুল।  আমি কোন ক্ষমতার অপব্যবহার করি নাই।  গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন চালাচ্ছি।  

সংবাদ সম্মেলনে বাবুল হোসেন তথ্য প্রমান উপাস্থাপন করে বলেন, হুমায়ুনের নামে ইতিপূর্বে ৪ টি হত্যা, ৪ টি ধর্ষণ ও ৫টি চাদাবাজী মামলা দায়ের হলেও প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় এসব মামলা আপোষ করতে সক্ষম হয়েছেন বারবার দল বদলকারী হুমায়ন কবীর খান।