৪:৪১ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, রোববার | | ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




২ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিচয়পত্র পেয়েছে

১৯ মে ২০১৯, ০৯:৫০ এএম | জাহিদ


এসএনএন২৪.কম : মিয়ানমারে সেনা নিপীড়নের মুখে সীমান্ত ও সাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া কমপক্ষে প্রায় ৬০ হাজার পরিবারের ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৪৮ জন শরণার্থীকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে।  প্রতিদিন নিবন্ধিত হচ্ছেন প্রায় ৪ হাজার রোহিঙ্গা।  পর্যায়ক্রমে সবাইকে নিবন্ধনের মাধ্যমে এই পরিচয়পত্র দেয়ার কাজ সম্পন্ন করা হবে। 

জাতিসংঘের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  সংস্থাটি বলছে, ভবিষ্যতে মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া যে তাদের অধিকার, তারই প্রমাণ হিসেবে রোহিঙ্গাদের এই পরিচয়পত্র দেয়া হচ্ছে। 

মূলত ১২ বছরের বেশি বয়স যাদের তাদেরকেই এই নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে।  দেয়া হচ্ছে নতুন পরিচয়পত্র।  যেখানে নিবন্ধিতদের কাছ থেকে রাখা হচ্ছে তাদের নাম, পারিবারিক সম্পর্ক, আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিসের স্ক্যান।  

এছাড়াও এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া মানবপাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সামনে একটি বড় সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে মনে করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।  

গতকাল শুক্রবার জেনেভায় ইউএনএইচসিআর’র মুখপাত্র আন্দ্রেজ মাহিসিচ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর এক চতুর্থাংশের বেশিকে নিবন্ধিত করেছে এবং পরিচয়পত্র দিয়েছে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ও ইউএনএইচসিআর। ’

মাহিসিচ জানান, রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের জুনে।  তারা যাতে তাদের  দেশ মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারেন সেই অধিকারের পক্ষে এই নিবন্ধন একটি সেফগার্ড হিসেবে কাজ করবে।  

উল্লেখ্য, সেনা নিপীড়ন, ধর্ষণ ও গণহত্যার মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে নতুন করে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত ও সাগর পাড়ি দিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে।  এরইমধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলগুলোতে কমপক্ষে সাড়ে ৭ লাখের মতো নতুন করে আশ্রয় নিয়েছে।  সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যা এখন ১০ লাখেরও বেশি। 

এদিকে বিশাল সংখ্যক এই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বছরের পর বছর খাদ্য ও ভরনপোষন দিতে গিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়ছে।  তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক বোধ থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে বিরল নজির স্থাপন করেছেন।  

অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের ওপর বিশ্ব নেতাদের চাপ থাকলেও মিয়ানমার কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না।  যদিও রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার।  

আর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হলেই তাদের সেখানে পাঠানো উচিত।  এখনও রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে সে দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।