৫:৩৪ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | | ১৪ সফর ১৪৪১




নান্দাইলের পল্লীতে গণধর্ষণের শিকার তরুণী , ৪ জনের নামে মামলা

২৬ জুন ২০১৯, ০২:১৮ পিএম | নকিব


মো. শাহজাহান ফকির, নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের কালিগঞ্জ বাজারে একটি টেইলার্সের দোকানে বিয়ের প্রলোভনে তরুণীকে ডেকে এনে প্রেমিক মো. শামীম মিয়া (২৫) সহ তার তিন বন্ধু রাতভর গণধর্ষণ করে অজ্ঞান অবস্থায় তরুণীকে কালিগঞ্জ বাজার সংলগ্ন একটি ব্রীজের নীচে ফেলে দেয়। 

মঙ্গলবার রাতে নান্দাইল মডেল থানায় ধর্ষিতা তরুণীর দায়েরকৃত এজাহার ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানাযায়, নান্দাইল উপজেলার মুশুলী ইউনিয়নের চংভাদেরা গ্রামের মজনু মিয়ার পুত্র মো. শামীমের সাথে উক্ত তরুণীর গত দুই মাস ধরে মোবাইল ফোনে প্রেমালাপ চলছিল। 

সোমবার রাতে শামীম তাকে বিয়ে করবে বলে ময়মনসিংহ জেলা শহর থেকে একটি সিএনজি চালিত অটোবাইকে কালিগঞ্জ বাজারে নিয়ে এসে তার দোকানে ঢুকিয়ে বাহির থেকে দোকানের সাটার লাগিয়ে দেয়। 

পরবর্তী সময়ে তিন বন্ধু যথাক্রমে বনাটি গ্রামের কাঞ্চন মিয়ার ছেলে রিপন, বাহাদুরপুর গ্রামের গনু মিয়ার ছেলে হাবিব ও অজ্ঞাত আরেকজন সহ তরুণীকে অস্ত্রের মুখে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করে।  একপর্যায়ে তরুণী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে মৃতভেবে স্থানীয় একটি ব্রীজের নিচে ফেলে রেখে চলে যায় ধর্ষকরা।  সকালে এলাকাবাসী উক্ত তরুণীকে অর্ধমৃত অবস্থায় ব্রীজের নিচ থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নান্দাইল মডেল থানার পুলিশকে অবহিত করে। 

পরে মঙ্গলবার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় এবং হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে উক্ত তরুণী বাদী হয়ে ৪ ধর্ষকের নামে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে।  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. লিটন মিয়া জানান, বুধবার (২৬ জুন) উক্ত তরুণীকে মহিলা পুলিশের মাধ্যমে মেডিকেল টেস্ট করানোর জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। 

উক্ত গণধর্ষনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  তবে পুলিশ ধর্ষণকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি।  স্থনাীয় অনুসন্ধানে জানাগেছে ধর্ষক শামীম একাধিক বিয়ে করেছে ও রিপন একাধিক ধর্ষনের ঘটনায় জড়িত এবং স্থানীয়ভাবে এই যুবকদের একাধিক অসামাজিক কাজের অভিযোগ রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান।