৮:০৭ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার | | ২২ সফর ১৪৪১




ইবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৩৯ পিএম | নকিব


মুনজুরুল ইসলাম নাহিদ, ইবি প্রতিনিধি :ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করেছে শাখাা কর্মী-সমর্থকরা। 

টাকার বিনিময়ে কমিটিতে পদ পাওয়া এবং কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনৈতিক অভিযোগ এনে চলমান বিক্ষোভের অংশ হিসেবে বুধবার এ কর্মসূচী পালন করে নেতাকর্মীরা। 

কমিটিতে আসতে ৪০ লাখ টাকা খরচ করা ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অডিও ফাঁস হওয়ার পর থেকেই কমিটিতে পদ না পাওয়া নেতাকর্মীরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু। 

এরই অংশ হিসেবে ক্যাম্পাসের ডায়না চত্বরের সামনে বেলা ১১টা থেকে দিনভর এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচী পালন করে পদঞ্চিত নেতাকর্মীরা। 

এসময় তারা সাদা কাপড়ে, ‘৪০ লাখের কমিটি-মানি না, পলাশ-রাকিব কালসাপ-ছাত্রলীগের অভিসাপ, অবৈধ ও অযোগ্য কমিটি মানি না, প্রশাসনের পকেট কমিটি-মানি না’ সহ বিভিন্ন শ্লোগান লিখে স্মাক্ষর করেন সেইসাথে এই কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি প্রদানের দাবি জানায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে।  

এর আগে দলীয় টেন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতাকর্মীলা।  মিছিলটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটক হয়ে এসে ডায়না চত্বরের পাশে  গণস্বাক্ষর কর্মসূচীতে মিলিত হয়।  এসময় ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠিক সম্পাদক শিশির ইসলাম বাবু, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন, উপ বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের রহমান, আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক রিজভী আহমেদ পাপন, উপ সম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিকি আরাফাতসহ ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। 

বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারা প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রবেশ করে উপাচার্যের সাথে কথা বলেন।  এসময় তারা শাখা ছাত্রলীগ সম্পাদক রাকিবকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বানিজ্যের সাথে জড়িত দাবি করে তাকে বহিষ্কারের দাবি জানায় তারা।  এছাড়া শনিবারের মধ্যে বহিষ্কার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেয় বিক্ষোভকারীরা।   

এবিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা ইবির বিষয়টি জানি এবং কথোপকথোনগুলোও শুনেছি।  আমরা নেত্রীর সাথে দেখা করবো।  সংগঠনের ব্যপারে তার দিকনির্দেশনা নিবো।  ইবিসহ যেসকল ইউনিটে এমন অভিযোগ আছে তাদের ব্যপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।  প্রমান পেলে কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে কেন্দ্র। ’

প্রসঙ্গত, ৪০ লাখ টাকা দিয়ে কমিটিতে আসা, আঞ্চলিক নেতা বাণিজ্যে জড়িত থাকা ও বিশ^দ্যিারয়ের ড্রাইভার নিয়োগ বাণিজ্যে তার জড়িত থাকার কথোপকথন ভাইরাল হয়।  এ অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে আসছে নেতা-কর্মীরা।  একইসাথে ইবি ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনৈতিক অভিযোগ ওঠায় ইতোমধ্যে তাদেরকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে একাংশের নেতাকর্মীরা।