১২:১৩ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০




মুন্সীগঞ্জের মোল্লাকান্দিতে দুই নেতার ককটেল হামলার আতংকে সাধারন মানুষ

১০ জুলাই ২০১৯, ০৩:২৬ পিএম | নকিব


শুভ ঘোষ,মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের দুই নেতার ককটেল হামলার আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ইউনিয়টির প্রায় ৭/৮টি গ্রামের সাধারন মানুষ। 

দীর্ঘ ১০ বছর ধরে চলে আসা  সংঘর্ষের পূনরাবৃত্তি ঘটেছে কয়েকদিন ধরে।  প্রায় দেড় বছর পূর্বে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপারের একান্ত প্রচেষ্টায় মোল্লাকান্দির সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ন্ত্রনে আসে এবং এলাকায় শান্তি ফিরে আসে। 

বর্তমানে ইউনিয়নটিতে নতুন করে ককটেল সন্ত্রাস, গোলাবারুদ সংগ্রহ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে উজির আহম্মেদ নামের এক বিএনপি নেতা।  আর এই বিএনপি নেতাকে নব্য আওয়ামীলীগার হিসাবে দলে রেখে পরোক্ষ মদদ দিচ্ছে আ”লীগ নেতা আজাহার মোল্লা। 

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোন ঘটনায় এই ইউনিয়নের প্রতিটা গ্রামে বিস্ফোরিত হয় শতশত ককটেল।  চালানো হয় নিরীহ মানুষের বাড়ী ঘরে ককটেল হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট ।  এটা যেন তাদের একটা চিরাচরিত ঐতিহ্যে পরিনত হয়েছে।  মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন যার পরিচিতি ককটেলের জনপদ হিসাবে।  বর্তমানে ইউনিয়নটি জুড়ে শুধুই ককটেল হামলার আতংক।  এর জন্য স্থানীয়রা দায়ী করছেন আজাহার মোল্লা ও উজির আহম্মেদ নামের দুই নেতাকে।   

স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে,সম্প্রতি ড্রেজারে চাঁদা চাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজাহার মোল্লার সাথে বিরোধ সৃস্টি হয় ইউপি সদস্য স্বপন দেওয়ানের।  গত-২৯-০৬-১৯ ইং তারিখে ড্রেজারের চাঁদা না পেয়ে আজাহারের লোকজন স্বপন মেম্বারের ড্রেজারের লোকদের মারধর করে।  একই সময় সরকারী রাস্তার কাজে ব্যবহৃত ড্রেজারের পাইপ ভেঙ্গে ফেলা হয়।  এ ঘটনায় স্বপন মেম্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়।  এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে আজাহার মোল্লা হাত মিলায় মুন্সীকান্দি গ্রামের বিএনপি নেতা উজির আলী ও নোয়াদ্দা গ্রামের ইউপি সদস্য মেজবাউদ্দিন ঢালীর সাথে।  স্বপন দেওয়ানের পাশের গ্রাম মুন্সীকান্দির উজির আলীর সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিলো স্বপন দেওয়ানের।  বাড়তি শক্তি হিসাবে পুরা বাজার সংলগ্ন নোয়াদ্দা ঢালীকান্দি গ্রামের মেজবাউদ্দিন ঢালীকে গ্রুপে নেয় আজাহার বাহিনী।  অন্যদিকে ইউনিয়ন আ”লীগের সভাপতি পার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করেও বাড়তে শুরু করেছে সংঘর্ষের শংকা।  ইউনিয়নটিতে বর্তমানে আ”লীগের সভাপতি ফরহাদ খাঁন।  নতুন কমিটিতে সভাপতি পদের জন্য প্রার্থী হয়েছেন মহেষপুর গ্রামের ইউসুফ হাসান ।  ইউসুফকে সভাপতি পদে স্বপন মেম্বার সমর্থন করেছে এই ধারনা করেই বর্তমান ইউনিয়ন আ”লীগ সভাপতি ফরহাদ খাঁনও আজাহারের পক্ষে অবস্থান করে।  

সরেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, প্রতিদিন নেয়াদ্দা ঢালীকান্দি, গাব্বা ঢালিকান্দি, লক্ষীদিবি, বেহারকান্দি ,মুন্সীকান্দী ও আর আশপাশ গ্রামগুলোতে এখন শুধুই ককটেল হামলা আতংক।  গ্রামগুলো এখন পুরুষ শুন্য ।  সাধারন মানুষের চোখে মুখে হামলা আতংক।  স্কুল পড়–য়া ছেলে মেয়েরাও ভয়ে স্কুলে যাচ্ছেনা।  বৃদ্ধ, শিশুসহ সকল বয়সী লোকজন যেন আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।  বর্তমানে সংঘর্ষ পূর্ন গ্রামগুলোর সাধারন মানুষ আজাহার হোসেন মোল্লা , উজির আহম্মেদ ও মেজবাউদ্দিন ঢালী ও তাদের সমর্থকদের ককটেল বিস্ফোরন, হামলা ও ভাংচুর আতংকের উত্তপ্ত হয়ে আছে পুরো এলাকা।  পুলিশের একাধিক টিম এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।  গ্রেফতার এড়াতে গ্রামগুলো এখন পুরুষ শুন্য।  আজাহার মোল্লার বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক মামলা থাকা সত্বেও আইনসৃংখলা বাহিনী তাকে আজও গ্রেফতার করতে পারেনি।  

বৃদ্ধা নারী মরিয়ম জানান, আমরা সব সময় আতংকে থাকি।  চারিদিকে ককটেল ফোঁটে।  রাস্তায় বের হলেই বিপদ।  ছেলে মেয়েরা ভয়ে স্কুলে যেতে পারছেনা ।  বাজার সদাই করতে বাজারে যাবো সেই পরিবেশও নেই।  পুরুষ পোলারা হামলা আর পুলিশের ভয়ে গ্রামছাড়া।  উজির আলী একজন তুখুর বিএনপি নেতা।  আ”লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর সে নব্য আওয়ামীলীগার হয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।  বর্তমানে এই বিএনপির নেতার কাছে এলাকার পুরো আ”লীগ কর্মীরা জি¤িœ।  তার রয়েছে বিপুল পরিমান অবৈধ অর্থ।  অবৈধ অর্থ দিয়ে সে ককটেল তৈরী করেই চলছে।  সম্প্রতি তার ককটেল বানাতে এসে ২ জন আহত হয়।  আহতরা গোপনে চিকিৎসা নিচ্ছে।  

স্থানীয় বাসিন্ধা আব্দুল আলী জানান, ইউনিয়নটি এতোদিন শান্ত ছিলো।  এখন সকালে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে ককটেল বিস্ফোরনের শব্দে।  এর জন্য দায়ী বর্তমান ইউনিয়ন আ”লীগের সাধারন সম্পাদক আজাহার মোল্লা।  তিনি বিএনপি নেতা উজির আহম্মেদের টাকা দিয়ে ককটেল বানিয়ে এলাকায় ত্রাশের সৃস্টি করছে।  বিগত দিনে এই ইউনিয়নে যতোবার সংঘর্ষ হয়েছিলো শুধুমাত্র আজাহার মোল্লার কারনে।  আজাহার মোল্লা টাকার বিনিময়ে গ্রæপ পাল্টিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই ককটেল হামলার নৈরাজ্য চালিয়ে আসছে।  আমরা নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করার নিশ্চয়তা চাই। 

ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে উজির আহম্মেদকে ফোন করিলে তিনি বলেন, মুলত আজাহার মোল্লা ও মেজবাউদ্দিন ঢালীর সাথে স্বপন মেম্বারের ঝগড়া হয়।  এলাকার কারনে আমার জড়িত হতে হয়েছে।   

সংঘর্ষের বিষয়টি অস্বীকার করে করে ইউনিয়ন আ”লীগের সাধারন সম্পাদক আজাহার মোল্লা বলেন, আমি ঝগড়ার সময় ছিলাম না ।  উজির আহম্মেদ এবং মেজবাউদ্দিন ঢালী গ্রæপের সাথে স্বপন দেওয়ানের বিরোধকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।  ককটেল বানানোর বিষয়টি স্বীকার করে আজাহার মোল্লা বলেন, এলাকায় সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সব গ্রুপের লোকজনই ককটেল তৈরী করে।  ককটেল শুধু আমরাই তৈরী করি না।    

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম (পিপিএম বার) বলেন, যে যেই রাজনৈতিক দলের হউক না কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে সর্র্বোচ্চ কঠোর পদপেক্ষ নিবে জেলা পুলিশ।  বিগত সময় পুলিশের পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছিলো পরিস্থিতি মতোবেক আবারো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, এব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।