২:১২ এএম, ২৬ আগস্ট ২০১৯, সোমবার | | ২৪ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




জাবিতে "ছাত্র শৃঙ্খলা বিধি" বাতিলের দাবিতে ছাত্রফ্রন্টের বিবৃতি

২০ মে ২০১৯, ১০:০১ পিএম | জাহিদ


শিহাব উদ্দিন, জাবি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীদের মতামত প্রকাশ ও প্রশাসনের সমালোচনার সীমানা বিমুর্তভাবে নির্ধারণ করে তৈরিকৃত ছাত্র শৃঙ্খলা বিধিকে দুরভিসন্ধিমূলক, স্বেচ্ছাচারী, অগণতান্ত্রিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণকারী উল্লেখ করে বিবৃতি প্রকাশ করেছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, জাবি শাখা। 

সোমবার (২০ মে) দুপুরে সংগঠনটি থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে উচ্চ আদালত এক রায়ের পর্যবেক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা বিধিকে ‘দুর্বল ও সেকেলে’ উল্লেখ করে তা হালনাগাদের পরামর্শ দেয়।  শৃঙ্খলাবিধির  প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জনের উদ্দেশ্যে ঐ বছরের ১৬ মে তৎকালীন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেনকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়।  ওই কমিটির হালনাগাদ করা শৃঙ্খলাবিধি গত ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাদেশ হিসেবে অনুমোদিত হয়। 

সংশোধিত অধ্যাদেশের ৫-এর (ঞ) নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনও ছাত্র/ছাত্রী অসত্য এবং তথ্য বিকৃত করে বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত কোনও সংবাদ বা প্রতিবেদন স্থানীয়/জাতীয়/আন্তর্জাতিক প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক সংবাদ মাধ্যমে/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ/প্রচার করা বা উক্ত কাজে সহযোগিতা করতে পারবে না। 

৫-এর (থ) নাম্বার ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনও ছাত্র/ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্র/ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীর উদ্দেশে টেলিফোন, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ইন্টানেটের মাধ্যমে কোনও অশ্লীল বার্তা বা অসৌজন্যমূলক বার্তা প্রেরণ অথবা উত্ত্যক্ত করতে পারবে না। ’

অধ্যাদেশ মতে, ধারা দুটির লঙ্ঘন  ঘটলে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের চোখে ‘অসদাচরণ’ বলে গণ্য হবে।  এজন্য লঘু শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা, সতর্কীকরণ এবং গুরু শাস্তি হিসেবে আজীবন বহিষ্কার, বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার, সাময়িক বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকার উর্ধ্বে যেকোনও পরিমাণ জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।          

এক যৌথ বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের জাবি শাখার সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিদার এই দুরভিসন্ধিমূলক ধারা বাতিলের দাবী জানিয়ে বলেন, “মতামত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আইন দিয়ে রুখতে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।  বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এই আইন আরো বেশি ভয়ংঙ্কর।  এটি রাষ্ট্রের বহু আলোচিত ৫৭ ধারারই নামান্তর।  এর মধ্যদিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং প্রতিবাদী মনোভাবকে বাধাগ্রস্থ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় তার অপকর্মগুলোকে আইনের ফাঁদে ফেলে সবার সামনে প্রকাশ করতে দিবে না ।  রাষ্ট্র যেমন এককভাবে সকলের স্বাধীনতাকে চেপে ধরছে, বিশ্ববিদ্যালয় ও ঠিক সেই পথেই হাটছে।  অবিলম্বে এই স্বেচ্ছাচারী ধারার বাতিল চাই। ”

আইনজীবি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশের আচরণবিধি অংশে উল্লেখিত ৫(ঞ) এবং ৫(থ) ধারা দুটি বাংলাদেশে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৯ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতা এবং অনুচ্ছেদ ৪০ পেশা বৃত্তির স্বাধীনতার পরিপন্থী।  স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার উপর হুমকি হতে পারে  এই ধারা। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান।  তাই এর অভ্যন্তরে কি ঘটছে তা জানবার অধিকার জনমানুষের রয়েছে।  এ ধরণের আইন প্রণয়ন সেই স্বচ্ছতার পথে পরোক্ষে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।  রাষ্ট্রে ভিন্নমত দমনের যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, এই ধরনের আইন এবং তার প্রণয়ন তারই সম্প্রসারণ বলে মনে করি। 

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আমির হোসেন বলেন, শৃঙ্খলা অধ্যাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সেভাবে পর্যালোচনা করার সুযোগ হয়নি।  নতুন বর্ষের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে তাড়াহুড়া করে অনুমোদন দেয়া হয়েছিল।  সেখানে সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও পক্ষের আপত্তি থাকলে আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান হতে পারে। 


keya