১২:৪২ পিএম, ২১ জুলাই ২০১৯, রোববার | | ১৮ জ্বিলকদ ১৪৪০




প্রধান শিক্ষকের দায় স্বীকার, পিরোজপুরে স্কুলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ

০৬ জুলাই ২০১৯, ০৭:১২ পিএম | নকিব


দেলোয়ার হোসাইন,পিরোজপুর, প্রতিনিধি :  পিরোজপুর সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে স্কুলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। 

আর তিনি টাকা আত্মসাতের দায় স্বীকারও করেছেন। 

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ সড়ক প্রমস্তকরণের জমি অধিগ্রহন ও অবোকাঠামোর ক্ষতিপুরণের টাকা উত্তোলনের পর স্কুলের তহবিলে জমা না করে প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের এক ভয়াবহ কান্ড ঘটিয়েছেন। 

তবে প্রধান শিক্ষক এ ঘটনা এখন মূল নায়ক হলেও তার সাথে একটি বড় চক্র জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে।  টাকা আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর জানা গেছে পিরোজপুর-নাজিরপুর- গোপালগঞ্জ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য পিরোজপুর শহর তলির কদমতলা জর্জ হাইস্কুলের মালিকানাধীন প্রায় সাড়ে ২২ শতাংশ জমি ২০১০-২০১১ সনে সরকার অধিগ্রহন করে।  এ জন্য ক্ষতিপুরণ হিসেবে ওই স্কুলের নামে ৬৭ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং অবোকাঠামো ক্ষতিপূরণ বাবদ ৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়।  স্কুলের প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র সাহা স্কুলের বদলে নিজের নামে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল ও ১৬ মে দু ’ দফায় ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করেছেন। 

পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের জমি অধিগ্রহন শাখার চোখ এড়িয়ে একটি চক্রের সহায়তায় এ টাকা স্কুলের পরিবর্তে প্রধান শিক্ষকের নিজের নামে বরাদ্দ হয়।  এবং সোনালী ব্যাংক থেকে তিনি তা উত্তোলন করেন।  তবে জানা তার সহায়তাকারিগণও টাকার ভাগিদার হয়েছেন।  প্রধান শিক্ষকের মহা লুটপাটের কাহিনী ফাঁস হলে এলাকাবাসি তোলপাড় সৃষ্টি করেন।  অপরদিকে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন।  বর্তমান জেলা প্রশাসক পিরোজপুর সদর উপজেলার সহকারি কমিশনারকে (ভুমি) এ ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। 

এ দিকে স্কুল এলাকার প্রভাবশালিদের চাপের মুখে প্রধান শিক্ষক গৌতম চন্দ্র সাহা হাতিয়ে নেওয়া ৩৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকার মধ্যে গত ১৩ জুন স্কুলের সঞ্চয়ী হিসাবে ১০ লাখ টাকা জমা দিয়েছেন।  বাকি টাকা থেকে আরো ১০ লাখ টাকা আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দেওয়ার অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন।  দু’বছর আগে স্কুলের টাকা উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা দেননি এ কথা তিনি স্বীকার করেছেন।  তিনি সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন ওই টাকাগুলো একটি চক্রের সাথে ভাগবাটোয়ারা হয়েছে। 

প্রধান শিক্ষক বলেন ২০১৭ সালে পিরোজপুরে কর্মরত একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সহায়তায় তিনি এ দুর্নীতি করেছেন।  এ বিষয়ে পিরোজপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক আবু আলী মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন তিনি এলাকাবাসীর নিকট থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। 


keya