৩:৪৪ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৮ মুহররম ১৪৪১




আবারো মধ্যস্থতার প্রস্তাব ট্রাম্পের কাশ্মির ইস্যুতে

২১ আগস্ট ২০১৯, ১০:০৫ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম : কাশ্মির ইস্যুতে ফের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

মঙ্গলবার এনবিসি নিউজ-এর সঙ্গে আলাপকালে নিজের এমন অভিপ্রায়ের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।  এর মাসখানেক আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে পাশে বসিয়ে একই ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন তিনি। 

তবে তখন তার ওই প্রস্তাব নিয়ে ভারতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। 

২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় দিল্লি।  ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় দুনিয়ার ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মির উপত্যকা।  ফোনে ট্রাম্পকে সামগ্রিক পরিস্থিতি জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। 

পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও একই ইস্যুতে ট্রাম্পকে ফোন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নালিশ জানান।  দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর সোমবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কাশ্মিরের বর্তমান অবস্থাকে ‘একটি কঠিন পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।  পরদিন মঙ্গলবার এনবিসি নিউজ-এর সঙ্গে আলাপকালে অঞ্চলটির বিদ্যমান অবস্থাকে ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ পরিস্থিতি হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, কাশ্মির খুব জটিল একটি জায়গা।  তবে সেখানকার পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টায় যুক্ত হতে পেতে তিনি খুশি এবং এ ইস্যুতে তিনি সাহায্য করবেন। 

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সহজ সম্পর্ক তৈরি না হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, এর জন্য দায়ী ধর্ম।  হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘কাশ্মীরখুবই জটিল একটি জায়গা।  সেখানে হিন্দুও রয়েছে এবং মুসলিমও রয়েছে।  আমি বলতে পারি না যে, তারা একসঙ্গে ভালো রয়েছে। ’

ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যস্থতা করতে আমি যতটুকু সম্ভব করবো।  আপনারা দুটি দেশ, দীর্ঘসময় ধরে একসঙ্গে এবং ঘনিষ্ঠভাবে  থাকতে পারছেন না, এটা খুবই বিস্ফোরক পরিস্থিতি। ’

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিতব্য জি সেভেন সম্মেলনেও কাশ্মির ইস্যু তোলার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, সেখানে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবেন। 

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি মনে করি, আমরা বিষয়টিকে সাহায্য করছি।  যেমনটা আপনারা জানেন, দুই দেশের মধ্যে প্রচণ্ড রকম সমস্যা রয়েছে।  মধ্যস্থতা করতে আমি যতটা পারি করবো অথবা কিছু তো করবো। ’

আগের দিন সোমবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, 'আমার দুই ভালো বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা হয়েছে।  বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কাশ্মিরে উত্তেজনা হ্রাসে কাজ করার বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কথা হয়েছে।  একটি কঠিন পরিস্থিতি, কিন্তু ভালো আলোচনা হয়েছে!

ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মিরে ভারতের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন দুই নেতা।  মোদি ট্রাম্পকে বলেছেন, ‘এই অঞ্চলের কিছু নেতার কার্যকলাপ ও বক্তব্য ভারতবিরোধী।  যা শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক নয়। ’ নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সহিংসতা ও সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে আপোষহীনতার কথা জানিয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। 

এর আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরান খানের বৈঠকের এক মাসের মাথায় ফোনে কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দুই নেতা।  হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিডলে এক বিবৃতিতে জানান, দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ট্রাম্প। 

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও বাড়িয়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মির ইস্যু নিয়ে আলোচনার আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরান খানের এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।  পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি বলেন, কাশ্মির পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের অবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরান খান। 

এর মাসখানেক আগে ইমরান খানকে পাশে বসিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাকে কাশ্মির সমাধানের মধ্যস্থতাকারী হতে অনুরোধ করেছেন।  পরে ট্রাম্পের ওই বক্তব্য অস্বীকার করে ভারত। 


keya