৩:৩২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৮ মুহররম ১৪৪১




মিয়ানমারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অবরোধের আহ্বান মার্কিন কমিশনের

২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:০৩ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম:  সংখ্যালঘু মুসলমানদের নির্মূল করতে গণহত্যার অভিপ্রায় থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়ন করে বলে উঠে এসেছে জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে। 

এই প্রতিবেদনের সমর্থনে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) শুক্রবার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। 

বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, ‘এখনও সেই বর্বরতা অব্যাহত রয়েছে মুসলিম জনগোষ্ঠী নিধনের ষড়যন্ত্রে। ’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রণায়ের এই কমিশনের ভাইস চেয়ার নাদিন মেইঞ্জা এবং কমিশনার অনুরিমা ভারগভা প্রদত্ত এই যুক্ত বিবৃতিতে বলা হয়েছে,  রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে অকথ্য পাশবিকতা-বর্বরতার যে তথ্য-উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে বার্মার (মিয়ানমার) সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, তা বেড়েই চলছে। 

আমরা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান রাখছি গণহত্যা অথবা মানবতা বিরোধী অপরাধের সংজ্ঞা পরিবর্তনের জন্যে।  আমরা প্রশাসন এবং কংগ্রেসকে আরো সোচ্চার হবার আহবান জানাচ্ছি বার্মা সেনবাহিনীর শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অধিকতর অবরোধ আরোপের জন্যে।  একইসাথে তাদেরকে যারা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে তাদেরকেও চিহ্নিত করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।  এমন স্বৈরাচারি আচরণকে কখনোই বরদাশত করা উচিত নয়। ’

সারাবিশ্বে ধর্মীয় স্বাধীনতা সুসংহত রাখার অঙ্গিকারে প্রতিষ্ঠিত ইউএসসিআইআরএফ’র শীর্ষ দুই কর্মকর্তার এই বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘জাতিসংঘ তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে যৌন এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিস্তারিত যে তথ্য উদঘাটিত হয়েছে তার মধ্য দিয়ে এটাই প্রতিয়মান হচ্ছে যে, ওরা রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে চায়। ’ 

‘শত-সহশ্র তরুণী ও নারীকে ধর্ষণ এবং নির্যাতনের সাথে সরাসরি বার্মার সৈন্যরা জড়িত।  সংঘবদ্ধভাবে তারা শিশু-তরুণী-যুবতীদের ধর্ষণ করেছে।  জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই।  নিরব দর্শকের ভূমিকায় থেকে এমন বর্বরতাকে কোনভাবেই আর চলতে দেয়া যায় না’-মন্তব্য করা হয়েছে বিবৃতিতে।  আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এহেন অপকর্মে লিপ্তদের বিচারের জন্যে জরুরী একটি পন্থা অবলম্বন করা উচিত। ’

 উল্লেখ্য, ২৫ অগাস্ট হচ্ছে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠির ওপর বার্মার সামরিক জান্তাদের বর্বরতার দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন।  এ উপলক্ষে প্রদত্ত এই বিবৃতিতে বার্মা সরকারের বিরুদ্ধেও সর্বাত্মক অবরোধের আহ্বান জানানো হয়।  বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘রোহিঙ্গারা যাতে স্বেচ্ছায় নিজ বসতভিটায় ফিরতে নিরাপদ বোধ করেন সে পরিবেশ তৈরী করার দায়িত্ব হচ্ছে সভ্য দুনিয়ার সকল মানুষের। ’ আরো উল্লেখ্য, কমিশনের উপরোক্ত দুই কর্মকর্তা সম্প্রতি দেশত্যাগে বাধ্য হওয়া রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেছেন।  এবং তারা বার্মাও সফর করেছেন।  

অপরদিকে জাতিসংঘ তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী,  সংখ্যালঘু মুসলমানদের নির্মূল করতে গণহত্যার অভিপ্রায় থেকেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের ধর্ষণ এবং যৌন নিপীড়ন করেছে।  পশ্চিমের রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে সেনা অভিযান নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে এমন উপসংহার টানা হয়েছে। 


keya