৫:২৫ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | | ১৪ সফর ১৪৪১




বিদ্যুৎ ভোগান্তিতে অতিষ্ট বিলাইছড়ি-জুরাছড়িবাসী, দেখার কেউ নেই!

১৫ জুন ২০১৯, ০৫:২৭ পিএম | নকিব


পুষ্প মোহন চাকমা, বিলাইছড়ি প্রতিনিধি :  ঈদের আগ হতে টানা প্রায় ১৫ দিন যাবত বৈদ্যুতিক ভোগান্তিতে রয়েছেন বিলাইছড়ি ও জুরাছড়িবাসী। 

গরমে বর্ণনাতীত করুন দিন যাপন করছেন তারা।  ঝর নেই, বাতাস নেই তবু নেই বিদ্যুৎ! এ যেন এক অরাজকতা!

দিনের বেলায় তো বিদ্যুৎ প্রায় থাকেই না।  দুই-এক ঘন্টা পরপর একটু ধু’মারে কিন্তু এক সেকেন্ডও থাকে না।  যদিও বা কিছুক্ষণ থাকে পরক্ষণে বিদ্যুৎ চলে গেলে আর খবর থাকে না।  কোন সময় বিদ্যুৎ আসলেও লো-ভোল্টেজ।  কিছুই চলে না! এভাবেই চলছে বিলাইছড়ি-জুরাছড়ির জনজীবন।  আরও অবাক করার বিষয়, এভাবে কিছুদিন চলতে চলতে গত ১১ জুন হতে দিন-রাত কোন বিদ্যুৎ নেই।  গরমে নিরুপায় ও দিশেহারা দুই উপজেলার জনগণ!

তবে শুধু এই কয়দিনের এমন অবস্থা নয়! প্রতিনিয়ত কারণে-অকারণে এমন বৈদ্যুতিক তিক্ত সমস্যায় জর্জরিত রয়েছেন এই দুই উপজেলাবাসী। 

এসব দীর্ঘদিনের চলমান ভোগান্তি ও তিক্ত বাস্তবতায় সবখানে খালি অভিযোগ বিদ্যুতের ভোগান্তি নিয়ে কিছু লিখতে।  কিন্তু বিদ্যুতের যত সমস্যা তা নিয়ে লিখলে কি কোন কাজ হয়? অনেকেই বলেন বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে লিখলে নাকি কোন কাজ হয়না, বরং আরও উল্টো রিএ্যাক্ট হয়।  বিদু্যুৎ ভোগান্তি নাকি আরও বাড়তে থাকে।  তাই লিখতেও ভয় লাগে এসব বাস্তবতা লিখার পর সত্যি সত্যি উল্টো হয়ে গিয়েছে বলে জনগণ মনে করে যদি গণধোলাই খেতে হয়!

আর বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম লিখতে গিয়ে যদি সত্যি উল্টো রিএ্যাক্ট হয় তাহলে তার কারণটা কি? জনস্বার্থে এবং জনগণের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তথা সরকারের মূল কর্তাব্যক্তিরা কি এ কারণ ও বিষয় জানতে চাইবেন? বা বিষয়গুলো কি খতিয়ে দেখবেন? অথবা বিদ্যুৎ বিভাগ কি সরকার তথা প্রশাসনের বাইরে তার জবাব কি জনগণ পাবেন?

বিলাইছড়ি-জুরাছড়ি বিদ্যুৎ লাইন হতে প্রতিমাসে কম তো বিদ্যুৎ বিল যায় না।  এক ব্যাংক কর্মচারীর তথ্যসূত্রে প্রতিমাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিলে আয় হয় এ লাইনে।  আর লাইন পরিস্কারের জন্য কত টাকা ব্যয় হয়? তাও তো প্রতিমাসে না! বছরে কয়েকবার মাত্র লাইনে কাজ করতে দেখা যায়।  বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে মাত্র। 

অপরদিকে মিটার না দেখে মুখস্ত বিদ্যুৎ বিল তৈরী করে প্রতিমাসে অতিরিক্ত চার্জ নেয়া হচ্ছে তাতেও জনগণ কোন প্রতিবাদ করছে না।  যে ব্যক্তি মাসে ৪০ থেকে ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করে তার নামে বিল আসে ২০০ থেকে ৩০০ ইউনিটের এমনও অনেক দরিদ্র হতভাগা রয়েছেন।  জনস্বার্থে এ অনিয়মগুলোও কি সরকার কখনও খতিয়ে দেখবেন? এ হয়রানি থেকে কি জনগণ কখনও মুক্তি পাবেন?

