৬:২২ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০




আন্দোলনকারীদের জঙ্গি বলায় ইবি শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদী মানববন্ধন

০৩ জুলাই ২০১৯, ০৬:১৪ পিএম | নকিব


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ,ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীর দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অনুষদীয় সভা থেকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি আখ্যা দেওয়ার প্রতিবাদে মানবন্ধন করেছে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার (৩ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রশাসন ভবনের সামনে মানববন্ধন করে তারা। এসময় তারা শিক্ষকদেরকে তাদের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং ডিগ্রী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেন। 

'আমি কি জঙ্গী?' 'চাইতে এলাম ডিগ্রি হয়ে গেলাম সন্ত্রাসী' 'আর নয় কালক্ষেপণ এবার চাই বাস্তবায়ন' 'যে তদন্ত কমিটি আমাদের জঙ্গি বলে তাদের সিদ্ধান্ত মানি না' ইত্যাদি শ্লোগান সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানববন্ধনে  অংশগ্রহন করেন শিক্ষার্থীরা। 

মানববন্ধনে আব্দুল্লাহ আল মাহাদী নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, "চেয়েছিলাম ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি হয়ে গেলাম জঙ্গি।  আমরা যদি জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হই তাহলে যে সকল শিক্ষকরা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির আশ্বাস দিয়েছেন তারা জঙ্গির মদদদাতা।  একজন শিক্ষক তাদের সন্তানকে আন্দোলনের কারণে কিভাবে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী উপাধি দেয় তা আমাদের বোধগম্য নয়।  অচিরেই এই শব্দদ্বয় অনুষদীয় মিটিংয়ে লিখিতভাবে বাতিল করতে হবে। "

এ বিষয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মমতাজুল ইসলাম বলেন, "অনুষদীয় সদস্যরা তাদের কার্যক্রমকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীমূলক কার্যক্রম বলে আখ্যা দিয়েছেন।  পরবর্তীতে একাডেমিক কাউন্সিলে এই শব্দ দুটি এক্সপাঞ্জ করা হয়েছে। "

মানববন্ধন থেকে একটি প্রতিনিধিদলকে কার্যালয়ে ডাকেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী। 

উপাচার্য জানান একাডেমিক কমিটির সভায় শিক্ষকদের সামনেই এটি বাতিল করা হয়।  তবে শিক্ষার্থীরা অনুষদীয় সভায় এটি লিখিতভাবে বাতিলের দাবি করেন।  এ ছাড়া যে কমিটি তাদের জঙ্গি বলে তাদের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীরা মানবে না বলেও জানায় আন্দোলনকারীরা। 

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ ৯ মাস ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন করছে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদভুক্ত শিক্ষার্থীরা।  পরে গত ২৪ এপ্রিল অমরণ অনশন করে আন্দালনকারীরা।  এ সময় সারারাত অনুষদের দুজন শিক্ষককে আটকে রাখে তারা।  এ ঘটনাকেই অনুষদীয় সভার শিক্ষকরা জঙ্গি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম বলে দাবি করেন।  শিক্ষার্থীদের কতৃক আটকে রাখা শিক্ষদের মুক্ত করতে অভিযান চালিয়ে সেই রাতে ২২ জন শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।  যদিও আন্দোলনের ফলে পরের দিন তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।