৮:২৮ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার | | ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪০




ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলে ভরা মৌসুমেও ইলিশের আকাল

১৮ জুন ২০১৯, ০৫:২৩ পিএম | নকিব


মোঃ রাজু খান, ঝালকাঠি প্রতিনিধি : মে মাসে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে আবার জেলেদের মুখে হাসি ফিরবে এই আশা নিয়ে বুক বেঁধে থাকলেও ঝালকাঠিসহ দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। 

জেলেরা সারাদিন জাল ফেলেও ২/৪টির বেশি ইলিশ পাচ্ছেন না।  মৎস্য বিভাগের মতে, গত ১ জুন থেকে ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হয়েছে। 

কিন্তু এখনও নদী থেকে জেলেরা ফিরছেন বিষণœ মুখে।  যেন বন্ধ্যা ভূমিতে পরিণত হয়েছে বিস্তীর্ণ ঝালকাঠির সুগন্ধা, বিষখালী, গাবখান এবং মেঘনা ও বরগুনা-পটুয়াখালী সাগর মোহনা।  অপরদিকে সাগরে মাছ ধরায় রয়েছে সরকারী নিষেধাজ্ঞা।  জেলেরা নদীতে জাল বিছিয়েছে।  কিন্তু বিধি বাম।  মৌসুম শুরুর দু’সপ্তাহ পার হলেও ইলিশের দেখা মিলছে না নদীর বুকে। 

সারাদিনে প্রায় ১৬ ঘণ্টায় দু’বার জাল ফেলে মাত্র চারটি ইলিশ পেয়েছেন জেলে অধির মালো।  ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ওই দুটি ইলিশের নিলামে দাম উঠে সাড়ে তিন হাজার টাকা।  তিনি জানান, গত দু’দিনে চারজন মানুষের খাওয়ার খরচই হয়েছে হাজার টাকার মতো।  এখন বেশিরভাগ জেলের একই অবস্থা।  ইলিশ ধরা পড়ছে না শুনে জেলেরা নদীতে নামছেন না।  কেউ কেউ মহাজন, এনজিও’র কাছ থেকে ধারদেনা করতে শুরু করেছেন। 

জেলেদের অভিযোগ, প্রভাবশালী মালিকদের কারণেই নদী এখন ইলিশ শুন্য।  দ্রুত টাকার মালিক হতে নিষিদ্ধ মৌসুমে যে হারে জাটকা আর মা ইলিশ ধরা হয়েছে সে কারণেই এখন আর ইলিশ মিলছে না।  জেলেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই নদী যেন ইলিশ শুন্য হয়ে পড়েছে।  ইলিশ ধরা না পড়ায় জেলেরা নদীতে নামতে চাচ্ছেন না।  মৌসুমের শুরু থেকেই মেঘনায় চলছে ইলিশের আকাল।  জেলে নুরুল ইসলাম ও লতিফ রাঢ়ী জানান, জেলেরা ধার-দেনা করে দিন কাটাচ্ছেন।  জেলেদের আশা আগামি পূর্ণিমার ঢলে হয়তোবা ইলিশ ধরা পড়তে শুরু করবে। 

মৎস্য ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, গভীর সমুদ্রে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং মেঘনাসহ উপক‚লের নদীগুলোতে মৌসুমের শুরু থেকেই ইলিশ মিলছে না।  মোকামে বর্তমানে গত বছরের তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ ইলিশও আসছেনা।  এ কারণে দামও এখন আকাশচুম্বি।  জহির সিকদার বলেন, বর্তমানে কেজি সাইজের ইলিশ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি এক হাজার পাঁচশ’ টাকা দরে।  যা গত বছর বর্তমান সময়ে ছিল এক হাজার টাকা। 


keya