অভিেেযাগ উঠেছে বিদ্যুৎ লাইনের ঝোপ-ঝাড় পরিস্কার করার জন্য যে বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, সেই বাজেট সংশ্লিষ্ট কোন কর্মকর্তা (আবাসিক প্রকৌশলী) আত্মসাৎ করে ফেলেছেন।  তাই লাইনের ঝোপ-ঝাড় পরিস্কার করা হয়ে ওঠেনি।  এ নিয়ে তাদের মাঝে দ্ব›দ্ব তৈরি হওয়ায় রেষারেষি অবস্থায় লাইন পরিস্কারের কাজ হয়নি।  যার ভোগান্তি ও মাশুন গুণতে হচ্ছে দুই উপজেলার জনগণের। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি (ভারঃ) অংচাখই মার্মা বলেন, বিদ্যুতের এ ভোগান্তির জন্য আমি উপজেলা চেয়ারম্যান এর সাথে যোগাযোগ করেছি।  তিনি উপজেলায় আসলে আমরা এ বিষয়ে আলোচনায় বসব বলে তিনি জানান। 

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ মুজিবুর রহমানের সাথে কথা হতে তিনি বলেন, বিলাইছড়ির লাইন দিলে টিকে না।  দুই-তিন দিন বন্ধ ছিল।  আশাকরি সেগুলো ওভারকাম করতে পারব।  জায়গায় জায়গায় লোক আছে।  ঝোপ-ঝাড়গুলো পরিস্কার করে হয়তো চালু করতে পারব।  আমার আজ রিলিজ অর্ডার হতে পারে।  নতুন আর একটি আবাসিক প্রকৌশলী (আর.ই) আসবে আপনারা তার সাথে কথা বলবেন। 

অভিযোগ উঠেছে বিদ্যুৎ লাইনের ঝোপ-ঝাড় অপসারণের বাজেটের অর্থ কোন এক আবাসিক প্রকৌশলী কর্তৃক আত্মসাত করায় লাইন পরিস্কার করা সম্ভভ হয়নি।  তাই বিলাইছড়ি-জুরাছড়ির জনগণের এ দশা হয়েছে এটা ঠিক কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঠিক না।  কত মানুষ কত কথা বলবে।  মানুষ জেনে না জেনে এসব কথা বলে থাকে। 

উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, বিদ্যুৎ ভোগান্তি বিষয়ে উপজেলা সমন্বয় মিটিং এ আলোচনা হয়েছে।  অনেকে অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত লোড-শেডিং তো হয়, কিন্তু অধিকাংশ সময় থাকে লো-ভোল্টেজ।  পুরো ভোল্টেজ বিদ্যুৎ আসলে দ্রুত চলে যায়।  কিন্তু লো-ভোল্টেজ বিদ্যুৎ আসলে সারাক্ষণ থাকে।  এতে মনে হয় ইচ্ছে করে ভোগান্তি দেওয়া হয় এমন অভিযোগ সমন্বয় সভায় তুলে ধরা হয়। 

তিনি আরও বলেন, বিলাইছড়ি সাব-স্টেশন দ্রুত স্থাপন দরকার।  এছাড়া বিলাইছড়িতে বিদ্যুৎ লাইনে যারা কাজ করে, তারা সবাই মাস্টার রোলে চাকুরী করে।  উপজেলা পর্যায়ে চাকুরী স্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ না দিলে এ সমস্যার অবসান হবে না।