৯:৩০ পিএম, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ১৭ সফর ১৪৪১




ডিএনসিসিতে অনিয়ম: ভুয়া গ্যাস বিল পরিশোধ এক কোটি ৮৬ লাখ টাকার

০৯ জুলাই ২০১৯, ০৩:১৯ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : সিএনজি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও ‘পৌর ফিলিং স্টেশন’-এর নামে এক কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৬০ টাকা ভুয়া গ্যাস বিল পরিশোধ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। 

সংস্থাটির ২০১৩-১৪ অর্থবছরের অডিটে এই অনিয়ম ধরা পড়েছে।  সরকারের অডিট বিভাগ এই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণসহ তাদের কাছ থেকে এই টাকা আদায়ের সুপারিশ করেছে। 

ডিএনসিসির মেয়র বলছেন, অডিটের সুপারিশ অনুযায়ী দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর সায়েদাবাদে অবস্থিত পৌর ফিলিং স্টেশনে কেবলমাত্র অকটেন ও ডিজেল সরবরাহ এবং বিক্রি করা হয়। এখানে সিএনজি সরবরাহের কোনও ব্যবস্থা নেই।  অথচ ডিএনসিসির পরিবহনপুলের বিভিন্ন গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ দেখিয়ে ওই ফিলিং স্টেশনের নামে এক কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হাজার ৯৬০ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।  ডিএনসিসির পরিবহনপুল বিভাগের বিভিন্ন গাড়ির বিল ভাউচার ও অন্যান্য রেকর্ড যাচাই করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। 

সরকারের অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এটি কোনও সিএনজি গ্যাস স্টেশন নয় এবং উক্ত ফিলিং স্টেশন হতে কোনও সিএনজি সরবরাহ করা হয়নি।  কিন্তু এক্ষেত্রে ওই ফিলিং স্টেশনের নামে ৬ লাখ ২১ হাজার ৩২ ঘনফুট সিএনজি গ্যাস সরবরাহ দেখানো হয়েছে।  প্রতি ঘনফুট সিএনজি গ্যাস ৩০ টাকা হারে ৬ লাখ ২১ হাজার ৩২ ঘনফুট গ্যাসের বিপরীতে এক কোটি ৮৬ লাখ ৩০ হজার ৯৬০ টাকা বিল পরিশোধ দেখানো হয়। ’

নাম প্রকাশ না করে ডিএনসিসি’র এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকা শহরে সিএনজি সরবরাহের জন্য পর্যাপ্ত ফিলিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও ডিএনসিসির মূল কার্যালয় হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভুয়া সিএনজি স্টেশনের নামে বিল পরিশোধ করা আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।  আদৌ এই টাকা পরিশোধ করা হয়নি। 

অডিট আপত্তিতে বলা হয়েছে, এই অনিয়মের বিষয়ে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষের কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।  অকটেন ও ডিজেল ফিলিং স্টেশনকে অযৌক্তিকভাবে সিএনজি ফিলিংয়ের বিল পরিশোধ করা হয়।  ভুয়া সিএনজি স্টেশনের নামে গ্যাস বিল পরিশোধ করা আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।  ওই আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে ২০১৫ সালের ২৮ জুন ডিএনসিসিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হয়।  পরবর্তী সময়ে একই বছরের ১৩ আগস্ট তাগিদপত্র জারি করা হয়। 

এরপর ভুয়া বিলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে প্রমাণসহ অডিট অধিদফতরে জবাব পাঠানোর জন্য ২০১৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয় হতে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করা হয়।  কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তার দফতর থেকে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি।  সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ২০১৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়।  তা সত্ত্বেও এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে অডিট অধিদফতর। 

জানতে চাইলে পৌর ফিলিং স্টেশনের জেনারেল ম্যানেজার ফরহাদ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা ২০১৬ সাল থেকে এই স্টেশনটি লিজ নিয়েছি।  আমাদের আগে যারা এটি চালাতেন, তারা এই অনিয়ম করেছেন কিনা, তা জানা নেই।  তবে আমাদের স্টেশনে কোনও গ্যাস বিক্রি হয় না।  এখান থেকে শুধু অকটেন এবং ডিজেল সরবরাহ ও বিক্রি করা হয়। ’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘অডিট আপত্তিগুলো আগের অবস্থাতেই রয়েছে।  নিষ্পত্তি হয়নি।  অনেক অনিয়ম হয়েছে।  অডিট আপত্তির সুপারিশ অনুযায়ী দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ’