৩:০৬ পিএম, ১৮ আগস্ট ২০১৯, রোববার | | ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




নিরাপত্তা জোরদার , হংকংয়ে বিক্ষোভে বন্ধ সরকারি দফতর

১৩ জুন ২০১৯, ১০:৪২ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : হংকংয়ে চীন বিরোধী বিক্ষোভে থমকে গেছে পুরো শহরে। 

বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু সরকারি দফতর।  বৃহস্পতিবার সকালে সরকারি দফতরগুলোর সামনে অবস্থান নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। 

মূলত চীন ও তাইওয়ানে অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত প্রস্তাবিত একটি বিলের বিপক্ষে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।  তবে বিক্ষোভকারীদের মূল ক্ষোভ চীনের সঙ্গে এ ধরনের সমঝোতা নিয়ে। 

বেইজিংয়ের দুর্বল আইন এবং মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সেখানে কাউকে ফেরত পাঠানো নিরাপদ মনে করছেন না হংকংয়ের সাধারণ মানুষ।  তারা মনে করছেন, বিলটি পাস হলে তা হংকংয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চীনের হস্তক্ষেপের সুযোগ বাড়িয়ে দেবে। 

বুধবার দিনভর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আন্দোলনকারীদের ওপর রাবার বুলেট ও টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।  আন্দোলনকারীরাও প্লাস্টিকের বোতল ছুড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও তারা অবস্থান নিতে শুরু করেন।  কয়েকশ আন্দোলনকারী মুখোশ ও খাবার নিয়ে দেশটির আইনসভার সামনে ঘোরাঘুরি করতে থাকে। 

তবে এদিন নিরাপত্তা আরও জোরদার করেছে হংকং।  হেলমেট ও ঢাল নিয়ে সেখানে প্রস্তুত শত শত পুলিশ।  পাশেই পুলিশ ভ্যান।  এছাড়া ইউনিফর্মবিহীন পুলিশও রয়েছে।  চেক করা হচ্ছে সকলের পরিচয়পত্রও। 

১৯৯৭ সালে চীনের কাছে ব্রিটেন হংকং পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার পর থেকে দেশটিতে এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।  দেশটির হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুধবার রাত ১০টা পর্যন্ত অন্তত ৭২ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

তবে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করলেও সরকার পিছু হটেনি।  হংকংয়ের আইনি পরিষদ বিতর্কিত ওই অপরাধী প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত বিলটি নিয়ে দ্বিতীয় বৈঠক পিছিয়ে দিয়েছে।  সেটা কবে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়েও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি। 

২০১৮ সালের এক ঘটনার প্রেক্ষিতে এই বিলটি তৈরি করা হয়।  তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।  কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দিবিনিময়ের কোনও চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না। 

কিন্তু এখন তাইওয়ানও জানিয়েছে, সন্দেহভাজন সেই খুনের মামলার আসামিকে ফেরত নিতে চায় না তারা।  কেননা, এটি এমন এক উদাহরণ তৈরি করবে, যা চীন ভবিষ্যতে কাজে লাগাতে পারে। 

হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সাল অবধি অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে দেশটি।  ১৫০ বছর ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনে থাকার পর লিজ চুক্তির মেয়াদ শেষে ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই অঞ্চলটি চীনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। 

হংকংয়ের জনসংখ্যা প্রায় ৭৪ লাখ হলেও, ১২শ’ জনের একটি বিশেষ কমিটি নেতা বাছাইয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান


keya