৩:৩০ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৮ মুহররম ১৪৪১




ইবিতে হলের অতিরিক্ত খরচের টাকা না দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক শিক্ষার্থীকে মারধর

২৪ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৯ এএম | নকিব


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : আবাসিক হলে ব্লকের জিনিসপত্র ক্রয় করার জন্য অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ছাত্রলীগ নেতা কর্তৃক এক শিক্ষার্থী মারধরের স্বীকার হয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। 

অভিযুক্ত ওই ছাত্রলীগ নেতা ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।  থাকেন হলের চতুর্থ তলার ৪০৫ নং কক্ষে।  ভূক্তভোগী কাওসার ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী। 

জানা যায়, মিজান ও কাওসার উভয়ই জিয়াউর রহমান হলের স্মৃতিময় ব্লকের আবাসিক শিক্ষার্থী।  সিনিয়রিটির ভিত্তিতে  মিজান ওই ব্লকের হলের দেখাশুনা করে।  সে হলের পত্রিকা বিল ও আনুসাঙ্গিক জিনিস কেনার নামে ব্লকের অন্যদের থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে।  অন্যরা  ইচ্ছের বিরুদ্ধে টাকা দিলেও কাওসার অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। 

ভুক্তভুগী কাওসার জানায়, ‘পেপার বিল, বালতি কেনার টাকাসহ অতিরিক্ত টাকা  চাইলে আমি হিসাব না দেখে টাকা দিব না বলে জানাই।  পরে যে ছেলে টাকা তোলার দায়িত্বে ছিল তার মাধ্যমে মিজান আমাকে তার রুমে ডেকে পাঠায়।  আমি গিয়ে অতিরিক্ত টাকা কেন নেওয়া হচ্ছে? প্রশ্ন করি।  একইসাথে টাকা খরচের হিসাব দেখতে চাই।  তখন মিজান আমাকে বলে ত্ইু হিসাব দেখার  কে? এছাড়াও এসময় সে অশ্রাব্য ভাষায় গালি দিতে থাকে।  গালি দেওয়ার সময় কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে আমাকে মাথায় আঘাত করলে আমি আহত হয়ে পড়ি।  আমি এঘটনায় প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছি।  শনিবার লিখিত অভিযোগ দিব।  আমি এর সঠিক বিচার চাই। ’

জানা যায়, মিজান নিজেকে শাখা  ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের অনুসারী ও কাওসার নিজেকে সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ গ্রুপের  কর্মী বলে দাবি করেন।  নতুন কমিটি হওয়ার পর থেকেই মিজান কাওসারকে সম্পাদক গ্রুপে যোগ দিতে চাপ দেয়।  কিন্তু কাওসার সভাপতি গ্রুপ চেঞ্জ না করায় মিজান তার উপর পূর্ব থেকেই ক্ষুব্ধ ছিল।  পূর্বের এ ক্ষোভ থেকেই তাকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করেন কাওসার। 

অভিযোগ রয়েছে মিজানুর রহমান ব্লকের শিক্ষার্থীদের থেকে বিভিন্ন সময় অতিরিক্ত টাকা নিয়ে থাকেন।  সবাই তার বিরুদ্ধে থাকলেও ছাত্রলীগ নেতা হওয়ায় কেউ সাহস করে তার প্রতিবাদ করে না।  কয়েকদিন আগেও দলীয় গ্রুপিংকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেনে তিনি।  াভিযোগ রয়েছে মাস্টার্স শেষ হলেও এখনও বহাল তবিয়তে হলে থেকে রাজনীতি করছেন।  এবিষয়ে অভিযুক্ত মিজানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার সেল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। 

এবিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম পলাশ বলেন, আমি ঘটনাটা শুনেছি।  যথাযথ কতৃপক্ষের মাধ্যমে এর সঠিক বিচার হোক এটাই চাওয়া।  আমাদের মাঝে কোনো গ্রুপিং নেই।   মিজান ছাত্রলীগের কোনো প্রোগ্রামে আসেনা।  সে যদি নিজেকে ছাত্রলীগকর্মী দাবি করে এটা ভুয়া।  এরপরেও আমরা সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে এর ব্যবস্থা নিব। 


keya