৯:৪৬ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১




শ্রীপুরে কৃষকদের বাড়ী বাড়ী না গিয়েই করা হলো কৃষি শুমারী !

২৫ জুন ২০১৯, ০৪:৫৭ পিএম | নকিব


আলফাজ সরকার আকাশ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ  গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত সরকারের কৃষি শুমারির কাজ শেষ হলেও তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি না গিয়ে অন্যের কাছে শুনে তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

২৫ জুন মঙ্গলবার  সকালে সরেজমিনে  উপজেলার রাজাবাড়ী  ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ী, গোসিংগা ইউনিয়নের পেলাইদ,বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়িতে না গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।  তারা গ্রামে এসে শুধু মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং কোনো প্রশ্ন করেননি বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন। 

গত ৯ জুন কৃষি শুমারির কাজ শুরু হয়ে ২০ জুন (বৃহস্পতিবার) কৃষি শুমারির কাজ শেষ হলেও এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করেনি তথ্য সংগ্রহকারীরা।  

এছাড়াও কোনো কোনো তথ্য সংগ্রহকারী নামে মাত্র তথ্য সংগ্রহ করেছেন।  এলাকায় গিয়ে শুধু ব্যক্তির নাম এবং মোবাইল নম্বর নিয়ে গেছেন।  আবার অন্য বাড়িতে বসে এক সঙ্গে দশটি বাড়ির তথ্য সংগ্রহ করার অভিযোগ উঠেছে। 

পৌর এলাকার লোহাগাছ গ্রামের কৃষক হাজী শাহাব উদ্দিন মোল্লা ও হাজী সিরাজ উদ্দিন বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীরা আমাদের বাড়ীতে আসেনি।  তথ্য আমাদের কাছ থেকে না নিয়ে অন্যের কাছ থেকে নিয়েছেন বলে শুনেছি।  অনেকের বাড়িতে তারা আসেননি বলেও জানান তারা। 

রাজবাড়ী ইউনিয়নের বিন্দুবাড়ী  গ্রামের নুরুল ইসলাম জানান, কৃষক হিসেবে আমি কার্ডধারী একজন ব্যক্তি।  সরকারের কাছে কৃষকের সঠিক তথ্য দিলে আমরা উপকৃত হতাম।  কিন্তু এ ব্যাপারে তথ্য নিতে আমার বাড়ীতে আসেনি কেউ। 

পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ড (শ্রীপুর বাজারের দক্ষিন পাড়ার) বাসিন্দা বিল্লাল হোসনে  জানান, আমরা পুরাতন কৃষক।  কৃষকের সকল তথ্যই নিতে হবে।  আমার ফসলী জমি,পুকুর, কৃষি আয় সম্পর্কে বিস্তারিত।  কিন্তু আমার বাড়ীতে এসে তথ্য সংগ্রহকারী তার মোবাইল টিপিতে টিপতে শুধু আমার নাম আর আমি কি করি জিজ্ঞেস করে চলে যায়।  

বরমী ইউনিয়নের পাঠানটেক গ্রামের যুবলীগ নেতা শামীম শেখের পিতা চাঁন মিয়া শেখ জানান, আমাদের মতো সাধারণ কৃষকদের শুমারীর আওতায় আনা দরকার।  কিন্তু তথ্য নিতে সরকারের কোন লোকই আসেনি।  একজনের বাড়ীতে বসেই সকলের তথ্য নেয়া হচ্ছে। 

গোসিংগা ইউনিয়নের পেলাইদ গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির আকন্দ ও তার তার ভাই আকতার হোসেন আকন্দ জানান, সরকার কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে।  কিন্তু সেগুলো সঠিক ভাবে কৃষকদের হাতে পৌঁছাতে প্রকৃৃত কৃষি শুমারী প্রয়োজন।  কিন্তু আমাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন তথ্য নিতে আসেনি। 

কিছু বাদ পড়বেই এমন কথা জানিয়ে, গোসিংগা ইউনিয়ন ও শ্রীপুর পৌরসভার দায়িত্বে থাকা কৃষি শুমারীর জোনাল অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, এতো গননার মধ্যে কিছু বাদ থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।  তবে এগুলো সম্পর্কে পুনরায় গননা করা হবে।  

প্রথমে এলপিআর ও পরে পেনশনে থাকার কারনে দীর্ঘ ১বছর শ্রীপুর উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদটিতে কর্মকর্তা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্বে থাকা এস আই স্বপন মিয়া জানান,এ উপজেলায় সকল ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভাকে মোট ৯টি জোনে ভাগ করে কৃষি শুমারীর তথ্য সংগ্রহ করা  হয়েছে।  প্রতি জোনে কয়েকজন সুপারভাইজারের অধিনে জনপ্রতি ৫ জন করে তথ্য সংগ্রহকারী মাঠে কাজ করেছে।  কোথাও যদি বাদ পড়ার ঘটনা ঘটে তবে খোঁজ নিয়ে এগুলোও সংগ্রহ করা হবে।  

গাজীপুর জেলা পরিসংখ্যান অফিসের উপপরিচালক (ভারপ্রাাপ্ত) সোনিয়া আরেফিন জানান, কৃষি শুমারীর তথ্য সংগ্রহে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।  যে সকল জোনাল অফিসের আওতাধীন খানার তথ্য বাদ পড়েছে আগামী ৩০ তারিখের মধ্যে সেগুলো সংগ্রহ করা হবে।