১২:৩৩ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১




পাথরঘাটার অগ্নিদদ্ধ গৃহবধূ সাজেনুরের মৃত্যু

২০ জুন ২০১৯, ০৫:৩৩ পিএম | নকিব


মোঃ মেহেদী হাসান,বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনার পাথরঘাটার অগ্নিদদ্ধ গৃহবধূ সাজেনুর বেগম (৩০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে মারা গেছেন। 

গত ১২ জুন তার সাবেক স্বামী ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিলে ঘটনাস্থলেই সাজেনুরের মেয়ে মারা যায়। 

স্বামী মো. বেলাল হোসেন ৪ কিলোমিটার দূরে পূর্ব হাতেমপুর গ্রামে আমগাছের সাথে দড়িতে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।  সাজেনুরের সাথে থাকা তার ভগ্নিপতি টেলিফোনে ঢাকা থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

 পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুহিতা গ্রামের গৃহবধূ সাজেনুর বেগম (৩০) এর বাবার বাড়িতে তার সাবেক স্বামী মো. বেলাল হোসেন গত ১২ জুন গভীর রাতে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়।  আগুন টের পেয়ে ঘর থেকে বের হতে না পারায় ঘরের মধ্যে সাজেনুরের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে সাকিনা আকতার কারিমা (১০) পুড়ে মারা যায়। 

সাজেনুরকে ১৩ জুন পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ভর্তি করা হলে চিকিসৎসক তার শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে বলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাালে রেফার করে।  বরিশাল থেকে ১৪ জুন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করে।  এক সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে লড়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।   

সাজেনুরের ভগ্নিপপতি মো. ইব্রাহিম মিয়া সকালে টেলিফোনে জানান, আইসিউতে থাকা অবস্থায় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।  আজ তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে বাড়িতে আনা হবে। 

 উল্লেখ্য, প্রায় দেড় বছর আগে চট্রগ্রামে পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় সাজেনুরের সাথে বেলালের বিয়ে হয়।  পরস্পরের বনিবনা না হওয়ায় গত ২৮ মে সাজেনুর মো. বেলালকে একতরফা তালাক দেয়।   

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে সাজেনুরের ভগ্নিপতি মো. ইব্রাহিম জানান, আগুনে সাজেনুরের শ্বাসনালি ক্ষতগ্রস্ত হয়েছিল।  ঢাকায় মৃত্যুর আগে তার স্বামীর পক্ষ হয়ে অনেকে ফোনে হুমকি দিত তার বিবরণ দিয়ে গেছেন বলে ইব্রাহিম দাবি করেন। 

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হানিফ সিকদার টেলিফোনে জানান, গত ১৩ তারিখ সাজেনুরের বাবার রুজু করা মামলা তদন্তাধীন।  সাজেনুরের মৃত্যু সংবাদ থানায় তার আত্মীয় জানিয়েছে। 


keya