৬:২২ এএম, ২৪ জুলাই ২০১৯, বুধবার | | ২১ জ্বিলকদ ১৪৪০




বিদায় নিল ভারত,ক্রিকেটের প্রাথমিক পাঠে ভুল করলেন পান্ডিয়া-পন্থ

১১ জুলাই ২০১৯, ১০:০৩ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে এতদিন ধরে কত প্রশংসা।  যে কোনো টার্গেট দেওয়া হোক, সেই রান খুব সহজেই তুলে ফেলবে বিরাট কোহালির দল।  কিন্তু আসল দিনে থেমে গেল ভারতের বিজয় রথ। 

বর্তমান সময়ে ক্রিকেটে ২৪০ বিশাল কোনও রান নয়।  খুব সহজেই এই রান তোলা সম্ভব।  বিশেষ করে ভারতীয় দলে যখন রয়েছেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহালি, মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো ব্যাট। 

তবে গতকাল বুধবার কিউয়িদের তোলা ২৪০ রানই অনেক বড় হয়ে গেল।  ১৮ রানে দূরে থেমে যেতে হল ভারতকে। 

ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালি বললেন, প্রথম ৪৫ মিনিটের ব্যাটিং ব্যর্থতায় আমাদের ছিটকে যেতে হল।  চলতি বিশ্বকাপে দুরন্ত ফর্মে কিউয়ি পেসাররা।  ভারতের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে কিউয়ি পেসাররা নিয়েছিলেন ৫৮টি উইকেট।  এই পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার কী দুরন্ত ফর্মে ছিলেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা।  আর তাদের বিরুদ্ধেই কিনা ভারতের ব্যাটসম্যানরা ভুল শট নির্বাচন করে উইকেট ছুড়ে দিলেন। 

গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে বোলারদের শাসন করে গিয়েছেন রোহিত।  এক বিশ্বকাপে পাঁচটা সেঞ্চুরি করেছেন তিনি।  সেমিফাইনালে নামার আগে ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টানা তিনটি ম্যাচে সেঞ্চুরি করা হয়ে গিয়েছিল তার।  ক্রিকেটে ‘ল অফ অ্যাভারেজ’ বলে একটা কথা প্রচলিত রয়েছে।  টানা রান করতে থাকলে একটা ইনিংসে এসে ব্যাটসম্যানকে ব্যর্থ হতেই হয়।  এ দিনের সেমিফাইনাল ছিল সেরকমই একটা ম্যাচ।  অফস্টাম্পের সামান্য বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে আউট হন রোহিত শর্মা।  তাকে খুব একটা দোষ দেওয়া যায় না।  এক ম্যাচ তাকে ব্যর্থ হতেই হত।  ঘটনাক্রমে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল সেই দিন। 

শেষ চারের লড়াই মাঠে গড়ানোর আগে বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, সেমিফাইনালে বড় ইনিংস খেলবেন কোহালি।  আসল সময়ে ভারত অধিনায়কও ব্যর্থ।  বিশ্বকাপের ইতিহাস বলছে, সেমিফাইনালে কোহালির ব্যাট কথা বলে না।  ২০১১ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোহালি করেছিলেন ৯ রান।  চার বছর আগের বিশ্বকাপে তিনি আউট হন মাত্র ১ রানে।  এদিনও করেন ১ রান।  ক্রিকেট অবশ্য এক বলের খেলা।  যে কোনো মুহূর্তে ব্যাটসম্যানের মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে হাজির হতে পারে বোলার।  এদিন বোল্টের ডেলিভারিটা ছিল সেরকমই।  কোহালি পরে স্বীকারও করেন, তিনি এবং রোহিত দারুণ বলের শিকার। 

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন রাহুল।  আত্মবিশ্বাসে ফোটার কথা ছিল তার।  এদিন ব্যর্থ রাহুল।  গোটা টুর্নামেন্টে শিখর ধাওয়ানের বিকল্প হয়ে উঠতে পারেননি তিনি।  কিউয়িদের মতো দুর্দান্ত বোলিং শক্তির বিরুদ্ধে তিন জন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানই করলেন মাত্র ১ রান।  ৩.১ ওভারেই ভারত হয়ে যায় তিন উইকেটে ৫ রান।  দীনেশ কার্তিক ২৫ বলে করলেন মাত্র ৬ রান।  নির্বাচকরা তো অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই কার্তিককে বিশ্বকাপে পাঠিয়েছিলেন।  সেই অভিজ্ঞতার পরিচয় দিলেন কোথায় কার্তিক?

ঋষভ পন্থ জমে যাওয়ার পরে উইকেট ছুড়ে দিয়ে এলেন।  ম্যাচের শেষে কোহালি বলেন, ‘‘পন্থের বয়স কম।  অল্প বয়সে এরকম ভুল অনেকেই করে থাকে।  আমারও যখন বয়স কম ছিল, তখন ভুল করেছি।  সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিণত হতে হবে। ’’ এই ধরনের বড় ম্যাচই একজন ক্রিকেটারকে প্রতিষ্ঠা দেয়।  নিজের সেরাটা দিতে পারতেন পন্থ।  বড় শট খেলার দরকার তখন ছিলই না।  কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলরের থেকে শিক্ষা নিতে পারতেন পন্থ।  দুই কিউয়ি ব্যাটসম্যানও কিন্তু বড় শট না খেলে ইনিংস গড়ার কাজ করেন।  পন্থ সেদিকে হাঁটলেন না।  জমে যাওয়ার পরে ভুল শট খেলে আউট হলেন।  তার আউট হওয়ার ধরন দেখে স্থির থাকতে পারেননি কোহালিও।  উত্তেজিত হয়ে পড়েন।  সাংবাদিক বৈঠকে অবশ্য কোহালি শান্ত ছিলেন।  

হার্দিক পান্ডিয়াও একই ভঙ্গিতে ফিরলেন।  সেই ভুল শট নির্বাচন করে আউট হলেন।  বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে এই ধরনের শট খেলা মহা অপরাধ।  ৬ উইকেট হারিয়ে ভারত তখন ধুঁকছে।  কঠিন পরিস্থিতি থেকে বহু যুদ্ধের সৈনিক ধোনি ও রবীন্দ্র জাডেজা লড়াই শুরু করেন।  দলের সিনিয়র সদস্য হিসেবে ধোনি পরিচালনা করছিলেন জাডেজাকে।  এই পরিচালনারই দরকার ছিল। 

পুরানো দিন এখন ফেলে এসেছেন ধোনি।  এখন আর তিনি আগের মতো বিধ্বংসী নন।  কিন্তু অভিজ্ঞতা তাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে।  জাদেজাকে সঙ্গে নিয়ে স্ট্রাইক রোটেট করে স্কোর বোর্ড সচল রাখছিলেন তিনি।  এই হারের পরে ধোনি ক্ষতবিক্ষত হবেন।  প্রশ্ন তোলা হবে, ধোনি কেন ফিনিশারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন না? কেন তিনি জাদেজাকে এগিয়ে দিচ্ছিলেন? এসব প্রশ্ন উঠবেই।  ধোনি তাও শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছেন।  প্রায় হারতে বসা একটা ম্যাচে প্রাণসঞ্চার করেছিলেন।  দিনটা তার ছিল না।  তাই ম্যাচ শেষ না করে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাকে। 

কিন্তু বাকিরা কী করলেন? ।  চাপের মুখে এক বা দুই রান নিয়ে রান রেট বাড়তে না দেওয়া, উইকেট ছুড়ে না দেওয়া- এগুলো তো ক্রিকেটের প্রাথমিক পাঠেরই অংশ।  মোক্ষম সময়ে এগুলো কীভাবে ভুলে গেলেন কোহালির সৈনিকরা?