১২:৩৭ এএম, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ২৩ মুহররম ১৪৪১




বাঘাইছড়িতে ভূমি দস্যুর কবলে প্রতিবন্ধী জহিরুলের বসতভিটা

২৯ জুন ২০১৯, ১১:২১ এএম | নকিব


জগৎ দাশ,বাঘাইছড়ি, প্রতিনিধি : পার্বত্য জেলা  রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় প্রভাবশালী ব্যাক্তিদ্বারা ভূমি দস্যুর কবলে পড়ে সহায় সম্বল হারাতে বসেছে অসহায় বাক প্রতিবন্ধী  জহিরুল ইসলাম। 

এদিকে অসহায় জহিরুল ইসলামের মমতাময়ী মা  আছিয়া বেগম ছেলের ক্রয়কৃত জমির ষ্ট্যাম্প হাতে নিয়ে গুরে বেড়াচ্ছে সমাজের বিচারকদের ধারে ধারে। 

প্রতিবন্ধী ছেলের বসত জমি ফিরে পেতে।  জানাযায়, জহিরুল ইসলামের মা  সুষ্ট বিচার ও সমাধানের  প্রার্থনা করে লিখিত আবেদন করেছেন মেয়র বাঘাইছড়ি পৌরসভা,জেলা প্রসাশক রাংগামাটি পার্বত্য জেলা ও জোন কমান্ডার ২৭ বিজিবি মারিশ্যা জোন। জানাযায়, উপজেলার হাজীপাড়ায় ২০০৩ সালে বসত ঘর করার লক্ষে বাবুপাড়ার স্থানিয় নন্দলাল চাকমা থেকে ধন্য জমি(০.৩০)  শতক ষ্ট্যাম্প মূলে ক্রয়ে করেন জহিরুল ইসলাম।  নিচু জমি হওয়াতে বসত ঘর করার লক্ষে মাটি ভরাট করে বসতি ঘর নির্মান করে  স্ত্রী সন্তান নিয়ে বসবাস করতে থাকেন জহিরুল ইসলাম।  নিয়তির নির্মম পরিহাস সুখে বসবাস করার কিছুদিন যেতে না যেতে অসুস্থ হয়ে পরে জহিরুল। 

চিকিৎসার জন্য স্থানিয় হাসপাতালে ভর্তি করেন তাকে স্বাস্থ্যের অবনতি দেখে পরিবারে পক্ষ থেকে চট্রগ্রাম, ঢাকা সহ বিভিন্ন ভাবে স্থানিয় বৈদ্য কবিরাজের স্বরনাপূর্ণ হয় ছেলেকে সাথে নিয়ে মমতাময়ী  মা আছিয়া খাতুন। পরে পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয় জহিরুলকে। অধ্যাপক ডাঃসৈয়দ মাহ্ফুযুল হক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ সহ অনেক ডাক্টারের চিকিৎসা ব্যবস্তা পত্র দেখান জহিরুলের মা আছিয়া খাতুন। 

সমাজসেবা অধিদফতর কতৃক প্রতিবন্ধী সনদ ও ভাতা গ্রহনের বই দেখান এই প্রতিবেদককে মা আছিয়া খাতুন। জমি ক্রয়ের ষ্ট্যাম্প মূলে জানাযায়, জমির প্রকৃত মালিক নন্দলাল চাকমা বাবু পাড়া হতে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৭৮ নং মারিশ্যা মৌজার  ৩৫৯(খ),খতিয়ানের ৩০৪৬ নং দাগের ০.৩০ শতক জমি তৎকালিন সময়ে ৩০ হাজার টাকা মূল্য ক্রয় করে জহিরুল ইসলাম। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে জহিরুল ইসলাম ক্রয়কৃত জমিটি নিজের নামে রেকর্ড পূর্বক বা রেজিস্টার করতে পারেনি। এদিকে জমির মালিক নন্দলাল চাকমা পাড়ি জমায় খাগড়াছড়ির দিঘিনালা উপজেলার বাবুছড়া এলাকায়। হঠাৎ করে ১৫ সালের এপ্রিল মাসে রাংগামাটি কোর্ট আপত্তি মূলক আবেদন করে বসে জহিরুলের বসত ভিটার মালিক মোঃ ছিদ্দিক আলি ও হাসান আলি নামের ২ জনৈক ব্যাক্তি। আদালতে আবেদন কারি জমির মালিক সেজে জনৈক ২ জমির মালিকের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত নোটিশ জারি করেন।  

