৭:০২ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০




ধুনট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নৈশকালীন চিকিৎসা বন্ধের অভিযোগ

০৯ জুলাই ২০১৯, ০৫:৪১ পিএম | নকিব


রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:  বগুড়ার ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে ও ভর্তি রোগীদের মেডিকেল অফিসার দিয়ে নৈশকালীন চিকিৎসা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

চিকিৎসক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দৈনিক সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরের দিন সকাল ৯টা পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ করে দেন।  

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলার সাড়ে ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শষ্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি।  এখানে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবার সব ধরণের সুযোগ সুবিধা থাকলেও চিকিৎসক সংকটে সেই সেবা থেকে বরাবরই বঞ্চিত।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ১৪ জনের পদ শূণ্য রয়েছে।  

এদিকে জরুরী বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পদ শূণ্য থাকায় চিকিৎসার সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠেছে।  বর্তমানে মাত্র ৭জন চিকিৎসক রয়েছে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।  এরমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকেন।  জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ও জুনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থোপেডিক) প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র (আলট্রাসনোগ্রাম) দেন।  

এছাড়া ৪জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে একজন প্রেষনে কক্সবাজারে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন।  বাকী ৩জন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন।  এই ৩ চিকিৎসক পর্যায়ক্রমে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।  কিন্ত নৈশকালীন পরিষেবা দানের জন্য প্রতি রাতে কোন চিকিৎসক থাকেন না।  অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৈনিক গড়ে ৪৮ জন রোগী ভর্তি থাকেন।  

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দৈনিক সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরের দিন সকলা ৯টা পর্যন্ত একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক সহকারী) জরুরী বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।  অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সহকারীর রোগী ভর্তি করার কোন বিধান নেই।  

তারপরও জরুরী রোগী আসলে চিকিৎসক সহকারী তাদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে নেন।  কিন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি এসব রোগীদের রাতের বেলায় চিকিৎসা প্রদানের জন্য একজন মেডিকেল অফিসারও থাকেন না।  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার দুর্বিষহ চিত্র প্রায় এক মাস ধরে।  

উপজেলার পাকুড়িহাটা গ্রামের মোজাম্মেল হক (৬৫) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।  তিনি জানান, রাতের বেলায় কোন ডাক্তার তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেয়নি।  তবে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এক ডাক্তার তার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন। 

একই অভিযোগ করেন উপজেলার রামনগর গ্রামের কাওসার আলী (১৮)।  তিনি বিষপানে অসুস্থ্য হয়ে সোমবার সন্ধ্যর দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাবে আসলে তাকে ভর্তি করে নেওয়া হয়।  কিন্ত রাতে ডাক্তার তার চিকিৎসার কোন খোঁজ নেয়নি। 

ধুনট পৌর এলাকার অফিসারপাড়ার জলি খাতুন (৪০) পেটের ব্যাথা নিয়ে সোমবার সন্ধ্যার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসলে উপসহকারি কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (চিকিৎসক সহকারী) তাকে ভর্তি করে নেন।  রাতে তার অসুখ বেশী হলে কোন ডাক্তার তার খোঁজখবর নেননি।  মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে একজন ডাক্তার তার খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থাপত্র দেন।  

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ হাসানুল হাছিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট রয়েছে।  দৈনিক মাত্র ৩ জন চিকিৎসক দিয়ে পর্যায়ক্রমে দিনের বেলায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।  এই ৩জন চিকিৎসক দিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করানো সম্ভব না।  এ সমস্যার বিষয়টি সিভিলসার্জন মহোদয়কে জানানো হয়েছে।  তিনি অল্প দিনের মাঝেই এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।