৭:৪৮ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | | ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১




শ্রীপুরে ৫০ ইঞ্চি দম্পতির জীবন সংগ্রাম যেন অনুপ্রেরণা

০৩ নভেম্বর ২০১৯, ০১:২৯ পিএম | নকিব


আলফাজ সরকার আকাশ,শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ হাটের দোকানে দোকানে বা কোন তিন রাস্তার মোড়ে হাতে বাটি নিয়ে ভিক্ষা করা অথবা মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে চাল কিংবা দু-এক টাকা উঠিয়ে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা- গল্পটা এমনই হওয়ার কথা গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সোনাকর গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী ৫০ ইঞ্চি উচ্চতার দম্পতি সাইফুল  (৩২) ও রিমা খাতুনের । 

কিন্তু ওই শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ও তার স্ত্রী রিমা জীবন নামের গল্পটায় ভিন্নতা এনে দিয়েছে।  যা বর্তমান সমাজের হাজারো প্রতিবন্ধীকে অনুপ্রেরণা  যোগাবে জানায় সমাজ বিশ্লেষকরা। 

৩ নভেম্বর রবিবার সকালে তার এলাকায় গিয়ে জানা যায়,  ৫০ ইঞ্চি শারীরিক প্রতিবন্ধী সাইফুল ইসলাম শ্রীপুরে একটি দোকানে দিনমজুর হিসেবে  জীবিকা নির্বাহ করেন।  এদিকে তার স্ত্রী ৫০ ইঞ্চি রিমা খাতুন নিজ গৃহে হাঁসমুরগি পালনের মাধ্যমে জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।  তাদের কর্মময় জীবনে সমাজের সকল মানুষকে সর্বদাই অনুপ্রাণিত করে বলে জানায় স্থানীয়রা। 

সাইফুল ইসলাম (৩২) উপজেলার বরমী ইউনিয়ন সোনাকর গ্রামের আঃ হালিমের ছেলে।  রিমা খাতুন একই ইউনিয়নের নিহালিয়া গ্রামের মোস্তফা মিয়ার মেয়ে। 

৪ ভাইয়ের মধ্যে সাইফুল ইসলাম সকলের ছোট।  তিনি স্থানীয় গাড়ারন খলিলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা হতে ২০১৩ সালে বিএ সমমান ডিগ্রি অর্জন করেন। 

সাইফুল ইসলামের পিতা আঃ হালিম উদ্দিন জানান, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট ছিলো তার।  অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য গেলেও শারীরিকভাবে বেঁটে বলে নিয়োগ দেয়নি।  পরে ২০১৪ সালে সাইফুল ইসলামের সাথে রিমা খাতুনের বিয়ে দেয়া হয়। এখনো তাদের সন্তান হয়না।  আমি এ ছেলের জন্যই চিন্তিত।  আল্লাহ তাকে একটা ব্যবস্থা করে দিলে শেষ জীবনে শান্তি পেতাম। 

শ্রীপুর বাজারের ব্যবসায়ী শরীফ মিয়া জানান,সে প্রতিবন্ধী হয়েও জীবিকার জন্য কাজ করে তা আমাদের শিখার বিষয়।  কেননা অনেকে সুস্থ্য শরীর নিয়েও ভিক্ষা বৃত্তি করে থাকে। 

সাইফুল ইসলামের দোকানের মালিক মাজিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে কাজের সক্ষম অনেক ব্যক্তিই ভিক্ষুক সেজে মানুষের সাথে প্রতারনা করছে।  অথচ সাইফুল ইসলাম  প্রতিবন্ধী হয়েও নিজে কিছু একটা করে জীবিকা নির্বাহ করতে আগ্রহী।  যা সমাজের জন্য  শিক্ষনীয় বিষয়।  

৫০ ইঞ্চি সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি চাকরির জন্য কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ঘুরলাম।  আমার শারীরিক অবস্থা দেখে কেউ নিতে চায়না।  আমি জানি,ভিক্ষা করা মহাপাপ।  তাই দিনমজুর দিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করি।  আমার স্ত্রী বাড়ীতে হাঁস মুরগী পালন করে।  কিছু সরকারি সহায়তা পেলে আমাদের সংসার জীবনের  আরো ভালো হতো। 

বরমী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব শামসুল হক বাদল সরকার জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী ৫০ ইঞ্চি দম্পতির কেউ পরিষদে আসেনি।  স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে যথাযথ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।  

শ্রীপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুনজুরুল ইসলাম জানান, সাইফুল ইসলাম ও রিমা খাতুন দম্পতি শারীরিক প্রতিবন্ধী ও বেটে প্রকৃতির হওয়ায় স্বাভাবিক  কাজ করতে অক্ষম।  তাই তাদের জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।  সাইফুল ইসলাম যদি নিজস্ব ব্যবসার উদ্যোগ নেয় তাহলে পরবর্তীতে তার পুঁজির জন্য প্রতিবন্ধী ঋণের ব্যবস্থা করবো। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামছুল আরেফীন জানান,শারীরিক প্রতিবন্ধী ৫০ ইঞ্চি দম্পতির কর্মময় জীবনের জন্য শুভ কামনা করছি।  তাদেরকে সাবলম্বী করে করে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।