৭:১৪ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




ফটিকছড়ির ইকন হত্যার সুষ্টু তদন্ত ও মূল হোতাদের শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

০৪ আগস্ট ২০১৯, ০১:৫৬ পিএম | নকিব


মো : সেলিম , ফটিকছড়ি প্রতিনিধি :  চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সাব্বির উদ্দীন ইকন (১৭) হত্যার সুষ্টু তদন্ত ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার পরিবার। 

৪ আগষ্ট রবিবার বিবিরহাট স্থাণীয় একটি হোটেলে আয়োজীত সংবাদ সম্মেলনে ইকনের পিতার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইকনের বড় বোন জাহিন সোলতানা ইকা। 

লিখত বক্তব্যে উল্ল্যেখ করা হয়, আমার ছেলের হত্যার রহস্য উদঘাটন, একজন আসামী আটক নিয়ে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি গন মাধ্যমে আসার পর বিষয়টি আমার নজরে আসে।  এতে আমি হতভাগ হই।  পুত্র হারোনে শোকে বর্তমানে আমি দিশেহারা।  সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকান্ড নিয়ে যে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে সেটা কোনো মতেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।  যা অগ্রহনযোগ্য।  শুধুমাত্র মোবাইলের লোভে প্রধান অভিযুক্ত আসামী আমার পুত্রকে একাই হত্যা করেছে সেটা কিভাবে সম্ভব হলো তা আমার বোধগম্য নয়।  

পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার প্রশ্ন, সাধারনত একটি মুরগী জবাই করতেও ২জন লোক লাগে।  এক্ষেত্রে একজন কিশোর আরেকজন কিশোরকে ধারালো অস্ত্র কিভাবে একাই হত্যা করল এটা প্রশ্নবিদ্ধ।  

পুলিশ হত্যাকান্ডের সুষ্টু তদন্ত না করে প্রধান অভিযুক্তের উপর এককভাবে সম্পুর্ন হত্যাকান্ডের দায় চাপানো কতটুকু যুক্তিসংগত ?  

অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্তকে ৮দিনের রিমান্ডে আনলেও তাকে পর্যাপ্ত জিজ্ঞাসাবাদ না করে শুধুমাত্র ১দিনের মাথায় পুনরায় জেল হাজতে প্রেরনের বিষয়টি আমার কাছে রহস্য জনক মনে হচ্ছে। 

আমার ধারনা, ইকন হত্যাকান্ডের সাথে আরো একাধিক দুর্বৃত্ত জড়িত ছিল।  হত্যাকান্ডের প্রায় ১ সপ্তাহ অতিবাহিত হওয়ার পর ও পুলিশী তদন্তে কোন অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। 

আমি আমার পুত্র ইকন হত্যাকান্ডের আরো অধিকতর তদন্ত এবং হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারিদের গ্রেপ্তার এবং ন্যায় বিচারের সার্থে মামলাটি পুলিশের সি আই ডি / পিবিআই এ হস্তান্তর করার জন্য উর্ধঃতন পুলিশ প্রশানের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি। 

এ সময় উপস্থীত ছিলেন, ইকনের পিতা সাহাব উদ্দীন, মা জেনি আকতার, ছোট ভাই সাহান ও তাদের নিকটাত্মীয় বেলাল উদ্দীন চৌধুরী। 

উল্লেখ্য যে, ফটিকছড়ি  বিবিরহাটস্থ চৌধুরী ভবনের বাসিন্দা মোঃ সাহাব উদ্দীনের পুত্রসাব্বির উদ্দীন ইকন(১৭) ২৫ শে জুলাই বৃহস্পতিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার সময় বিবিরহাট ২নং আলী আকবর রোডস্থ হাজারী সাউন্ড হতে টেলিভিশন মেরামত করতে গেলে নিখোঁজ হয়।  

নিখোঁজের পর বন্ধু-বান্ধব, আত্বীয়-স্বজনের কাছে তার কোন খোঁজ না পাওয়ায় তার পিতা সাহাব উদ্দীন ফটিকছড়ি থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রী করেন। 

নিখোঁজের একদিন পর শুক্রবার দুপুর ২টায় চট্টগ্রাম খাগড়াছড়ি সড়কের পাইন্দং নতুন মসজিদ সংলগ্ন আকাশি বাগানে গলা কাটা অবস্থায় তার লাশ দেখতে পায় স্থানিয়রা।  খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করে। 

 এদিকে গত ৩০ জুলাই ঋণগ্রস্থ বন্ধুর হাতে একটি স্মার্টফোনের জন্য খুন হয়েছে ইকন এমন তথ্য দিয়ে পুলিশ সংবাদ সম্মেলন করে

এতে লিখিত বক্তব্য রাখেন আতিরিক্ত পুলিশ সুপার, হাটহাজারী সার্কেল আব্দুল্লাহ আল মাসুম। 

তিনি বলেন, ভিকটিম সাব্বির উদ্দিন ইকনের লাশ উদ্ধারের পর তার বাবা সাহাবুদ্দীন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। 

মামলা,আলামত ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত তনুয় বড়ুয়া তনা(২৩) নামে ২৭ জুলাই একজনকে গ্রেফতার করি।  সে জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২  এ ১৬৪ ধারায় জবান বন্দীতে ইকনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেন। 

সে তার জবান বন্ধীতে বলেন,ইকনের সাথে তার বন্ধুত সম্পর্ক ছিল।  সে ঋণগ্রস্থ থাকায় ইকনের স্মাটফোনটির উপর চোখ পড়ে।  স্মার্টফোনটি নেওয়ার লোভে

ঘটানারদিন ইকনকে সাথে নিয়ে জন্মদিনের কেকে কাটবে বলে একটি ছুরি নেয়।  সে ছুরি দিয়ে ইকনকে গলা কেটে হত্যা করে।   তনয় বড়ুয়া উপজেলার আদ্বুল্লাহপুর ইউনিয়নের মৃত বাবন বড়ুয়ার পুত্র।  বর্তমান পালক পিতা হচ্ছে সুন্দরপুর দক্ষিন ছিলোনিয়ার অশোক কুমার বড়ুয়া। 

পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি,একটি টেলিভিশন, একটি উড়না উদ্ধার করে।