৪:৩২ পিএম, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার | | ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




শিক্ষার্থীদের মারধর ও দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ

মঠবাড়িয়ার প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, ক্লাস বর্জন

১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৩৫ এএম | নকিব


দেলোয়ার হোসাইন পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঐতিহ্যবাহী কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্ব্যবহার, অনৈতিকভাবে শিক্ষার্থীদের মারধরসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তার অপসারন দাবি করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। 

সোমবার সকালে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় পাচ শতাধিক শিক্ষার্থী উপজেলা পরিষদের সামনের সড়ক অবরোধ করে রাখে।  পরে পুলিশ বিক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে উপজেলা পরিষদ চত্ত¦রে অবস্থান নিয়ে এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বিক্ষুব্দ শিক্ষার্থীরা। 

এসময় তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান যোগদানের পর থেকে স্বেচারিতা শুর করেন।  তিনি শিক্ষকদেও সাথে অকথ্য ভাষায় গালি ও শিক্ষার্থীদের অনৈতিকভাবে মারধর করেন। 

সম্প্রতি ৮ম শেণী পড়–য়া এক শিক্ষার্থীকে তুচ্ছ কারনে স্কুল ক্যাম্পাসের বাইর মারধর করেন।  এমনকি ওই শিক্ষার্থীকে লাথি মারেন।  এছাড়া তিনি সব অভিভাবকদের সাথে অ-সৌজন্যমূলক আচরণ করেন। 

ভূক্তভোগি ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুন্না অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার অত্যাচার মেনে নিতে বাধ্য করেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, ২০১৮ সালের ৩০ জুন ওই বিদ্যালয়ের ২৬জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্ব্যবহার, সমন্বয়হীনতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিকার চেয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন।  পরে এ বিষয়ে অদ্যবধি কোন ব্যবস্থা নেয়নি কমিটি।  উপরন্তু প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়ায় শিক্ষকরা সেই থেকে নানা হয়রাণি ও দুর্ব্যাবহারের শিকার হয়ে আসছেন। 

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মারধরের তুচ্ছ ঘটনাকে পূজি করে একটি মহল কোমলমতি শিক্ষাথীদের উস্কে দিয়ে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করছে। 

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জি এম সরফরাজ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাৎক্ষণিক উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অবহিত করা হয়েছে।  এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

উল্লেখ্য, মঠবাড়িয়া উপজেলা সদরের কে এম লতীফ ইনস্টিটিউশন ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।  এখানে ১ হাজার ৬০০ ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত লেখা পড়া করে আসছে।  বিদ্যালয়টি উপকূলে মানসম্মত শিক্ষা উন্নয়ন ও ফলাফলে সাফল্যজনক  একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত।