১১:৫৫ পিএম, ২৪ আগস্ট ২০১৯, শনিবার | | ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




বাঘাইছড়িতে মুক্তিযোদ্ধার সংবাদ সম্মেলন প্রসাশনের হস্তক্ষেপ কামনা

৩০ জুলাই ২০১৯, ০৭:২২ পিএম | নকিব


জগৎ দাশ বাঘাইছড়ি প্রতিনিধিঃ  প্রতিনিয়ত অসহায়ত্ব ও হতাশা গ্রস্ত হয়ে দিনাতিপাত করছে এমন এক ভয়ংকর  ঘটনার বিবরন দিয়ে  সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মুক্তার হোসেন নামের এক  মুক্তিযোদ্ধা। 

তিনি লিখিত   ও মৌখিক ভাবে উপস্থিত সংবাদকর্মীদের নিয়ে শনিবার বিকাল ৫ ঘটিকায় উপজেলা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। 

এসময়  সংবাদ সম্মেলনে প্রসাশনের সহায়তা ও হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী এই মুক্তিযোদ্ধা।   অভিযোগে জানা যায়,রাঙামাটি জেলা প্রসাশক কার্যালয়ের রাইটার বোরহান উদ্দিনের চক্রান্তে প্রতারনার শিকার হয়ে বসতবাড়ি হারানোর উপক্রম হয়ে পড়েছেন।  এমন এক আশংখাযুক্ত  মনে  অসহায়ত্ব মলিন চেহারায় দেখতে এই  মুক্তিযোদ্ধা সংবাদ সম্মেলনের লিখিত কপি হুবহু  বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার্স ইনচার্জ বাঘাইছড়ি থানায় সদয় অবগতির অনুলিপি প্রেরন করা হয়। 

অভিযোগ পত্রে উল্লেখিত, ১৯৮৮ সালে আমেনা খাতুন  স্বামী তমিজ উদ্দিন হতে ৩৭৮ নং মৌজার ২৪৪ হোল্ডিং ১৮৭ খতিয়ানে ১৬৫০/১৮৮৫ দাগ  সমুহ হতে( ০. ৩০) শতক বসত বাড়ীর জায়গা ক্রয় করেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ মুক্তার আহম্মদ।  জায়গার মালিক আমেনা খাতুনের দুই পুত্র চান মিয়া ও চেরাগ আলী  হতে তখন না দাবী পত্র করে টিপসাফ ও স্বাক্ষর নিয়ে রাখেন। 

ক্রয়সূত্র  থেকে এই জায়গায় বসতঘর করে ভোগদখলে রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা মুক্তার আহমদ। বার্ধ্যক্য জনিত কারনে আমেনা খাতুনের মৃত্যু হলে জায়গা রেজিষ্টার করা নিয়ে  ২০১৩ সালে আমেনার  ওয়ারিশ ২ পুত্রকে নিয়ে এক বৈঠকে তারা ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন মুক্তার আহম্মদের কাছে।  ভুক্তভোগী তাতে সম্মতি প্রকাশ করলে ওয়ারিশগনের একজন চাঁনমিয়া

মুক্তার আহম্মদকে জমি রেজিষ্টারের নামে  ( রাইটার) দলিল লেখক বোরহান উদ্দিনের নিকট নিয়ে যান। রাইটার বোরহান তৎক্ষনাত ওয়ারিশগন হতে টিপসাফ সহ স্বাক্ষর নিয়ে নগদ ৪০ হাজার টাকা গ্রহনপূর্বক জমি রেজিষ্টার করে দেওয়ার দায়িত্ত্ব নেয়। ২০১৩ সালে জমি রেজিষ্টারের কথা বলে সময় ক্ষেপনের  একপর্যায়ে ২০১৬ সালের দিকে দির্ঘ হাটাহাঠি করিয়ে বোরহান উদ্দিন আরো ২০ হাজার টাকা দাবি করেন মুক্তার আহম্মদের নিকট।  তিনি তাতে অসম্মতি প্রকাশ করলে বোরহান উদ্দিন জমি রেজিষ্টারের নামে ২০১৩ সালে নেওয়া ৪০ হাজার টাকা ২০১৬ সালে  মুক্তার আহম্মদকে ফিরিয়ে দেন। এরপর মুক্তার আহম্মদ নিজে রাঙামাটি  কোটে গিয়ে জানতে পারেন যথাক্রমে,আমেনা খাতুন,পরশ আলী,চেরাগ আলীকে ওয়ারিশ নামা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এদিকে চানমিয়ার ওয়ারিশ যথাক্রমে নরুল ইসলাম,জমিরন বেগম,দ্বীন ইসলাম সর্বপিতা চানমিয়া ও ফজিলা বেগম স্বামী চানমিয়া নামে ওয়ারিশন সনদ প্রক্রিয়াকরণে শেষান্তে প্রায়। 