আদালতের নোটিশ জারীর প্রতিবেদন তৈরির দায়িত্ত্ব প্রস্তত কারক মোঃআলগির জাহান উপ-পরিদর্শক বাঘাইছড়ি থানা। ওই প্রতিবেদনে আলমগির জাহান বলেন,বিবাদীগন ১২/১৩ যাবৎ ভোগ দখলে আছেন। এছাড়া উক্ত মহল্লার সকল লোকজনের একই অভিমত। বাদী মোঃ হাসান ও মোঃ ছিদ্দিক আলি দ্বয় কখনো জহিরুলের বসবাসকৃত বাড়ি তাদের বলে দাবী করেনি বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন উপ-পরিদর্শক আলমগির জাহান। ঘটনার সংগে সংগে জহিরুলের ভাই ও ইউএনও অফিসের সাবেক কর্মচারী মোঃফরিদ কে সংগে নিয়ে জমির মালিকের নিকট খাগড়াছড়ির দিঘিনালা বাবুছড়ার বাসায় যান। রফিক ও সংগিয় ফরিদ জমির মালিক নন্দলালকে প্যারালাইসেস রোগে আক্রান্ত অবস্তায় দেখতে পান। তখন ফরিদ নন্দলালকে চাকমাকে বলেন, জমি রেজিস্টার কি করে হবে তোমার যে অবস্থা হুইল চেয়ারে বসা। 

এদিকে ওই জমি জনৈক ছিদ্দিক আলি ও হাসান আলির বলে দাবী করছে তাদের নামে জমি রেজিস্টারি আছে বলে দাবী করেন। তখন জমির মালিক বলেন, জহিরুল জমি ক্রয় করে ২০০৩ সালে তখন থেকে সে বাড়িঘর তৈরি করে আছে।  ছিদ্দিক আলি ও হাসান আলি জমি ক্রয় করে ২০১৩ সালে তবে কেউ জমি রেজিস্টারি করেনি বলে যানান জমির মালিক নন্দলাল চাকমা। এদিকে  জহিরুল চিকিৎসা খরচ জোগারে তার অন্যকোন উপায় না থাকায় তার ক্রয়কৃত জমি থেকে ৮ শতক জমি বিক্রি করে দেন মোক্তার আহম্মদের নিকট। জমি ক্রয়ের পর থেকে দুই 

পরিবার দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করতে থাকে জহিরুল। এদিকে বিপত্তি ঘটে এপ্রিল/১৯ইং বাঘাইছড়িতে আকস্মিক শিলা বৃষ্টিতে জহিরুলের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার পরিবার থেকে ঘর মেরামত করতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ বাধাদেয় ঘর মেরামতে। পরেরদিন উভয় পক্ষ থানায় উপস্থিত হয় তবে কোন সিদ্ধান্ত ছাড়ায় উভয় পক্ষ চলে আসেন। এদিকে প্রতিবন্ধী জহিরুলের মা বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবে ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি আবেদন করলে,প্রেস ক্লাবের পক্ষে সাংবাদিক জগৎ দাশ,আবু নাছের,মোঃওমর ফারুক সহ ঘটনা তদন্তে সরেজমিন ঘটানাস্থলে যান। স্থানীয়দের মতামত গ্রহন,জমি ক্রয় বিক্রয়ের শাক্ষি সহ খাগড়াছড়ির দিঘিনালা উপজেলায় নন্দলালের বাড়ি গিয়ে পৌঁছেন প্রেস ক্লাব তদন্ত টিম। নন্দলালের বাড়িতে  বয়োজ্যেষ্ঠ বৃদ্ধা তার সহধর্মীনী ভাদ্রবতি চাকমা সাথে কথা হয় তার কাছ থেকে নন্দলালের বড় ছেলে বিনয় চাকমার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে ফোন দেওয়া হয়। বিনয় চাকমা প্রেস ক্লাব তদন্ত টিমকে বলেন, উনি দিঘিনালা শিক্ষা অফিসে আছেন বিদ্যালয়ের কাজে।  তিনি বাবুছড়া মুকুন্দনিলীমা ভোকেশনাল ইনষ্টটিউটের প্রধান শিক্ষক। দির্ঘ অপেক্ষার এক পর্যায়ে বিনয় চাকমার সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের তিনি বলেন,তার বাবা নন্দলাল চাকমা স্ট্রোক করে প্যারালাইসেস রোগে আক্রান্ত হয়ে দির্ঘবছর ঘরে শয্যাসায়ী ছিলেন ২০১৫ সালে তার বাবার মৃত্যু হয়। তবে বিনয় চাকমা বলেন,তার বাবা নন্দলাল চাকমা বলেছেন  বাঘাইছড়িতে জমি বিক্রয়ের কথা তবে কাউকে জমি রেজিস্টারি করে দেওয়া হয়নি। 

