৮:১০ এএম, ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার | | ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




চকরিয়ার ৫১১২ একর চিংড়ি জমি অনুক‚লে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

২১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২১ এএম | নকিব


শাহজালাল শাহেদ, চকরিয়া: চকরিয়ার ৫১১২ একর চিংড়ি জমি অনুক‚লে পেতে এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ১০ হাজার ভ‚মিহীন পরিবার। 

উপজেলার চিংড়িজোন খ্যাত রামপুর মৌজার ৫১১২ একর চিংড়ি জমি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন ধরে জবর দখল করে রেখেছে একদল লাঠিয়াল বাহিনী। 

রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেড (রেজিঃ নং ২৩৯৯/৭২(চট্ট)’র আওতাভুক্ত ১০ হাজার ভ‚মিহীন পরিবার ৫০ বছর ধরে আইনী লড়াই করেও জমি তাদের অনুক‚লে বুঝে না পাওয়ায় এখন নিঃস্ব।  এসব নিঃস্ব ভ‚মিহীন অনেক পরিবার খোলা আকাশের নীচে মানবেতরভাবে জীবনযাপন করছে।  এ ব্যাপারে সমিতির সভাপতি আবু জাফর প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও পাঠিয়েছেন। 

ভ‚মিহীনদের লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, জবর দখলকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কক্সবাজার জেলা ও চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনকে উচ্চতর আদালতের নির্দেশ অনুয়ায়ী ভ‚মিহীনদের মাঝে তাদের প্রাপ্য জমি দখল বুঝিয়ে দেয়ার জন্য বারংবার নির্দেশ দেয়ার পরও তা কার্যকর হচ্ছেনা।  সমিতির সভাপতি আবু জাফর স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এক লিখিত অভিযোগে এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ভ‚মিহীন পরিবারদের পক্ষ থেকে সভাপতি আবু জাফর আরো জানান, তাদের পক্ষে সর্বশেষ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং ১০৯৬২/১২, ৬০৪৭/১৮ এবং কনট্রেম্প পিটিশন নাম্বার ২৬১/১৭ এর আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেয়া হয়। 

পরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (রাজস্ব শাখা) থেকে স্বারক নং ০৫.২০.২২০০.১২৮.২৭.০০৬.২০১৯ তারিখ ০২-০৯-২০১৯ মূলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ১৫ দিনের মধ্যে মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন এবং নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  উল্লেখ্য যে, চকরিয়ার রামপুর মৌজার আর.এস ১০৮৩, ১০৮৪, ১০৮৬, ১১১০, ১১১১, ১১১২ অধীনে সর্বমোট ৫১১২ একর চিংড়ি জমি ১০ হাজার ভ‚মিহীন সদস্যদের নামে সি.এস ও এম.আর.আর খতিয়ান রেকর্ডভ‚ক্ত রয়েছে।  পরবর্তীতে ১৯০৩ সালে চকরিয়া সুন্দরবন করার উদ্দেশ্যে বিনা নোটিশে অধিগ্রহণ করে বন বিভাগের নিকট এ জমিসহ অন্যান্য জমি হস্তান্তর করা হয়।  কিন্তু বন বিভাগ চকরিয়া সুন্দরবন করতে ব্যর্থ হয়ে পরবর্তীতে ওই জমিগুলো মৎস্য বিভাগকে উন্নত মৎস্য খামার করার লক্ষ্যে ৫ বছর চুক্তি ভিত্তিতে হস্তান্তর করেন। 

কিন্তু মৎস্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মৎস্য খামার না করে বিভিন্ন ধনীদের নামে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে মৎস্যঘের ইজারা দেয়।  যা সরকারের সংবিধান বিধি মোতাবেক অপরাধ যোগ্য।  পরবর্তীতে ভ‚মিহীনদের পক্ষ থেকে নি¤œ আদালত থেকে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোট বিভাগ পর্যন্ত সর্বআদালতে তাদের পক্ষে রায় হয়।  ৫০ বছর ধরে আইনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে গিয়ে ভ‚মিহীনরা এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।  অনেক ভ‚মিহীন পরিবার খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবন যাপন করছে।  কিন্তু ভ‚মিহীনদের পক্ষে একের পর এক রায় হলেও লাঠিয়াল বাহিনীর জবর দখল থেকে ভ‚মিহীনরা তাদের জমি এখনো পুনরুদ্ধার করতে পারেনি। 

ভ‚মিহীন পরিবারদের পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব জমিগুলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ ৪৬৮ জন ভ‚মিদস্যুদের দখলে রয়েছে।  তৎমধ্যে ড. ইউনুসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের নামে রয়েছে প্রায় ৩৮০ একর, জনৈক বাহার উদ্দিনের নামে ৯০ একর, সাহারবিলের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল হাকিমের নামে রয়েছে ২২০ একর, তার মেয়ের জামাতা দলিল মিয়ার নামে প্রায় ৫২০ একর, ছলিম উল্লাহর নামে প্রায় ২০০একরসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন ব্যক্তিরা মৎস্য বিভাগের সাথে অবৈধ যোগসাজস করে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এসব জমি ভোগ দখলে রেখেছে।  এ অভিযোগ রামপুর সমবায় কৃষি ও উপনিবেশ সমিতি লিমিটেডের সভ্যদের।  এ ব্যাপারে তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।