৩:৩২ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৮ মুহররম ১৪৪১




লক্ষীপুরে যৌতুকের দাবিতে কোরআনে হাফেজা গৃহবধূকে নির্যাতন

০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:১৪ পিএম | নকিব


সোহেল মাহমুদ মিলন, লক্ষীপুর প্রতিনিধি : লক্ষীপুর  সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের হাফেজ মো. আমিমুল এহসান খসরুর মেয়ে ফারিহা বিনতে এহসান একজন কোরআনে হাফেজা। 

প্রায় তিন বছর আগে  লক্ষীপুর  পৌর শহরের বাঞ্চানগর গ্রামের মরহুম ইসমাইল হোসেনের ছেলে মো. জোবায়ের হোসেনের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। 

তাদের সংসারে দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।  সম্প্রতি যৌতুককে কেন্দ্র করে সংসারটি ভেঙ্গে যায় বলে খবর পাওয়া গেছে। 

অভিযোগ রয়েছে, যৌতুকের টাকা না পেয়ে কোরআনে হাফেজা ওই গৃহবধূকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো তার স্বামী মো. জোবায়ের হোসেন।  গৃহবধূ দীর্ঘ দুই বছর অমানবিক এ নির্যাতন মুখবুজে সহ্য করেন।  তার মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজন পারিবারিকভাবে একাধিকবার চেষ্টা করেও স্বামীর নির্যাতন থেকে তাকে রক্ষা করতে পারেননি।  এক পর্যায়ে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নেন নির্যাতিত গৃহবধূ।  গত ৬ মাস আগে আইনি প্রক্রিয়ায় সংসারটি ভেঙ্গে যায়।  আদালতের মাধ্যমে ওই গৃহবধূ তার স্বামী মো. জোবায়ের হোসেনকে তালাক দেন। 

দুই শিশু সন্তানের ব্যয়ভার বহন ও দেনমোহর পরিশোধের জন্য চলতি বছরের ৪ঠা মার্চ মো. জোবায়ের হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়।  আদালতে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার কৌশল হিসেবে গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাইক্রো ও মোটরসাইকেলে করে ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই গৃহবধূকে তার বাবার বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় আসামী জোবায়ের।  কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।  ক্ষুব্ধ জোবায়ের ফিরে যাওয়ার সময় ওই গৃহবধূর কয়েকজন আত্মীয়কে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।  

আহতরা হলেন, গৃহবধূর মামা ইব্রাহিম (৪২) ও নানা মাওলানা আবদুল আখের (৫৫)।  এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে লক্ষীপুর  আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

ওই গৃহবধূ বলেন, বিয়ের ৫ মাস পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে আমার উপর নির্যাতন শুরু হয়।  প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন অজুহাতে আমার স্বামী আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো।  দীর্ঘ দুই বছর সবকিছু মুখবুজে সহ্য করেছি।  অসুস্থ্য শরীরেও নির্যাতন সইতে হয়েছে।  

গৃহবধূর বাবা হাফেজ মো. আমিমুল এহসান খসরু বলেন, বারবার চেষ্টা করেও আমার মেয়েকে তার স্বামীর নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পারছিলাম না।  পরে বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি।  এখন আইনের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে নানা অপচেষ্টা চালাচ্ছে মো. জোবায়ের। 

এদিকে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও অভিযুক্ত মো. জোবায়ের হোসেনের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। 


keya