এক পক্ষের নিকট জমি রেজিস্টারি দেওয়ার কথা বললে তখন বিনয় চাকমা বলেন আমার বাবা কাউকে জমি রেজিষ্টার দেয়নি। যদি কেউ বলে থাকেন জমি রেজিষ্টার পেয়েছেন তবে কিভাবে পেয়েছে তার ব্যাপার। আমি এই ঘটনার তিব্র নিন্দা জানায়। এবং দোষিদের আইনের আওতায় আনতে প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। বিনয় চাকমাকে বাঘাইছড়ি গিয়ে সমস্যা সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হলে তখন তিনি বলেন,একবার জমি সংক্রান্ত কাজে বাঘাইছড়ি যান তিনি হেডম্যানের বাড়ি নিয়ে যাওয়ার কথা বলে তাকে মারধর বা লাঞ্চনার শিকার হতে হয়। তিনি কখনো বাঘাইছড়ি আসবেননা বলে জানান এই প্রতিবেদকে। যা ভিডিও রেকর্ড ধারন করা সহ সংরক্ষণ রয়েছে।  এদিকে ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে  ছিদ্দিক আলী ও হাসান আলীর বক্তব্য গ্রহন করতে গিয়ে উভয়ের কথায় ভিন্নতা পাওয়া যায়। সবশেষে প্রেস ক্লাবের তদন্ত টিম বক্তব্য নেয় রাইটার বোরহান উদ্দিনের সাথে।  রাইটার বোরহান উদ্দিনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,আমি দরখাস্ত লিখি মাত্র রেজিষ্টার করিনা। এই প্রতিবেদকের আরেক প্রশ্নে রাইটার বোরহান উদ্দিন বলেন,আমাকে কেউ যদি বলে আমি অফিসের সাথে কথা বলে জমি রেজিষ্টার করে দিয়। তবে কারো জমি কারো নামে রেকর্ড করে দিয়না। কিছুদিন পূর্বে আপনি এসব অপরাধে জরিত থাকায় রাঙামাটির জেল হাজত বাস করেছেন ও জেলা প্রশাসক এলাকায় আপনার যাতে কোন উপস্থিতি না দেখে সে ব্যাপারে জমি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা সহ অফিসে নোটিশ জারির কথা শুনা গেছে। তখন তিনি বলেন না এসব মিথ্যা। 

এদিকে প্রতিবন্ধী জহিরুলের বিষয়ে তদন্ত করছে প্রেস ক্লাব এই খবর পেয়ে ভুক্তভোগী অনেকে অভিযোগ করেছে রাইটার বোরহান দির্ঘদিন যাবত এই কাজে জড়িত।  তিনি কন্ট্রাকের মাধ্যমে অসাধ্যকে সাধন করে অন্যের জমি যে কারো নামে করে দেওয়া ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। 

 এদিকে রাইটার বোরহানের দ্বারা ক্ষতি গ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন,মুক্তিযোদ্ধা  মুক্তার হোসেন,মোটসাইকেল ড্রাইভার মোঃ হামিদ,ব্যবসায়ী তপন বড়ুয়া,রফিক মিস্ত্রী, নন্দ চাকমা,জ্যােতিষমান চাকমা সহ অসংখ্য ভুক্তভোগী রয়েছে যে রাইটার বোরহান উদ্দিন অর্থের বিনিময়ে অন্যের জায়গা রেজিষ্টারের কন্ট্রাক করে দেন। এরপর একে অপরে মামলা বয়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য জমির মালিক। ক্ষতিগ্রস্তরা ভয়ে কিছু বলতে পারেনা তার সাথে অনেক ক্ষমাধর লোকের আনাগোনা আছে বলে।  রাইটার বোরহানের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করেন ভুক্তভোগী   এলাকাবাসী। এদিকে প্রতিবন্ধী জহিরুল ইসলামের মা আছিয়া খাতুন ছেলের জমি ফিরে পেতে প্রসাশনে হস্তক্ষেপ কামনা সহ রাইটার বোরহান ও জহিরুলের জমি দাবীকারী ব্যক্তদ্বয়ের  শাস্তির দাবী সহ জমির সমস্যা কৃত সমাধান চায় মমতাময়ী মা আছিয়া খাতুন। 


keya