১:৩৮ পিএম, ২১ অক্টোবর ২০১৯, সোমবার | | ২১ সফর ১৪৪১




ইবি ছাত্রলীগ সম্পাদকের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ, ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৮ এএম | নকিব


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ইবি প্রতিনিধি : ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে বিশ^বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে একাংশের নেতাকর্মীরা। 

কমিটিতে আসতে অর্থ লেনদেন, একাধিক নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার বিক্ষোভ মিছিল করে নেতাকর্মীরা। 

মিছিল শেষে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে দেখা করে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় তারা। 

এরমধ্যে বহিষ্কার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুসিয়ারিও দেয় বিক্ষোভকারীরা। 

কমিটিতে আসতে ৪০ লাখ টাকা খরচ করা ও নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অডিও ফাঁস হওয়ার পর থেকেই কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু।  এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় টেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তারা।  মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে আবারো টেন্টে এসে শেষ হয়। 

এসময় ছাত্রলীগের সাবেক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন, সহ-সম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত, উপ-বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। 

মিছিল শেষে রাকিবের বিচারের দাবিতে উপাচার্যের দায়িত্বে থাকা উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমানের সাথে দেখা করেন নেতা-কর্মীরা।  এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা।  

নেতাকর্মীরা সম্পাদক রাকিবকে বিশ^বিদ্যালয় থেকে দ্রæত বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বলেন, রাকিব একের পর এক অনৈতিক কর্মকান্ড করছে।  কিন্তু তার বিরুদ্ধে প্রশাসন কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি।  রাকিবের সাথে সভাপতি পলাশও এসব অনৈতিক কর্মকান্ডে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  রাকিব তার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ^বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।  তাদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির নিশ্চিত করে বিশ^বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার দাবী করেন জানাই।  আগামীকালকের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন থেকে কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা না  নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে। 

এবিষয়ে বিশ^বিদ্যালেয়র উপ-উপাচার্য ড. শাহিনুর রহমান বলেন, ‘ বিশ^বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন সকল ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।  গুরুত্বপূর্ণ কাজে উপাচার্য মহোদয় বাইরে আছেন।  তিনি ফিরলে আমরা এ বিষয়টি নিয়ে বসব।  বিশ^বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে এমন কোন কার্যক্রমের স্থান বিশ^বিদ্যালয়ে নেই। ’

প্রসঙ্গত, ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কমিটিতে আসা, আঞ্চলিক নেতা বাণিজ্যে জড়িত থাকা ও বিশ^দ্যিারয়ের ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্যে তার জড়িত থাকার কথোপকথন ভাইরাল হয়।  এ অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে আসছে নেতা-কর্মীরা।  একইসাথে ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনৈতিক অভিযোগ ওঠায় ইতোমধ্যে তাদেরকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে একাংশের নেতাকর্মীরা।