৫:৪৬ পিএম, ১২ নভেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার | | ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ইস্যু মামলায় ৫জনের জামিন মঞ্জুর

০৯ জুলাই ২০১৯, ১১:২৫ এএম | নকিব


সাকলাইন শুভ, বড়াইগ্রাম(নাটোর) প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্বে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় দায়ের করা একটি মিথ্যা মামলায় ৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত।  

সোমবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত বড়াইগ্রামের বিচারক মোঃ খোরশেদ আলম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।  মামলা পরিচালনা করেন নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সাবেক সাংসদ শহীদ রফিক উদ্দীন সরকারের জৈষ্ঠ পুত্র, জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক, নাটোর জর্জ কোর্টের সিনিয়র অাইনজীবি ও স্পেশাল এ.পি.পি এডভোকেট আরিফুর রহমান সরকার। 

জামিন প্রাপ্ত ব্যক্তিরা হোলেন- চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এহিয়া উল আলম (এহিয়া মাষ্টার), চান্দাই ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও কিংবদন্তি ফুটবলার জুলফিকার সরকার টিক্কা, যুবলীগ নেতা বাকি বিল্লাহ্, সান্টু মোল্লা ও বাচ্চু প্রামানিক। 

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, বড়াইগ্রাম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ইস্যুতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী পার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক প্রভাষক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলুর আনারস মার্কার অফিসে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ডা: সিদ্দিকুর রহমানের উপস্থিতিতে ও তার নেতৃত্বে অতর্কিত হামলা চালায়।  এতে চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রভাষক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলুর সমর্থিত চার জন কর্মী গুরুতর আহত হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চান্দাই বাজারে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর নেতৃত্বে কয়েকটি হাইচ ও ১টি ট্রাকে করে ভাড়াকরা মাদক সেবী ও তার ক্যাডার বাহিনী শর্টগান, পিস্তল ও লাঠিসোটা নিয়ে চান্দাই বাজারে সতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী প্রভাষক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলুর আনারস মার্কা প্রতিকের অফিসে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়।   হামলায় প্রভাষক মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলুর আনারস মার্কা সমর্থিত কর্মী চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এহিয়া-উল-আলম, যুবলীগ নেতা বাকি বিল্লাহ্, যুবলীগ কর্মী সান্টু মোল্লা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয় এবং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কর্মী বাচ্চু প্রামানিক হাত ভাঙ্গার পর গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  পরে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ কর্মী বাচ্চু প্রামানিকের অবস্থার অবনতি হলে তাকে বনপাড়া আমেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।  এঘটনায় অবস্য ঐ রাতেই ৮ জনকে আসামী করে অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দ্বায়ের করেন কেন্দ্রীয় নির্মান শ্রমিক লীগের অান্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়র জিয়াউর রহমান সরকার। 

হামলার পর পথসভায় বক্তব্য শেষে চান্দাই ইউনিয়নের দেওগ্রামের মৃত ফরজ মোল্লার ছেলে, দেওশীন উচ্চ বিদ্যালয়ের তথাকথিত শিক্ষক অাওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশকারী সিদ্দিক পাটোয়ারীর অনুসারী মজিবুর রহমান (টুকু) বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে বাদী হয়ে মূল ঘটনার উল্টো বিবরন দিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান সরকার, জয়যাত্রা টিভির নাটোর প্রতিনিধি সাকলাইন শুভ, যুবলীগ নেতা টিক্কা সরকার, আহত চান্দাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক এহিয়া মাষ্টার, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত যুবলীগ নেতা বাকী বিল্লাহ্সহ মোট ১৮ জনের নামে মিথ্যা অভিযোগ দ্বায়ের করেন।  পরে মামলার অাইও রেজাউল করিম মামলাটি তদন্ত করে ৫ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করে। 

এ ব্যাপারে চান্দাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা অাওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক আনিসুর রহমান সরকার বলেন, সিদ্দিক পাটোয়ারী বামদল থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদানকারী অর্থাৎ অনুপ্রবেশকারী।  পাটোয়ারীর পরিকল্পিত প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও কালো টাকায় ভাড়করা কয়েকজন চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দিয়ে তার সয়ং উপস্থিতিতে ও নেতৃত্বে জামায়াত ইসলামের ক্যাডার মাদক মামলা সহ মোট ৮মামলার অাসামী ওয়াদুদ ও কয়েকজন ইয়াবা সেবী অস্র সহ হামলা চালায়।  এই ঘটনায় মোয়াজ্জেম হোসেন বাবলুর ৪জন কর্মী গুরুতর আহত হয়।  যারা আহত হয়েছিলো তাদের সবাই আওয়ামীলীগ পরিবারের।  আওয়ামীলীগের প্রার্থীর উপস্থিতিতে জামায়াত শিবিরের ক্যাডারের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের কর্মীদের উপর যে হামলা হয়েছিলো তা অত্যান্ত দুঃখ জনক।