১২:১০ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০




ক্রমেই ঝুঁকিতে পড়ছে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের কারণে : প্রধানমন্ত্রী

১০ জুলাই ২০১৯, ০৫:১১ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : অনুমিত সময়ের আগেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব জনজীবনে পড়তে শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বৈশ্বিক এ সংকট মোকাবিলায় গবেষণা ও বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। 

বুধবার (১০ জুলাই) সকালে রাজধানীতে অভিযোজন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে এ আহ্বান জানান তিনি। 

এসময় রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন চেয়ে তিনি বলেন, ১১ লাখ অতিরিক্ত জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকা ক্রমাগত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে। 

প্রতিকূল আবহাওয়া আর প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সঙ্গী করেই রচিত হয়েছে বাঙালির জীবনাচার।  বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন এ অঞ্চলের জীবন সংগ্রামে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।  

তথ্য বলছে, সূচকে বাংলাদেশ ষষ্ঠ ঝুঁকিতে থাকা দেশ এবং এরই মধ্যে এদেশে জলবায়ু অভিবাসী সংখ্যা ৬০ লাখের মতো। 

পৃথিবীব্যাপী এ সংকটে কী করে অভিযোজন ত্বরান্বিত করা যায় তা নিয়ে ঢাকায় মিলিত হয়েছেন বিশ্বনেতারা।  বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক এ সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

যে কোনো দুর্যোগে বাংলাদেশিদের অভিযোজনের চিত্র ও সরকারের প্রস্তুতির নানা পরিসংখ্যান তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।  তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হয়েও এর নেতিবাচক প্রভাবে হুমকির সম্মুখীন বাংলাদেশ। 

তিনি বলেন, তাপমাত্রা পরিবর্তন, ঘন ঘন বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রতল বৃদ্ধি ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের বিস্তৃত এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।  এই পরিবর্তনগুলি আমাদের কৃষি, শস্য, পশু ও মৎস সম্পদের বিপুল ক্ষতির কারণ হতে পারে।  যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাকেও হুমকিতে ফেলবে।  

সংকট মোকাবিলায় বাকি বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিযোজনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।  সেজন্য শুধুমাত্র প্রশমন অর্থাৎ মিটিগেশন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে অভিযোজন প্রক্রিয়ার সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে না।  সেজন্য আপনাদের সকলকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সজাগ থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য অনুরোধ করছি।  

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবিক কারণে আশ্রয় দিলেও বিপুল এ জনগোষ্ঠীর কারণে ক্রমেই ঝুঁকিতে পড়ছে বাংলাদেশ।  তিনি বলেন, আমরা চাই তারা যত দ্রুত তাদের নিজের দেশে ফিরে যায়।  বাংলাদেশের জন্য তাতেই মঙ্গল হবে, এটা আমি বিশ্বাস করি। 

অভিযোজন প্রক্রিয়ায় অগ্রগামী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে একটি আঞ্চলিক অভিযোজন কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।