২:১৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | | ২১ সফর ১৪৪১




কমিশন বাণিজ্যে ফেঁসে যেতে পারেন জাবি উপাচার্য

১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:২৭ এএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম:  এবার কমিশন বাণিজ্যে ফেঁসে যেতে পারেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম। 

এরইমধ্যে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পড়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। 

অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে ঘটনার সত্যতা মিললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। 

এদিকে, রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাবির অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির টাকা নিয়ে একটি অডিও রেকর্ড বা কথাবার্তার ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। 

ফোনালাপ ছাত্রলীগের পদত্যাগে বাধ্য সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে জাবি শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের সাদ্দাম হোসাইনের বলে দাবি করা হচ্ছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নামে টাকা লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, জাবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।  বিষয়টি গোপনভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগ খুবই গুরুতর, তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।  প্রয়োজনে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হতে পারে।  অভিযোগের সত্যতা মিললে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

গতকাল (শনিবার ১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে পদ ছাড়তে হয়েছে।  একই অভিযোগ উঠল তার বিরুদ্ধেও।  সম্প্রতি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিশন কেলেঙ্কারির ঘটনায় জাবি উপাচার্য দায় এড়াতে পারেন না।  একজন উপাচার্যের কাছে ছাত্রনেতারা কীভাবে কমিশন দাবি করার সাহস পান, ছাত্রলীগের সঙ্গে উপাচার্য কীভাবে বৈঠক করেন।  এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। 

গতকাল (শনিবার) জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ছাত্রলীগ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা গল্প ফেঁদেছে বলেন উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।  এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি এ ঘটনা তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও আচার্যকে অনুরোধ জানান।  বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে লেখা চিঠিতে ছাত্রলীগ মিথ্যা গল্প ছুড়েছে। 

শনিবার বেলা ১২টার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিকে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করে উপাচার্য বলেন, ছাত্রলীগ মিথ্যা গল্প ছুড়েছে।  আমি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলাম।  তদন্তে আমার কোনো সমস্যা নেই। 

তিনি বলেন, অর্থ লেনদেনের বিষয়টি সম্পূর্ণ বানোয়াট একটি গল্প।  টাকা পয়সা নিয়ে তাদের সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।  তারা তাদের মত করে কাজ করে।  তারা কার কাছে কমিশন পায় বা না পায় তা আমি জানি না।  এ বিষয়ে তারা (ছাত্রলীগের দুই নেতা) আমাকে ইঙ্গিত দিলে আমি বলেছি, তোমরা টাকা পয়সা নিয়ে কোনো আলাপ আমার সাথে করবে না।  তোমরা যা চাও তা তোমাদের মত কর। 

উপাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, তাদের (ছাত্রলীগ) মূল উদ্দেশ্য ছিল যে তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে কিছু কমিশন নেবে।  তারা এ বিষয়ে আমাকে ইঙ্গিত দেয়।  কিন্তু আমার কাছে এসে তারা হতাশ হয়েছে।  তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে খোলা চিঠি লিখেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

প্রধানমন্ত্রী বরাবর ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী খোলা চিঠি দেন। 

আপনাকে নিয়ে ছাত্রলীগ কেন মিথ্যা কথা বলবে—এ প্রশ্নের জবাবে জাবি উপাচার্য বলেন, আমি দুর্ভাগ্যক্রমে শেষ তীর ছিলাম, এটা হয়তো আমার দিক থেকেই গেল।  তার পটভূমি পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পটভূমিতে যেন তার প্রিয় ছাত্রলীগের পচন না ধরে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তদন্ত শুরু করেছিলেন।  কিন্তু শেষমেশ হয়তো আমারটা দিয়ে শেষ হয়ে গেল।  তারা (ছাত্রলীগ) এ পটভূমি করেছে এটা থেকে বাঁচতে।  তাই ক্যাম্পাসের আন্দোলনের সঙ্গে বিষয়টি জড়িয়ে দিয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আন্দোলনের মাধ্যমে কিছু মানুষ আমাকে দুর্নীতিবাজ বানাতে চাচ্ছে।  তাই আমি চাই দুর্নীতি যে-ই করুক, তার তদন্ত হোক।  যে বা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান নষ্ট করেছে, তার তদন্ত হোক।  হয়তো আমার দুর্নীতি বের করতে গিয়ে অন্য কিছু বেরিয়ে আসবে। 

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম ধাপের ৪৫০ কোটি টাকার মধ্যে ২ কোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের মধ্যে ভাগাভাগি করে দেয়া হয়—এমন খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। 

এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের এ অভিযোগ তদন্তসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় ক্যাম্পাসে।  তারইপরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন উপাচার্য।  গত বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তিনি।  আলোচনায় আন্দোলনকারীদের দুই দফা দাবি মেনে নিলেও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের বিষয়ে আগামী বুধবার পর্যন্ত সময় নেন।