১১:০৮ এএম, ২২ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার | | ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০




ফেসবুকের কল্যানে মুন্নীকে ফিরে পেল তাঁর মা-বাবা

০৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪৭ এএম | নকিব


আব্বাস হোসাইন আফতাব, রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি : স্বামী পরিত্যক্তা মুন্নী (১৯) স্বামীর ঘর ছাড়ার পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে।  হঠাৎ হঠাৎ আন্মনা হয়ে যায়। 

মাঝে মাঝে স্বাভাবিক হলেও প্রায় সময় অস্বাভাবিক আচরণ করে।  শুক্রবার (২ আগষ্ট) সকালে চট্টগ্রাম নগরীর বায়জিদ থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার তাঁর বাসা থেকে বের হয়ে রাঙ্গুনিয়া চলে আসে সে। 

বিকেলে মরিয়ম নগর ইউনিয়নের নজরের টিলা এলাকায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়।  পুলিশ মুন্নীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।  দুইদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠে সে।  পরে থানা হেফাজতে নিয়ে আসা হয় তাঁকে।  

থানা সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৪ আগষ্ট) দুপুুর ১ টার দিকে হারিয়ে যাওয়া মুন্নীর স্বজনদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবিসহ পোষ্ট দেন থানার উপপরিদর্শক মো. ইসমাঈল হোসেন।  পোষ্ট দেয়ার ৩ ঘন্টা পর মেয়েটির এলাকার এক জনপ্রতিনিধি থানায় যোগাযোগ করে পরিচয় নিশ্চিত করেন।  

রাঙ্গুনিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইসমাঈল হোসেন বলেন, “ দুইদিন আগে মুন্নী নামের মেয়েটি ঘর থেকে বের হয়ে বাসে করে রাঙ্গুনিয়া চলে আসেন।  মরিয়ম নগরের নজরের টিলা এলাকায় গেলে সে অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকে।  স্থানীয়রা মেয়েটি অপরিচিত হওয়ায় রাঙ্গুনিয়া থানায় খবর দিলে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।  দুইদিন পর মেয়েটি সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে খবর দেয়া হয়। 

পরে আমরা মেয়েটিকে রাঙ্গুনিয়া থানায় নিয়ে আসি।  রোববার(৪ আগষ্ট) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে মুন্নীকে সেফহোমে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলে ফেসবুকে দেয়ার ৩ ঘন্টা পর ফেসবুকে দেখে তাঁর মা-বাবা মেয়েটির সন্ধান পান । 

চট্টগ্রাম নগরীর বায়জিদ থানার ওয়ার্ড কাউন্সিল কপিল উদ্দিনের মাধ্যমে আদালতে মেয়েটির বাবা-মা’র কাছে মুন্নীকে হস্তান্তর করা হয়।  হারিয়ে যাওয়া মেয়েটিকে বাবা-মায়ের কাছে তুলে দিতে পেরে খুবই শান্তি লাগছে।  স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা না হলে হয়তো মেয়েটি তাঁর বাবা-মা’কে ফিরে পেতনা।  ”

বায়জিদ থানার  ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর কপিল উদ্দিন বলেন, “ মেয়েটিকে পেয়ে তাঁর বাবা-মা খুব খুশি হয়েছে।  পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তাঁরা। ”

মুন্নীর বাবা মো. হোসেন বায়জিদ থানার ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় মুদি দোকান করেন।  জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ ৬ মাস আগে মুন্নীর বিয়ে হয়।  স্বামী কয়েক মাস আগে তাঁকে তালাক দিলে সে বাড়িতে চলে আসে।  তালাকের পর থেকে সে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

অসুস্থ হওয়ার পর সে শুক্রবার সকালে হঠাৎ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সে।  এলাকার এক যুবক ফেসবুকে ছবি দেখে তাকে চিনতে পেরে আমাদের খবর দেন।  কাউন্সিলর কপিল উদ্দিন থানার সাথে যোগাযোগ করলে আমরা তাঁর সন্ধান পায়।  শুধু খারাপ মানুষ নয়, ভাল মানুষও দেশে আছে।  পুলিশের সহযোগিতা না পেলে আমার মেয়েকে হয়তো জীবনে আর ফিরে পেতাম না।  ” 

ছবির ক্যাপশন- হারিয়ে যাওয়ার দুইদিন পর ফেসবুকের কল্যানে মুন্নীকে ফিরে পান তাঁর মা-বাবা।  মুন্নীকে তার মা-বাবার হাতে তুলে দেন রাঙ্গুনিয়া থানার এক কমকর্তা। 


keya