৮:১২ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




স্কুল থেকেই ট্রাফিক আইন জানতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৩৯ পিএম | নকিব


এসএনএন২৪.কম: রাজধানীরসহ আশপাশের জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। 

শেখ হাসিনা বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা চালকদের সচেতন থাকতে হবে।  সেই সাথে পথচারীদেরও সচেতন হতে হবে।  আর স্কুল থেকেই ট্রাফিক আাইন সম্পর্কে জ্ঞানদানের ব্যবস্থা করতে হবে শিক্ষার্থীদের। 

তিনি আরও বলেন, ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়েছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার এ প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, এভাবেই আমরা ৯৩ ভাগ মানুষকে সেটা দিতে পেরেছি।  এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা মানুষের সেবাদান করে যাচ্ছি।  কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবাদান ছাড়াও বিশেষায়িত বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে।  আজকে উন্নয়নের কাজগুলো গতিশীলতা পেয়েছে, মানষের উন্নয়ন বেগবান হচ্ছে।  তাদের জীবন মান উন্নয়ন হচ্ছে, দারিদ্র্যের হার ২১ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি, শিক্ষার হার ৭২ ভাগ বৃদ্ধি করতে পেরেছি। 

এ সময় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চার লেন বিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভারসহ বেশকিছু প্রকল্প ভিডিও কনফারেন্সে উদ্বোধন করেন তিনি।  এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব তৈরি করা হচ্ছে তবে এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনাদের।    

ময়মনসিংহ- গফরগাঁও-টোক সড়কে বানার নদীর উপর সেতু, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় ৪ লেনের ফ্লাইওভার, মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে ১৩টি সেতু, পটিয়া বাইপাস সড়ক, সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

এসব উন্নয়ন কাজের মধ্যে ৩৩৮.৮২ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় ৪ লেনের ফ্লাইওভার প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়। 

এ প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বরাবর ১২৩৯ মিটার দৈর্ঘের একটি ও ঢাকা বাইপাস মহাসড়ক বরাবর ৬১১ মিটার ৪ লেনের দুই ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং ঢাকা সিলেট মহাসড়ক বরাবর ২.১৩ কিলোমিটার এবং ঢাকা বাইপাস সড়ক বরাবর ১.০৮৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্ত করা হয়। 

ময়মনসিংহ- গফরগাঁও-টোক সড়কে বানার নদীর উপর ২৮২.৫৫৮ মিটার দৈর্ঘের সেতুটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় ৩২৯০.৮০ লাখ টাকা (৩২ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার টাকা )। 

ভোমরা স্থলবন্দর সংযোগসহ সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটি নির্মাণে ব্যয় হয় ১৮৩.৫১ কোটি টাকা।  ৭.৩ মিটার প্রস্থের ২৩.৮৫ কিলোমিটার মহাসড়কটিতে ৩টি ব্রিজ, ৫০ টি কালভার্টও নির্মাণ করা হয় এ প্রকল্পে। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের ইন্দ্রপুল থেকে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ প্রকল্প (পটিয়া বাইপাস সড়ক) বাস্তবায়নে খরচ হয় ৮৭.৭০ কোটি টাকা। 

এছাড়া মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগাধীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পরিবর্তে ১৩ স্থায়ী কংক্রিট সেতু নির্মাণ করা হয়।  এসব সেতুরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। 

পরে প্রধানমন্ত্রী এসব এলাকার উপকারভোগীসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মতবিনিময় করেন।  বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব উন্নয়ন কাজ রক্ষণাবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা দেয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান। 

নিরাপদ সড়ক প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি চালক, পথচারী থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষ মোটেও সচেতন নয়।  চালক থেকে শুরু করে সবার সচেতন হওয়া একান্ত প্রয়োজন। 

সচেতনতা সৃষ্টির ক্ষেত্রে স্কুল থেকেই ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

গণভবনে আরও বক্তব্য দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। 

উদ্বোধন হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নিয়ে ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম।