১০:৪৩ এএম, ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৬ রমজান ১৪৪০




মোরেলগঞ্জে নদীতে কচুরিপানা জলাবদ্ধতা ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি চরমে

১৬ মে ২০১৯, ০৪:৪২ পিএম | জাহিদ


এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে দুই ইউনিয়নের দুটি খালে ৮ কিলোমিটার ধরে পানি চলাচল বদ্ধ হওয়ায় কচুরিপানায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।  নষ্ট হয়েছে পানি।  

বিভিন্ন রোগ বালাই দেখা দিয়েছে ১০ টি গ্রামের ৪০ হাজার মানুষের জনভোগান্তি চরমে।  এ ঘটনায় হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জনসাধারন গনস্বাক্ষরে পানি নিস্কাশনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে একটি আবেদন করে।  আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার বিকেলে নিবার্হী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশের নের্তৃত্বে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  মো. আকরামুজ্জামান সহ একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।   

সরেজমিনে জানা গেছে, হোগলাবুনিয়া ইউনিয়নের পানগুছি নদীর তীরবর্তী স্নুইজগেট সংলগ্ন বিষখালী খাল ও ঝগড়ার খাল দুটি শাখা প্রশাখা কয়েকটি গ্রাম জুড়ে রয়েছে।  খাল দুটির দীর্ঘদিন পানি চলাচল বন্ধ থাকায় কচুরিপানায় জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে।  প্রায় ৮ কিলোমিটার জুড়ে খালের তীরবর্তী ঘেষা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড সুবরাজকাঠি গ্রাম, হোগলাবুনিয়ার ১নং ওয়ার্ড হোগলাবুনিয়া গ্রাম, গুয়াবাড়িয়া, পাশ্ববর্তী বলইবুনিয়া ইউনিয়নের রাজৈর, কিচমত জামুয়া, পাতা বাড়িয়া, সোলমবাড়িয়া, নেহালখালী ও কুহারদাহ গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।  কচুরিপানায় জলাবদ্ধতার কারনে পানি নষ্ট হয়ে বিভিন্ন রোগ দেখা দিয়েছে। 

কথা হয় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত গুয়াবাড়িয়া গ্রামের হাসেম আলী শেখ (৫৫), সেকেন্দার আলী (৬০), আবু সালেহ মাতুব্বার (৪৬), হেমায়েত শেখ (৪৮), বাবুল গাজী (৩২), রাজৈর গ্রামের শাহাজাহান খান (৫৫) ও আমবাড়িয়া গ্রামের ফারুকুল ইসলাম দফাদার(৪২)।  তারা জানান, স্নুইস গেটটি বদ্ধ থাকায় পানি নিস্কাশন করতে পারছেনা।  অন্য সব বছরে মাঝে মধ্যে এ স্নুইজগেট খুলে দিয়ে পানি নিস্কাশন করা হতো  এবারে কোন পানি নিস্কাশন না হবার কারনে কচুরিপানা বৃদ্ধি পেয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।  খালের পানির নষ্ট হয়ে ভিন্ন রং ধারণ করেছে। 

এ নষ্ট পানিতে খালের তীববর্তী গ্রামবাসিরা গোসল সহ ফিল্টার করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে।  যে কারনে অনেকেই পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।  এলাকাবাসির দাবী উপজেলা প্রশাসন অবিলম্বে কচুরিপানা অপসারন ও পানি নিস্কাশনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহনের জোর দাবি জানান।  

এ বিষয়ে হোগলাবুনিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আকরামুজ্জামান বলেন, স্নুইজগেটটি আমাবশ্যার জোয়ারে পানি বৃদ্ধির স্বল্প সময়ে খুলে দিয়ে এ পানি নিস্কাশন করা সম্ভব।  এ সময় কচুরিপানাও পানি নিস্কাশনের সাথে সাথেই অপসারন হবে।   

এদিকে বলইবুনিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. শাহাজাহান আলী খান বলেন, স্নুইজ গেটটি খুলে দিলে লবনপানি ঢুকে এলাকায় ধানি ফসল সহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতিস্বাধন হবে এ ইউনিয়নে।  তবে কচুরিপানা অপসারনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।    

এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান বলেন, বলইবুনিয়া এবং হোগলাবুনিয়ার স্নুইজগেট খুলে পানি অপসারনের বিষয়টি বৃহস্পতিবার উপজেলা সমন্বয় মাসিক সভায় উপস্থাপন হয়েছে।  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, ভাইস চেয়ারম্যান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি সহ ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের পরেই চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।