৭:৩১ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘুষ ছাড়া মিলেনা সার্টিফিকেট!

৩১ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:১২ পিএম | নকিব


আলফাজ সরকার আকাশ,শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: ২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও কাঙ্খিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ জনসাধারণের। 

হাসপাতালের কলেবর বৃদ্ধি পেলেও জনবল সংকট ও অসাদু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে উপজেলার প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রটি সেবার বদলে ঘুষ বানিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।  

শ্রীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিলেও ঘুষ ছাড়া সনদ না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।  চিকিৎসা শেষে চারমাস পর ২০ হাজার টাকা ঘুষ দিলেও প্রকৃত জখমের চিকিৎসা সনদ না দিয়ে সাধারণ জখমের সনদ নিতে হয়েছে ভুক্তভোগীদের। 

এসব বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালকের কাছে কয়েকটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।  অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার বরমী ইউনিয়নের গাড়ারন গ্রামের আইয়ুব আলীর স্ত্রী কামরুন্নাহার সন্ত্রাসীদের দ্বারা গুরুতর জখম অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।  এ ব্যাপারে আইয়ুব আলীর পুত্র বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিলে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা হাসপাতালে জখমের সনদের জন্য আবেদন করলে হাসপাতালের অফিস সহকারী শাহনাজ পারভীন ভুক্তভোগী শরীফের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করে।  টাকা দিতে না পারায় সার্টিফিকেট দেয়নি।  প্রায় ৪ মাস পর ২০ হাজার টাকা দিলে জখম অনুসারে সনদ না দিয়ে সাধারন জখমের সনদ প্রদান করে।  

এদিকে পৌর এলাকার ভাংনাহাটি গ্রামের হাবিবুর রহমানের পুত্র সাহিদ আহম্মেদের সাথে তার ফুফু জহুরা খাতুনের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।  জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে মারপিটের ঘটনা না ঘটলেও দাঁত ভাংগাসহ নানা জখমের অভিযোগ করে অফিস সহকারী শাহনাজ পারভীনকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে জখমী সনদ বাগিয়ে নেয়।  

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, টাকা না দিলে জখমী সনদ পাওয়া যায় না।  দিনের পর দিন ঘুরতে হয়।  আর টাকা দিলে জখম না হলেও সার্টিফিকেট বানানো যায় শাহনাজ পারভীনকে দিয়ে।  অফিস সহকারী শাহনাজ পারভীন হাসপাতালে কর্মরত জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল, সুলতানা, সীমা, হালিমসহ আরও কতিপয় অসাদু কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যোগসাজসে দিনের পর দিন এভাবেই ঘুষ বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন।  

এসব ব্যাপারে অফিস সহকারী শাহনাজ পারভীনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং তার ক্ষমতার দাপট দেখাবে বলে জানান। 

এসব ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মইনুল হক খান জানান, তিনি হাসপাতালে যোগদানের পর থেকে অর্থের বিনিময়ে সার্টিফিকেট দেয়া হয়নি এবং স্বচ্ছতা যাছাই করেই সনদ দেয়া হয়।  যেহেতু এসব ব্যাপারে মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে উনি তদন্ত কমিটি গঠন করে নিশ্চয় ব্যবস্থা নিবেন।  

গাজীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা: সৈয়দ খায়রুজ্জামান জানান, বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না।  অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয় হবে।