এমন ঘটনা দেখে তিনি আদালত যোগে অভিযোগ করেন। তিনি আরো বলেন,আদালত আমাকে নোটিস জারি করলে আমি উকিলের পরামর্শ অনুযায়ী আমার ক্রয়কৃত জায়গার হেডম্যান সুপারিশ সহ জমি রেজিষ্টার পেতে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে রাইটার বোরহান ক্ষিপ্ত হয়ে  আদালত প্রাঙ্গনে হুমকি দেয় জায়গা কোন ভাবে তার কাছথেকে নিতে পারবেনা।  এবং আমাকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সহ নানান ভাবে লাঞ্চিত করেন। এতে করে তিনি জমি রেজিষ্টারেরর প্রতিটি শাখায় আবেদন করেন যাতে করে বোরহান জমি রেজিষ্টার করতে না পারেন। এরপর ও রাইটার বোরহানের চক্রান্তে জীবিত পরশ আলীকে মৃত চেরাগ আলী সাজাইয়া এবং আমেনা খাতুন ও মৃত চান মিয়াকে জীবিত দেখাইয়া তারিখ বিহীন নাদাবী নামায় টিপ সই স্বাক্ষর করান। 

এরপর পর বোরহান উদ্দিনের নতুন চক্রন্তে জালজালিয়াতির মাধ্যমে একই জায়গা জাহাঙ্গীর আলম পিতা মৃত ছিদ্দিক উল্ল্যা, মালেকা বেগম স্বামী সামশুল আলমের নামে উক্ত জায়গাটি জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে জামাই জয়নাল আবেদীনের নামে রেজিষ্টার করিয়ে নিতে ক্ষমতা পত্র নেওয়ার অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। 

এছাড়া ও রাইটার বোরহান উদ্দিন নিজে জমির সনাক্তকারী সাজিয়া সনাক্তকারী পত্র স্বাক্ষর করেন বলে ও অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে এই ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা। এখানেও শান্ত হয়নি রাইটার বোরহান উদ্দিন , অসদ উপায় অবলম্বন করে জমি রেজিষ্টার করানোর জন্য আমেনা বেগমকে ৩ বার মৃত্যু বরন দেখায় যার তারিখ ভূয়া মৃত্য ১৯৩৫/১৯৯৫ ও প্রকৃত মৃত্য সাল ২০০৯ সাল। এদিকে মৃত চান মিয়াকে মৃত দেখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার রির্পোট মতে ২০০১ সালে। চান মিয়ার প্রকৃত মৃত্য ঘটে ১৯৯৫/৯৬ সালে বলে দাবী করেন মুক্তার হোসেন। 

এছাড়া এই জমি রেজিষ্টার নিয়ে অসংখ্য ছলচাতুরি সহ নানা অসংঘতি রয়েছে জমি রেজিষ্টার সংক্রান্ত কাগজ পত্রে এমন অভিযোগ এই মুক্তিযোদ্ধার। তিনি সংবাদ সম্মেলনে প্রসাশনের আন্তরিক সহোযোগীতা কামনা করেছেন এবং রাইটার বোরহান উদ্দিনের অসাদুপায় অবলম্বনে অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবী করেন তিনি। উল্লেখ্য যে ইতিপূর্বে রাইটার বোরহানের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী জহিরুলের বসত ঘর ও জমির অন্য ব্যাক্তিকে রেজিষ্টার করে দেওয়ার এক প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়  রিপোর্ট প্রকাশ হয় । 

এমন ভয়ংকর  অভিযোগ রাইটার বোরহানের বিরুদ্ধে  ভুক্তভোগী অনেক স্থানীয়দের মাঝে রয়েছে এই প্রথম বোরহানের বিরুদ্ধে  সংবাদ সম্মেলন। 

সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত বোরহান উদ্দিনের সাথে ফোনে আলাপ করা হলে তিনি  বলেন, আমি বর্তমানে রাঙামাটি আছি। শুক্রবার বাঘাইছড়ি প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে লিখিত ভাবে এর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে তিনি জানান । 


keya