২:৫৯ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রোববার | | ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




বুড়িমারী স্থলবন্দরে আটকে আছে কয়েকশ’ পণ্যবোঝাই ট্রাক

৩১ মে ২০১৯, ০৪:১৯ পিএম | জাহিদ


আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট : লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরে গত ৬ দিন ধরে ভারতে রপ্তানির জন্য অপেক্ষায় রয়েছে পণ্যবোঝাই কয়েকশ’ ট্রাক।  স্থলবন্দরের ওপারে ভারতীয় কোচবিহার জেলার চ্যাংরাবান্ধা কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ গত ২৬ মে থেকে অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু করায় এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। 

এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থলবন্দর ব্যবহারকারী বাংলাদেশি রফতানিকারকরা।  বন্দরের কাস্টমসের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি স্বীকার করলেও তাদের স্থানীয়ভাবে কিছু করার নেই বলে জানিয়েছেন। 

কাস্টমস ও ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর কাস্টমসকে ভারতীয় রাজস্ব বিভাগ কম্পিউটারাইজ সিস্টেমের আওতায় আনতে গত ২৬ মে থেকে কম্পিউটারাইজড অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটা (এএসওয়াই কুডা) সিস্টেম চালু করেছে।  এই সিস্টেম চালু করায় বাংলাদেশি পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। 

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার সাহা জানান, স্থলবন্দরে অনলাইন সেবা কার্যক্রম অনেক আগে থেকে চালু আছে।  কিন্তু চ্যাংরাবান্ধা কাস্টমস ম্যানুয়ালি কার্যক্রম করতো।  তারা এখন অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু করায় রফতানি কার্যক্রম নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হলেও আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। 

বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, বন্দর দিয়ে ভারতে রফতানির জন্য রাজধানীর মালিবাগ এলাকার মেসার্স মাড়ুতি ইন্টারন্যাশনালের পণ্যবোঝাই ৬০টি ট্রাক, গাজীপুর কোনাবাড়ী এলাকার মেসার্স ক্যাচান ট্রেডিংয়ের ৪০টি ট্রাক রফতানি পণ্য নিয়ে গত ২৬ মে থেকে বুড়িমারী স্থলবন্দর এলাকায় অপেক্ষায় রয়েছে।  এই দুই রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মতো প্রাণ আরএফএলসহ বিভিন্ন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কয়েকশ’ পণ্যবোঝাই ট্রাক স্থলবন্দর এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে। 

এতে একদিকে চরম যানজট সৃষ্টি হয়েছে অন্যদিকে ট্রাক মালিকদের অতিরিক্ত ভাড়া গুণতে হচ্ছে রফতানিককারকদের।  এ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।  তবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানি কার্যক্রম সচল রেখেছে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।  এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। 

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী মেসার্স তাসনিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শামীম হোসেন বলেন, ‘কয়েকজন রফতানিকারক ব্যবসায়ীর দুই শতাধিক গার্মেন্টস ঝুটবোঝাই ট্রাক ভারতে রফতানির জন্য কয়েক দিন ধরে অপেক্ষায় আছে।  বিষয়টি কাস্টমসকে বলেও কোনও কাজ হচ্ছে না।  ভারতীয় সমস্যার জন্য ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।  কেউ বিষয়টি দেখছে না।  অথচ আমদানি ব্যবসা নিয়ে সবাই ব্যস্ত।  রফতানির দিকে কারও নজর নেই। ’

রাজধানী ঢাকার মালিবাগ এলাকার রফতানিকারক ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, প্রতিদিন দুই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে ট্রাক মালিকদের।  ভারতীয় চ্যাংরাবান্ধা কাস্টমসের অনলাইন সেবা কার্যক্রম চালু করার আগে অন্তত যেসব ট্রাক বন্দরে অপেক্ষমাণ রয়েছে সেসব গাড়ি ভারতে নেওয়া উচিত।  তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার অনুরোধ জানান। 

বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা প্রভাষ কুমার রায় বলেন, ‘ভারতীয় চ্যাংরাবান্ধা স্থলবন্দর কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এএসওয়াইকুড সফটওয়ার চালু করায় রফতানির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।  রফতানিকারক ও স্থানীয় সিএন্ডএফ এজেন্ট বিষয়টি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছেন।  আমরাও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।  আমাদের হাতে কিছু করার ক্ষমতা নেই। ’


keya